২০০ হিজরির পরে আর কোনো আলেম নাই, যা আসছে সব ঠাকুর।

প্রকাশিত: ২:৪৬ অপরাহ্ণ, জুন ১৪, ২০২১
লিখেছেন  ইমরান রাইয়ান
কয়েকদিন আগে রেজাউল করিম আবরার ভাইয়ের একটা আলোচনা দেখছিলাম। আলোচনার এক ফাঁকে তিনি ইমাম যাহাবির কথা বললেন। সাথে সাথে একজন কমেন্ট করলো, এসব যাহাবি কাহাবি বাদ দেন।
কমেন্টটা দেখে স্তব্ধ হয়ে গেলাম। যে কমেন্ট করেছে তার ধারণাও নেই, কার সম্পর্কে কী মন্তব্য করেছে। দুদিন পর দেখলাম এক বক্তা তার আলোচনায় বলছে ২০০ হিজরির পরে আর কোনো আলেম নাই, যা আসছে সব ঠাকুর। কয়েকদিন বিষয়টা নিয়ে ভেবেছি। ভেবে একটা বিষয়ই মনে হয়েছে, আমরা আসলে আমাদের সালাফদের চিনি না। গ্রামসি, হেগেল, লাকা, কান্ট, ফ্রয়েড, হান্টিংটন, প্লেটো, সক্রেটিস, কার্ল মার্ক্স এদের বইপত্র না পড়েও কিংবা এদের মতবাদ না জেনেও এদেরকে আমরা চিনি। নামধাম জানি কারণ এদের প্রচুর মার্কেটিং করা হয়েছে। কথায় কথায় এদের নাম আনা হয়েছে, এদেরকে গুরুত্বপূর্ন করে তোলা হয়েছে।
কিন্তু মাদরাসার পরিবেশের বাইরে আমরা ইবনু শিহাব যুহরি, লাইস ইবনু সাদ, আউযায়ি, মামার বিন রাশেদ, ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল কাত্তান, মুজাহিদ, সুলাইমান বিন মেহরান, আইয়ুব সখতিয়ানি, মানসুর বিন যাদান, মাকহুল দিমাশকি, আতা বিন ইয়াসার, মুহাম্মদ ইবনুল হাসান আশ শাইবানি, কাজি আবু ইউসুফ, আবদুর রহমান ইবনুল মাহদি, আলি ইবনুল মদনি, হাকিম নিশাপুরি, কুরতুবি, আবি বকর বিন আইয়াশ, সাখাবি, মিযযি, আলাউদ্দিন কাসানি, কামালুদ্দিন ইবনুল হুমাম, যাইলায়ি, ইবনু নুজাইম, আবু হাতেম রাজি, সুয়ুতি, আসাদ ইবনুল ফুরাত, লিসানুদ্দিন ইবনুল খতিব, মাকরেজি, ইবনু তাগরি বারদি, ইবনুল ইমাদ হাম্বলি, ইবনে দুকমাক প্রমুখকে আমরা পরিচিত করাতে পারেনি।
দ্বীনি ঘরানার অনেক পড়ুয়া (মাদরাসা পড়ুয়াদের বাইরে) লোকজনও দুচারজন সেনাপতি ও শাসকের বাইরে পূর্বসূরীদের তেমন কাউকে চিনে না। ইসলামি জ্ঞানশাস্ত্রগুলো যাদের হাতে তিলে তিলে গড়ে উঠেছে তারা আমাদের কাছে অপরিচিত।
এই অপরিচিতি আমাদের মনে এনে দিয়েছে বিশ্রি অহমিকা। নিজেদের ব্যাপারে হয়েছি অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী, যার কোনো ভিত্তিই নেই। আমরা অপরিচিত সালাফদের তাকওয়া-যুহদ সম্পর্কে, জানি না তাদের প্রখর মেধা ও স্মৃতিশক্তির কথা, জানি না দ্বীনের একেকটি বিধান রক্ষায় তারা কতটা তৎপর ছিলেন সে সম্পর্কেও। ফলে তাদের সম্পর্কে এমন মন্তব্য করি, যেন মনে হয় তারা আমাদের পাড়ার ছোট ভাই। আমাদের কথায় ও লেখায় আমরা গ্রামসী উদ্ধৃত করতে পারলে স্মার্টনেস ভাবি, কিন্তু আবু ইয়ালা ফাররা আল হাম্বলি, মাওয়ারদি, ইবনু জামাআহ, কলকাশান্দি, জুয়াইনি আমাদের কাছে অপরিচিত।
সালাফদের জীবনের নানা দিক নিয়ে বাঙলায় টুকটাক বইপত্র এসেছে কিন্তু সেগুলোর হাইপ উঠেনি। সেসব বইপত্রে মানুষের যতটা আগ্রহ থাকা দরকার ছিল, ততটা নেই। আমরা চাই সালাফদের সম্পর্কে সবার আগ্রহ বাড়ুক। শুধু অটোমান-ফ্যান্টাসিতে না ভুগে তারা সালাফদেরও চিনুক।
সাকিব আল হাসানের পেজে লাইক না দিয়েও আমি জেনে যাই সে স্ট্যাম্প ভেংগেছে। কোনো নায়ক-নায়িকার পেজে লাইক না দিলেও জানা হয় অমুক ভারতীইয়া মা হতে চলেছেন। ফ্রেন্ডলিস্টের ভাইয়েরা নিজ গরজেই এসব প্রচার করে দেন। তাহলে কষ্ট করে একটা সপ্তাহ আমরা সালাফদের পরিচয় প্রচার করতে পারি না?
বন্ধুদের কাছে আমার ছোট একটা অনুরোধ। যার পক্ষে যতটুকু সম্ভব সালাফদের সম্পর্কে লিখুন। ২০০ ওয়ার্ড হলেও লিখুন। তাদেরকে একটু পরিচিত করান। মুসলমানের সন্তান গ্রীক উপাখ্যানের চরিত্রদের চেনে কিন্তু সালাফ চেনে না, এটা কি লজ্জার নয়।
যার কলমে যা আসে লিখুন সালাফদের সম্পর্কে। এই লেখার জন্য কেউ আমাদের অর্থ দিবে না, নেই বই ছাপার প্রতিশ্রুতিও, কিন্তু আমাদের বিশ্বাস কাজটুকু দ্বীনি খেদমত হিসেবে থেকে যাবে। অন্তরের নিয়ত ও ইখলাস অনুসারে আল্লাহ আমাদের প্রতিদান দিবেন ইনশাআল্লাহ।
তাহলে শুরু করা যাক…
লেখার শেষে #পূর্বসূরি বা #সালাফ_পরিচিতি দিতে পারেন। নির্বাচিত লেখাগুলো নিয়ে একটা পেজ খোলারও ইচ্ছা আছে, যা পরে আল্লাহ চাইলে ব্লগসাইটও হতে পারে।