২৪ ঘণ্টায় আরও ৩৯ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ৩০৯৯

প্রকাশিত: ৪:৫৯ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৩, ২০২০

দেশে করোনায় আরও ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট প্রাণ গেলো ২ হাজার ৩৯১ জনের। এছাড়া নতুন শনাক্ত করোনা রোগীর সংখ্যা ৩ হাজার ৯৯ জন। নতুন রোগীসহ দেহে মোট করোনা রোগীর সংখ্যা দাঁড়ালো এক লাখ ৮৬ হাজার ৮৯৪ জনে। দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে সোমবার দুপুরে (১৩ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান প্রতিষ্ঠানটির অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান- করোনাভাইরাস শনাক্তে গেলো ২৪ ঘণ্টায় ১২ হাজার ৪২৩ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এরমধ্যে ৩ হাজার ৯৯ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়। এতে শনাক্তের হার ২৪ দশমিক ৯৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে বলেও জানান নাসিমা সুলতানা। গতকাল (১২ জুলাই) এ হার ছিলো ২৪ দশমিক এক শতাংশ। এছাড়া নতুন ৪ হাজার ৭শ’ ৩ জনসহ মোট সুস্থ হয়েছেন ৯৮ হাজার ৩শ’ ১৭ জন।

করোনায় আক্রান্ত হয়ে গেলো ২৪ ঘণ্টায় যে ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে তাদের ৩০ জন পুরুষ এবং ৯ জন নারী। তাদের মধ্যে শূন্য থেকে ১০ বছরের মধ্যে একজন, ১০ বছরের বেশি বয়সী একজন, ৩০ বছরের বেশি বয়স্ক তিনজন, চল্লিশোর্ধ্ব ৬ জন, পঞ্চাশোর্ধ্ব ১৩ জন, ষাটোর্ধ্ব ১১ জন, সত্তরোর্ধ্ব ৩ জন এবং ৮০ বছরের বেশি বয়সী একজন ছিলেন।

মৃত ব্যক্তিদের মধ্যে ১৯ জন ঢাকা বিভাগের, পাঁচজন চট্টগ্রাম বিভাগের, একজন ময়মনসিংহ বিভাগের, সাতজন খুলনা বিভাগের, তিনজন বরিশাল বিভাগের এবং দু’জন করে রংপুর ও সিলেট বিভাগের বাসিন্দা।

গত বছরের ডিসেম্বরে চীনে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া গেলেও বাংলাদেশে ভাইরাসটি শনাক্ত হয় গত ৮ই মার্চ। আর করোনায় আক্রান্ত প্রথম রোগীর মৃত্যু হয় ১৮ মার্চ। এরপর পরিস্থিতি বিবেচনায় সংক্রমণ রোধে ২৬ মার্চ থেকে সারাদেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। সংক্রমণ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে কয়েক দফা বাড়ানো হয় সাধারণ ছুটি। এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত শনাক্তকৃত রোগীর সংখ্যা অনেকটাই সমান্তরাল ছিলো। কিন্তু তারপর থেকে বেড়েই চলেছে রোগীর সংখ্যা।

কিন্তু, জীবন-জীবিকা এবং অর্থনীতির স্বার্থে দুই মাসের বেশি সময় ধরে চলা সাধারণ ছুটি ৩১ মে’র পর থেকে আর না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। সারাদেশে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শুরু হয়েছে গণপরিবহণ চলাচল। শপিং মল, বাজার, দোকানপাট খোলা রাখার সময়সীমাও বাড়ানো হয়েছে। তবে, কিছু জায়গায় রেড জোন চিহ্নিত করে চলছে এলাকাভিত্তিক লকডাউন।

ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্যমতে- সারা বিশ্বে এরইমধ্যে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৩০ লাখ ৫৮ হাজারের বেশি। আর, এই প্রাণঘাতী ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৫ লাখ ৭২ হাজার মানুষের।

এদিকে- ইউরোপে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার কমলেও উত্তর আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা ও এশিয়ার কিছু অঞ্চলে ক্রমাগত বেড়েই যাচ্ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর মিছিল। ইতোমধ্যেই করোনা আক্রান্ত শীর্ষ দেশের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলের পরই তিন নম্বরে অবস্থান করছে ভারত। দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে নতুন ১৩ জনসহ মোট ২৩ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ভারতে মোট করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৮ লাখ ৭৯ হাজার ৮৮৮ জন। আর, বাংলাদেশ অবস্থান করছে ১৭ নম্বরে।