‘৩৫ লাখ নেতাকর্মীর মামলা প্রত্যাহারের আগে কোনো নির্বাচন হবে না’

প্রকাশিত: ৩:৩৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১১, ২০২১

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘৩৫ লাখ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে যে মিথ্যা মামলা আছে, তা প্রত্যাহারের আগে কোনো নির্বাচন কমিশন গঠন ও নির্বাচন হবে না। আজ শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার পক্ষে ছিল। কিন্তু, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেটাকে বাদ দিয়েছেন, শুধু আজীবন আওয়ামী লীগের দলীয় সরকারের মাধ্যমে নির্বাচন করার জন্য। যে নির্বাচনে আগের রাতে ভোটকেন্দ্র দখল করা হবে।’

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, বাংলাদেশে আর সে রকম নির্বাচন হবে না। নির্বাচন কমিশন গঠন হবে ঠিক, যখন সত্যিকার অর্থে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনের ব্যবস্থা করা হবে। সেই কমিশনের অধীনে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে হবে। আর তার আগে অবশ্যই দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। একই সঙ্গে শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে বন্দি রাখা রাজনৈতিক নেতাকর্মীদেরকে মুক্তি দিতে হবে। আর ৩৫ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে যে মিথ্যা মামলা আছে তা প্রত্যাহার করতে হবে। তার আগে কোনো নির্বাচন হবে না।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আজকে আমরা একটা কঠিন সময় অতিক্রম করছি। ১৯৭১ সালে স্বাধনীতা যুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমরা যে অধিকারগুলো অর্জন করেছিলাম, আজকে সেগুলোকে সম্পুর্ণভাবে কেড়ে নেওয়া হয়েছ। ১৯৯০ সালে একটি গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে নিয়ে এসেছিলাম, সেই গণতন্ত্রকে ধংস করে দেওয়া হয়েছে।’

বিএনপির মহাসচিব আরও বলেন, ‘আমাদের রাষ্ট্রকে একটা ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছে। যেখানে মানুষের কোনো অধিকার নেই, মানুষ তার কোনো অধিকার পূরণ করতে পারছে না। এমনকি জণগণ তাদের ভোটও দিতে পারছে না।’

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আজকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর হয়ে গেছে। দুর্ভাগ্য আমাদের, শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের যে ব্যবস্থা, সেই ব্যবস্থাকে আমরা এখন পযন্ত সুনিশ্চিত করতে পারিনি। কার জন্য পারিনি? আওয়ামী লীগের জন্য পারিনি। কারণ এই সরকার চায় দেশে একটি মাত্র দল থাকবে, একটি মাত্র পরিবার থাকবে।’

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আরও বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমে এ দেশের মানুষ একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করেছিল। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া সংসদে সেটা পাস করেছিলেন। কিন্তু, আওয়ামী লীগ ক্ষমতার আসার কিছুদিনের মধ্যেই সম্পূর্ণ জনপ্রিয়তা হারিয়েছে। ফলে, তারা চিন্তা করেছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে আমরা কোনোদিন ক্ষমতায় যেতে পারব না। তাই তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধানটাকে একতরফাভাবে বাদ দিয়েছে। প্রতিটি রাজনৈতিক দল এমনকি আওয়ামী লীগও ১৯৯৬ সালে এর পক্ষে ছিল।’

বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ‘দেশনেত্রী খালেদা জিয়া সারা জীবন মানুষের মুক্তির জন্য সংগ্রাম করেছেন। আজ তিনি গৃহবন্দি। এই মহান নেত্রী বাংলাদেশে নারী অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যে অবদান রেখেছেন, তা বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লিপিবদ্ধ থাকবে। এক সময় বাংলাদেশে, বিশেষ করে এদেশের গ্রামের সংস্কৃতি ছিল—আমরা মেয়েদের লেখাপড়া করাতে চাইতাম না। কম বয়সে মেয়েদের বিয়ে দিয়ে দেওয়া হতো। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া সেটার বিরুদ্ধে আইন করেছেন। তিনি সবচেয়ে বড় যে কাজটি করেছিলেন সেটি হলো, দশম শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের বিনামূল্যে লেখাপড়ার ব্যবস্থা করা। তাদের জন্য খালেদা জিয়া বৃত্তি প্রদানের ব্যবস্থা করেছিলেন।’