রহস্যময় ইনকা সভ্যতা (দ্বিতীয় ও শেষ পর্ব)

আমজাদ হোসাইন

প্রকাশিত: ৯:০৪ অপরাহ্ণ, জুন ১২, ২০২০
ছবিঃ ইন্টারনেট।

ইনকা শাসনব্যবস্থা

কেচুয়া জাতির লোকেরা মূলত সূর্যের উপাসক ছিলো এবং তাঁদের নেতাকে সূর্যপুত্র ভাবতো। সূর্য দেবতার উপাসনা করতো আর শাসকদের তার সন্তান হিসেবে সম্মান করতো ৷ সম্ভবত ইনকা শাসকরা নিজেদেরকে এইভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছিলো। আর সেই সাথে যোগ দিয়েছিলো ইনকা ধর্মের পুরোহিতরা। সূর্য দেবতার নামানুসারে সম্রাট উপাধি পেয়েছিলো ইনকা। সম্রাট বিবাহ করতেন আপন বোনকে। তবে রাজ্যের সুন্দরী নারী উপহার পেলে, উপপত্নী হিসেবে তিনি গ্রহণ করতেন। এই কারণে প্রত্যেক সম্রাটের একটি প্রধান স্ত্রী থাকতো এবং এক বা একাধিক উপপত্নী থাকতো।

 

সাধারণত সম্রাটের বড় ছেলে পরবর্তী সম্রাট নির্বাচিত হতেন। ইনকার শাসককুলের প্রধান ছিলেন সম্রাট। এরপরের ক্ষমতাধর ছিলেন অভিজাত শ্রেণি, ইনকার পুরোহিতকুল এবং সেনাপ্রধানরা। রাজধানীতে সম্রাটের ক্ষমতা যতোটা ছিলো, রাজধানী থেকে দূরের এলাকাগুলোতে তটটা ছিলো না। দূরবর্তী অঞ্চল শাসন করতেন অভিজাত শ্রেণি, ইনকার পুরোহিতকুল এবং সেনাপ্রধানরাই। পুরো সাম্রাজ্য কতকগুলো প্রদেশ এবং বিভাগে বিভক্ত ছিলো। প্রাদেশিক শাসক হিসেবে সর্বোচ্চ পদে থাকতেন সামরিক বাহিনীর প্রাদেশিক অধিকর্তা এবং প্রাদেশিক পুরোহিত প্রধানরা। এদেরকে বিশেষভাবে সহায়তা করতেন অভিজাতশ্রেণির পরিবারগুলো। এরা অর্থ-সম্পদ দিয়ে পুরোহিতকুল এবং সেনাপ্রধানদের সন্তুষ্ট রাখতেন। পুরোহিতকুল এবং সেনাপ্রধানরাও অভিজাতশ্রেণিকে নানাভাবে সমর্থন করতেন। এভাবেই চলতো ইনকাদের শাসনব্যবস্থা ৷

 

ইনকাদের সমাজব্যবস্থা ও অর্থনীতি

ইনকারা অত্যন্ত সামাজিক জাতি ছিলো। এই কারণে এরা সামাজিক রীতিনীতিকে অত্যন্ত প্রাধান্য দিতো। রাজা নিজের বোনকে বিবাহ করলেও, সাধারণ ইনকাদের ভিতরে এই জাতীয় কোনো বিধি ছিলো না। এরা আপন বোন ছাড়াও অন্য যে কোনো কন্যাকে বিবাহ করতে পারতো। এক্ষেত্রে ইনকা ছেলেদেরকে ২০ বছর বয়সের আগেই কন্যা পছন্দ করতে হতো। বয়স ২০ বছর হওয়ার পরও কোনো ছেলে কনে খুঁজে না পেলে, অভিভাবকরা কনে খুঁজে দিতো। অনেক সময় কোনো কোনো অভিভাবক তার পুত্র সন্তানের জন্য আগে থেকেই কন্যা পছন্দ করে রাখতো। কন্যার অভিভাবকরা তাতে রাজি হলে, ওই কন্যা বাগদত্তা হিসেবে অন্য কারো সাথে বিবাহ করতে পারতো না। বিবাহের দিন বর-কনে পরস্পরের হাত ধরে চন্দন বিনিময় করতো। এরপর বিবাহ উপলক্ষে সামাজিক ভোজ হতো। কিন্তু রাজ্যের সুন্দরী মেয়েদের অনেক সময় রাজার উপপত্নী করার জন্য পাঠানো হতো। এ বিষয়ে স্থানীয় পুরোহিত এবং সেনাশাসকদের বিশেষ ভূমিকা থাকতো।

 

রাজ্য পরিচালনার জন্য কর ব্যবস্থা চালু ছিলো ৷ আর এদের কর ব্যবস্থা ছিলো অত্যন্ত কঠোর। সকল ধরণের মানুষের কাজের প্রকৃতি অনুসারে কর পরিশোধ করতে হতো। কোনো ব্যক্তি কর পরিশোধে অক্ষম হলে, রাষ্ট্রীয় কাজ করে কর পরিশোধ করতে হতো। অধিকাংশ পুরুষ সৈন্য বিভাগে, খনিতে বা কৃষিখামারে কাজ করতো। মেয়েদের আর্থিক কর দিতে হতো না তবে নির্দিষ্ট পরিমাণ কাপড় তৈরি করে দিতে হতো, এটাই ছিল তাদের কর ৷

 

ইনকাদের খাদ্যাভ্যাস

ইনকাদের ইতিহাস থেকে যেটুকু জানা যায়, তাদের আদিপুরুষরা শিকারী ছিলো। পরে এরা ধীরে ধীরে কৃষিজীবী হয়ে পড়ে। এদের প্রধান খাদ্য ছিলো ভুট্টা ও আলু। পাহাড়ের ঢালু জায়গা, নিম্নাঞ্চল এবং উপত্যকায় এসব চাষ করা হতো ৷ এরা ভূট্টা থেকে এক ধরণের পানীয় তৈরি করে পান করতো। এই পানীয়ের নাম ছিল চিচা। পেরুতে এই পানীয় এখনো জনপ্রিয়। এছাড়া ওল, নীল শ্যাওলা, কাঁচা মরিচ এবং অন্যান্য সবজি চাষ করতো। মাংসের মধ্যে ছিলো গিনিপিগ ও ছাগল জাতীয় লামার মাংস। আর সাগরের নিকটবর্তী এলাকার মানুষ সামুদ্রিক মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করতো।

 

ইনকাদের বড় সাফল্য ছিল খাদ্য সঞ্চয়ে। সমগ্র সাম্রাজ্য জুড়ে অসংখ্য সরকারি খাদ্যভাণ্ডার ছিলো, তাই কখনও খাদ্যসংকটে পড়তে হয়নি তাদের । এছাড়াও রাষ্ট্রীয়ভাবে সাধারণ মানুষকে খাদ্য সঞ্চয়ের জন্য উদ্বুদ্ধ করা হতো। এই প্রক্রিয়ায় এদের প্রায় ৫-৭ বছরের খাদ্য মজুদের ব্যবস্থা সৃষ্টি হয়েছিলো। শস্য ছাড়াও তারা মাংস শুকিয়ে নোনা করে রাখতো। এই সাম্রাজ্য কঠোর নিয়ম শৃঙ্খলায় আবদ্ধ ছিলো। সাম্রাজ্যের প্রতিটি মানুষ, এমনকি অন্ধ, খোঁড়া, মূক, বধির, বৃদ্ধ লোকেরা সম্মানের সঙ্গে তার শ্রমের বিনিময়ে উৎপাদিত শস্য সমানভাগে উপভোগ করতো।

 

ইনকাদের পোশাক-পরিচ্ছদ

আলাস্কা হয়ে ইনকাদের যে দল আমেরিকায় প্রবেশ করেছিলো, তাদের পোশাক ছিল পশুর চামড়া। আমেরিকার গ্রীষ্মপ্রধান এলাকায় প্রবেশ করার পর এরা হালকা পোশাকের জন্য সূতিবস্ত্র তৈরি করা শেখে। পেরু অঞ্চলে প্রবেশ করার পর, এরা লামার পশম দিয়ে পোশাক বানানো আয়ত্ব করে। অভিজাতরা পোশাকের সাথে ধাতুর প্রতীকী লকেট পরতো। মেয়েরা এক ধরনের ভারি চাদর জাতীয় পোশাক দিয়ে শরীর আবৃত করতো। একে বলা হতো ‘মানতাস’। তবে সকল পোশাকই সেলাইহীন ছিলো। পুরুষরা নিম্নাঙ্গে লম্বা সুতির পোশাক পড়তো ধুতির মতো করে। তবে সকল মানুষের পায়ে চপ্পল জাতীয় উপকরণ ব্যবহার করতো। এই চপ্পল তৈরি হতো লামার চামড়া থেকে। পুরুষদের ঊর্ধাঙ্গে পোশাক ধারণ করার রীতি ছিলো না। তবে রাজা সুতা আর চামড়া দিয়ে তৈরীকৃত একধরনের বিশেষ পোশাক পরতেন এবং নানা ধরণের অলঙ্কার ধারণ করতেন।

 

 

ইনকাদের স্থাপত্য-কৌশল

ইনকারা সাধারণ ঘরের দেওয়াল তৈরি করতো পাথর, মাটি, ঘাস ইত্যাদি দিয়ে। কাদামটি, খড়, ঘাস ইত্যাদি দিয়ে ছাদ তৈরি করতো। ছাদগুলো ছিলো বাংলাদেশের দোচালা বা চারচালা ঘরের মতো। দেয়ালে বায়ু চলাচলের জন্য ছোটো ছোটো চৌকো ফোঁকর ছিলো। এই ঘরগুলো খুব বেশি মজবুত হতো না কিন্তু দেখতে সুন্দর হতো। ধনী পরিবারগুলোর থাকতো পাথরের তৈরি বড় বড় প্রাসাদে। এগুলো মজবুত করে তৈরি করা হতো। ইনকা সভ্যতার নমুনা সবচেয়ে ভালো অবস্থায় পাওয়া গেছে ‘মাচুপিচু’ নগরীটিতে।

 

দুই পর্বতশৃঙ্গের মধ্যবর্তী বন্ধুর উপত্যাকার ভিতরে পাহাড়ের গায়ে ধাপে ধাপে এই শহর তৈরি করা হয়েছিলো। এখানে ছিল দীর্ঘ সিঁড়িপথ, বিশেষ ব্যবস্থায় তৈরি করা কৃষিভূমি, জলনিষ্কাষণ এবং পয়ঃপ্রণালী ব্যবস্থা। এই বিশাল সাম্রাজ্যের ভিতরে যোগাযোগ রক্ষার প্রধান ব্যবস্থা ছিলো সড়কপথ। পুরো সাম্রাজ্য জুড়ে এরা প্রায় ১৪ হাজার মাইল সড়ক তৈরি করেছিলো । এই পথকে বর্তমানে বলা হয় ‘ইনকা ট্রেইল’। এই পথ ছিলো মূলত পায়ে চলার উপযোগী। তবে স্থান বিশেষে মালামাল পরিবহণের উপযোগী গাড়ি চলাচলের জন্য রাস্তাও ছিলো। স্থানের বৈশিষ্ট্য অনুসারে এই পথের প্রকৃতি নানাস্থানে নানা রকমের ছিলো। সমতলভূমিতে বড় বড় পাথর বা কোথাও নুড়ি বিছিয়ে পথের স্থায়িত্ব বৃদ্ধি করতো। ফলে বর্ষার সময়েও কাদা এবং পিচ্ছিল অবস্থা থেকে পথচারী মুক্তি পেতো। পাহাড়ি অঞ্চলে এই পথ তৈরি করা হতো সিঁড়ি হিসেবে। কোথাও কোথাও ব্যবহৃত হতো প্রাকৃতিক পাহড়ি সমতলধর্মী বন্ধুর পথ। এই পথে সামরিক ও বেসামরিক সকল লোকই চলাচল করতো। সড়ক ব্যবহারে কোন ধরণের বিধি নিষেধ ছিলো না ৷

 

ইনকাদের ধর্মবিশ্বাস
ইনকাদের প্রধান দেবতার নাম ছিল ভিরাকোকা (Viracoca)। ইনকারা এই দেবতাকে তাদের জগৎস্রষ্টা হিসেবে মনে করতো। তবে সূর্য দেবতা ইনতি ছিলো বিশেষ মর্যাদার দেবতা। ইনতির সন্তান হিসেবে এরা নিজেদেরকে ইনকা বলতো। এরা ঊচু কোনো পাহাড়ের উন্মুক্ত স্থানে পাথরের বেদী তৈরি করতো। এর উপরে সূর্যদেবতার প্রতীকী মূর্তি রাখা হতো। সূর্যমন্দিরের দায়িত্বে থাকতেন একজন প্রধান পুরোহিত এবং তাঁর কিছু সহযোগী পুরোহিত। এই মন্দিরকে বলা হতো ‘ইনতিহুয়াটানা’। তবে এর পাশাপাশি তারা স্থানীয় অনেক দেব-দেবীকে মেনে নিয়েছিলো। প্রজারা এসব দেব-দেবীর পূজা করতো, যারা ‘হুয়াকাস’ নামে পরিচিত ছিলো। যদিও ইনকারা মেক্সিকোর আজটেকদের মতো রক্তপিপাসু ছিলো না, তবুও তারা নরবলি পছন্দ করতো। বিশেষ করে ‘কাপাকচা’ নামের বিশেষ অনুষ্ঠানে শিশুদের বলি দেওয়া হতো ৷
আগ্নেয়গিরিকে কিংবা অন্য দেবদেবীকে শিশু উৎসর্গ করা ইনকা সভ্যতার একটি বর্বরতম দিক। দেবদেবীদের উৎসর্গের আগে ইনকারা তাদের সন্তানদের মোটাতাজা করে নিতো ৷
ক’দিন আগেই প্রাচীন ইনকা সভ্যতার নিকটবর্তী লুলাইলাকো নামের একটি আগ্নেয়গিরির চূড়ায় সংরক্ষিত ৫০০ বছরের পুরনো মমি পাওয়া যায় ৷ মমির চুল পরীক্ষার মাধ্যমে এ সম্পর্কিত বিস্তারিত জানা তথ্য জানা যায়। সেখানে ‘লুলাইলাকোর কুমারী’ নামে পরিচিত ১৫ বছর বয়সী এক বালিকা এবং ‘লুলাইলাকোর বালক’ নামে সাত বছর বয়সী এক বালকের দেহাবশেষ পাওয়া গেছে। মমিকৃত দুটি দেহের সঙ্গে ছয় বছর বয়সী আরেকটি ছোট মেয়ের মমির সন্ধান পাওয়া যায়।
উত্তর-পশ্চিম আর্জেন্টিনায় চিলির সীমান্তবর্তী লুলাইলাকো পাহাড়ে এসব মমি ১৯৯৯ সালে আবিষ্কার হয়। ওখানকার প্রতিটি দেহই সূক্ষ্মভাবে সংরক্ষিত ছিলো। যদিও বজ্রপাতে ছোট মেয়েটির দেহাবশেষ ধ্বংস হয়ে যায়। ফলে তার ডাকনাম হয় ‘বজ্রের মেয়ে’। লুলাইলাকোর কুমারী বা ‘লা ডনচেলো’কে বিবেচনা করা হচ্ছে আন্দিজের সব মমির মধ্যে সবচেয়ে ভালোভাবে সংরক্ষিত। কিছুদিন আগে এটি জনসমক্ষে প্রদর্শনের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। বর্তমানে এটি ‘হাই মাউন্টেইন আর্কিওলজিক্যাল মিউজিয়াম’-এ রাখা আছে ৷

ইনকাদের বলিদানের জন্য কুমারী উৎসর্গ

ইনকা সভ্যতার পতন
ইনকা সভ্যতা ধ্বংসের জন্য দায়ী করা হয় স্প্যানিশ ফ্রানসিসকো পিজারোকে। পিজারো স্পেন থেকে ১৫০২ খ্রিষ্টাব্দে হিসপানিওয়ালা (বর্তমানকালে হাইতি ও ডোমেনিকান রিপাবলিক) দ্বীপে আসেন। ১৫০৯ খ্রিষ্টাব্দে কলম্বিয়া অভিযানে অংশ নেন। এরপর নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে তিনি পানামা পৌঁছান। এখানে এসে তিনি দক্ষিণ আমেরিকার স্বর্ণসমৃদ্ধ ভূখণ্ডের কথা জানতে পারেন। ১৫২০ খ্রিষ্টাব্দে তিনি দক্ষিণ আমেরিকার পশ্চিম উপকূলে পরপর দুটো অভিযান চালান। এই সময় তিনি ইনকাদের সাম্রাজ্যে প্রবেশ করেন। তিনি ষড়যন্ত্র করে কিছু ইনকা জাতির লোককে বন্দী করেন এবং সেই সাথে প্রচুর সোনাদানা এবং লামা নিয়ে স্পেনে ফিরে আসেন। এরপর পিজারো স্পেনের তৎকালীন রাজা পঞ্চম চার্লস-এর কাছে পেরু দখল এবং সেখানকার শাসক হওয়ার অনুমতি চান। রাজা পঞ্চম চার্লস পিজারোকে এই অভিযানে অনুমতি দেন ।
১৫৩২ খ্রিষ্টাব্দে তিনি বর্তমান পেরুতে ১৭৭ জন সৈন্য ও ৬২টি ঘোড়া নিয়ে কাজামারকা শহরে পৌঁছান। সে সময়ের ইনকা সম্রাট আটাহুয়ালপা কাজামারকা শহরে অবস্থান করছিলেন। পিজারো কাজামারকা শহরের কাছে এসে ইনকা সম্রাটের কাছে স্বাধীনভাবে ঘোরাফেরা অনুমতি প্রার্থনা করেন। সম্রাট তাঁকে ঘোরাফেরার অনুমতি দিলে, ১৫৩২ খ্রিষ্টাব্দের ১৫ই নভেম্বর তিনি শহরে প্রবেশ করেন। ১৬ই নভেম্বর তিনি শহরের একটি খোলা জায়গায় আটাহুয়ালপা ও ইনকা অভিজাতদের ভোজে নিমন্ত্রণ করেন। ইনকা সম্রাট এবং অভিজাত শ্রেণির লোকেরা সরল বিশ্বাসে প্রায় নিরস্ত্র অবস্থায় নিমন্ত্রণ রক্ষা করার জন্য আসেন। এরপর স্প্যানিশ সৈন্যরা তাঁদের ঘিরে ফেলেন এবং সম্রাট ছাড়া সকল অতিথিদেরকে হত্যা করে। এরপর পিজারো সম্রাটের মুক্তি পণ হিসেবে এক ঘর ভর্তি সোনা আর দুটি ঘর ভর্তি রূপা দাবী করেন। রাজ্যের অভিজাতরা পিজারোর সেই দাবী মেনে নেওয়ার পরও সম্রাটকে হত্যা করেন। সম্রাটের মৃত্যুর পর ইনকারা প্রতিরোধ করার মানসিক শক্তি হারিয়ে ফেলে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে, পিজারো ইনকার রাজধানী কুজকো দখল করে নেয়। ইনকা সাম্রাজ্যে স্প্যানিশদের দখলে আসার পর, এরা সমগ্র অঞ্চল জুড়ে হত্যা, লুণ্ঠনের তাণ্ডব চালায়।

ইনকাদেরকে দাস হিসেবে বিক্রয়ের কার্যক্রম চালায়। পুরো পেরু অঞ্চল দখলে আসার পর, ১৫৩৫ খ্রিষ্টাব্দে পিজারো লিমা নামে একটি নতুন শহর প্রতিষ্ঠা করে এবং এই শহরে রাজধানী স্থাপন করে, পেরু শাসন করা শুরু করে। পিজারো সম্রাট আটাহুয়ালপাকে হত্যা করে তার ভাই মানকো কাপাককে সিংহাসনে বসায়। ইতিমধ্যে লুটেরা স্প্যানিশদের মধ্যে স্বর্ণরৌপ্যের ভাগাভাগি নিয়ে হাঙ্গামা বাঁধে। মানকো তাদের এই হানাহানির সুযোগ নিয়ে পালিয়ে গিয়ে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ভিলকা বাম্বায় আশ্রয় নেয় এবং নতুন রাজধানী পত্তন করে রাজ্য পরিচলনা করেন। মানকো কাপাক ভিলকা বাম্বায় থেকে স্প্যানিশদের বিরুদ্ধে গুপ্ত যুদ্ধ পরিচালনা করা শুরু করেন।

দীর্ঘদিন ধরে এই যুদ্ধ চলার পরও স্প্যানিশরা ভিলকা বাম্বার অবস্থানই জানতে পারে নি। ১৫৭২ খ্রিষ্টাব্দে স্প্যানীয়রা ভিলকা বাম্বার অবস্থান খুজেঁ পায় এবং মানকোকে পরাজিত করতে সক্ষম হয়। মূলত এই পরাজয়ের মধ্য দিয়ে সর্বশেষ ইনকা সম্রাট ও তার সাম্রাজ্য বিলুপ্ত হয়ে যায়।