‘I have a dream’- মার্টিন লুথার থেকে জর্জ ফ্লয়েড

প্রকাশিত: ৯:৪৬ অপরাহ্ণ, জুন ১৭, ২০২০
মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র। কৃষ্ণাঙ্গদের অধিকার আদায় আন্দোলনের অবিস্মরণীয় নেতা।

লিখেছেনঃ সুমাইয়া খাতুন।

 

‘I have a dream’, আমার একটি স্বপ্ন আছে- বিখ্যাত এই বক্তৃতাটি প্রদান করেছিলেন মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র ১৯৬৩ সালের ২৮ আগস্ট।

 

লুথারের কিছু সুন্দর স্বপ্ন ছিলো। তিনি বলেছিলেন, আমার একটা স্বপ্ন আছে যে আমার চার সন্তান এমন একটি দেশে বসবাস করবে, যেখানে তাদের চামড়ার রং দিয়ে বিচার করা হবে না। বরং বিচার করা হবে তাদের চারিত্রিক উপাদানের দ্বারা। লুথার আরও বলেছিলেন- এমন একটা সময় তিনি দেখতে চান যেখানে বলা যাবে ,প্রত্যেক মানুষকে সমান করে সৃষ্টি করা হয়েছে। লুথারের ভাষণের প্রায় বর্ষপূর্তি হতে চললো। আজও আমেরিকার মত অত্যাধুনিক দেশে ক্ষেত্রবিশেষে মানুষকে তার চামড়ার রঙের উপর বিচার করা হয়। যার খুব সাম্প্রতিক উদাহরণ জর্জ ফ্লয়েড।

 

গত ২৫শে মে’র ঘটনা। আমেরিকার মিনেসোটায় বিশ ডলারের জাল নোট দিয়ে সিগারেট কেনার অভিযোগে দোকানদারের সাথে তর্কাতর্কি হয় জর্জ ফ্লয়েডের। দোকানদার নাইন নাইন ওয়ান নাম্বারে ফোন দিলে পুলিশ আসে এবং অভিযোগের সত্যতা ছাড়াই শ্বেতাঙ্গ পুলিশ তাকে মাটিতে ফেলে তার ঘাড়ে পাড়া দিয়ে শ্বাস রোধ করে রাখে। জর্জ বারবার আকুতি জানাচ্ছিলো যে, আমি মারা যাচ্ছি, আমি শ্বাস নিতে পারছি না। পুলিশ সদস্য তার কোনো কথাই কানে নেয় নি। টানা পাঁচ মিনিট এ অবস্থায় থাকার পর নিথর হয়ে পড়ে জর্জের দেহ।পড়ে থাকে জর্জ ফ্লয়েডের ৪৬ বছর বয়সী নিথর দেহখানি। তার নড়াচড়া কিংবা শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরও তাঁর ঘাড় থেকে সরে যান নি সেই পুলিশ সদস্য। প্রত্যক্ষদর্শী ও সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ ধরা পড়ে এসব কিছু। ভিডিও ভাইরাল হয়ে গেলে জনতার রোষানলে পড়ে পুলিশ, প্রশাসন।

 

 

করোনা ভাইরাস আক্রান্ত হয়ে লাখ খানেক মানুষ মৃত্যুর পরও জনগণ রাস্তায় নেমে পড়ে, ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার,নো জাস্টিস নো পিস স্লোগানে মুখরিত হয়ে পড়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে। পিপার স্প্রে ,টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করেও জনতাকে থামানো যায় নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নামানো হয়েছে ন্যাশনাল গার্ডের সদস্য। এই ঘটনায় চারজন পুলিশ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়।

 

ফ্লয়েডের বোন বলেন, দোষীদের বহিষ্কারের খবরে খুশি হয়েছি। আমার ভাইয়ের শেষ মুহূর্তের ভিডিও নিজের চোখে দেখেছি। নিছক সন্দেহের বশে কাউকে এভাবে মেরে ফেলা যায়! ২০১৪ সালেও একজন কৃষ্ণাঙ্গ নাগরিক এরিক গার্ডনারের মৃত্যু হয় শেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তার হাতে। ওয়াশিংটন পোস্টের মতে, গত ২০১৯ সালে পুলিশের হাতে মৃত্যু হয় এক হাজারেরও বেশি মার্কিনীর । যাদের অধিকাংশই কৃষ্ণাঙ্গ। করোনায় মৃত্যুর হার, স্বাস্থ্য সেবা, অর্থনৈতিক অবস্থা সব কিছু পর্যবেক্ষণ করলেই উপলব্ধি করা যায় কালো চামড়ার বৈষম্যের দিকটুকু।

 

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের একমাত্র কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেন, ভয়াবহ বৈষম্যের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের প্রকাশ এই চলমান আন্দোলন।এই আন্দোলনকে নতুন দিনের সূচনা বলেও আখ্যা দেন মার্কিন এই প্রেসিডেন্ট। 

লেখকঃ শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।