মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রঃ কৃষ্ণাঙ্গদের অধিকার আদায় আন্দোলনের নেতা

প্রকাশিত: ৯:২১ অপরাহ্ণ, জুন ৩, ২০২০
মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র। কৃষ্ণাঙ্গদের অধিকার আদায় আন্দোলনের অবিস্মরণীয় নেতা।

কিংবদন্তি আফ্রো-আমেরিকান মানবাধিকার কর্মী মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র এর জন্ম ১৯২৯ সালের ১৫ই জানুয়ারী জর্জিয়ার আটলান্টায়। আটলান্টার সম্মানিত ধর্ম প্রচারক ও নাগরিক অধিকার নেতা মার্টিন লুথার কিং সিনিয়রের পুত্র ছিলেন তিনি। তাঁর মা এ্যালবার্টা কিং ছিলেন স্কুল শিক্ষিকা। কিং বলেছেন ৬ বছর বয়সে তাঁর এক শ্বেতাঙ্গ বন্ধুর বাবা যখন তাঁর সঙ্গে সেই বন্ধুকে খেলতে বারণ করে তখন থেকেই বর্ণবাদের বিষয়ে সচেতন হন তিনি।

নেতৃত্ব দান

১৯৫০ এর মাঝামাঝি সময়ে কিং মানুষের নজর কাড়েন।  একজন তরুণ ধর্মপ্রচারক কিং এ্যালাবামার মন্টগোমারীতে পাবলিক বাসে কৃষ্ণাঙ্গ যাত্রীদের ওঠার ক্ষেত্রে বৈষম্য দূরীকরণে সফল আন্দোলন করেন। বৈষম্য দূরীকরণ, কৃষ্ণাঙ্গদের সমান অধিকার ও ভোটাধিকারের দাবীতে ১৯৫০ ও ১৯৬০ সময়ের মধ্যে তিনি দুটি সফল বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেন।

অহিংস আন্দোলন

কিং জানতেন নাগরিক অধিকার আদায়ের মূল কৌশল হচ্ছে সংঘাতবিহীন প্রতিবাদ, অহিংস আন্দোলন। বলা হয় কিং ভারতীয় নেতা মহাত্মা গান্ধীর দ্বারা প্রভাবিত। তিনি এ্যালাবামার বার্মিংহামে পুলিশের হামলা স্বত্বেও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করেন। এ্যালাবামার সেলমায় শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করেন যাতে পুলিশি হামলা হয়।

মার্চ অন ওয়াশিংটন

কিং এর স্মরণীয় উক্তি ‘আই হ্যাভ এ ড্রিম’ বক্তৃতা মূলত কৃষ্ণাঙ্গ অধিকার আদায়ের আন্দোলন হলেও পরবর্তীতে তা পরিণত হয় নাগরিক অধিকার আদায়ের আন্দোলনে। ১৯৬৩ সালের আগস্ট নাগাদ, সমতার দাবীতে আড়াই লাখ কৃষ্ণাঙ্গ ও শ্বেতাঙ্গ মার্চ অন ওয়াশিংটনে অংশ নেন। শান্তিপূর্ন সেই সমাবেশে কোনো গ্রেফতারের ঘটনা ঘটেনি। সেই বক্তৃতায় তিনি বললেন,

ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের কোনও প্রাপ্তি নেই, যতক্ষণ নিগ্রোরা পুলিশের বর্ণনাতীত নির্যাতনের শিকার হবে। ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের কোনও প্রাপ্তি নেই, যতক্ষণ ভ্রমণক্লান্ত নিগ্রোরা শহরের হোটেল বা মোটেলে বিশ্রামের অধিকার পাবে। ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের প্রাপ্তি নেই, যতক্ষণ আমাদের শিশুরা ‘কেবলমাত্র শ্বেতাঙ্গদের জন্য’ লেখা সাইনবোর্ড দেখবে। আমি জানি, তোমরা কেউ এসেছো দূর-দূরান্ত থেকে। কেউ জেলের কুঠরি থেকে। কেউ পুলিশের টর্চার সেল থেকে।

তোমরা যার যার ঘরে ফিরে যাও। কিন্তু কাদাজলে ডুব দিয়ে থেকো না। হয়তো আজ বা আগামী কাল আমাদের জন্য সংকটময় হবে। তবুও আমি স্বপ্ন দেখি। এই স্বপ্ন গাঁথা আছে আমেরিকার অস্তিত্বে। আমি স্বপ্ন দেখি, এক দিন এই জাতি জাগ্রত হবে এবং মানুষের এই বিশ্বাসের মূল্যায়ন করবে, সব মানুষ জন্মসূত্রে সমান।

নোবেল পুরস্কার

১৯৬৪ সাল নাগাদ নাগরিক অধিকার আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করে। প্রেসিডেন্ট লিন্ডন জনসন সিভিল রাইটস এ্যাক্ট স্বাক্ষর করেন। মার্টিন লুথার কিং পান নোবেল শান্তি পুরষ্কার। পরের বছর, কৃষ্ণাঙ্গদের ভোটদানের অধিকার থেকে বিরত রাখতে যেসব আইন ছিল তা তুলে নেয়া হয়।

হত্যা

৪ঠা এপ্রিল ১৯৬৮ তারিখে মেমফিসের একটি মোটেলের ব্যালকনিতে এক বন্দুকধারী হত্যা করে লুথার কিংকে।

 

তথ্যসূত্রঃ

ভয়েস অব আমেরিকা

বিকাশ পিডিয়া