১৪ই জুন: বিশ্ব রক্তদাতা দিবস

আমজাদ হোসাইন

প্রকাশিত: ৮:১৬ অপরাহ্ণ, জুন ১৪, ২০২০
ছবিঃ ইন্টারনেট।

 

আজ ১৪ই জুন, “বিশ্ব রক্তদাতা দিবস”। এ দিবসের উদ্দেশ্য হচ্ছে, যারা স্বেচ্ছায় ও বিনামূল্যে রক্তদান করে লাখ লাখ মানুষের প্রাণ বাঁচাচ্ছেন তাদের অবদানকে স্মরণ করা এবং অন্যান্য সাধারণ জনগণকে রক্তদানে উৎসাহিত করা ৷ ২০০০ সালে ‘নিরাপদ রক্ত’ এই থিম নিয়ে পালিত বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের অভিজ্ঞতা নিয়ে “বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা” (World Health Organization) ২০০৪ সাল থেকে “সবার জন্যে নিরাপদ রক্ত” স্লোগান নিয়ে এই দিবসটি পালন করে আসছে। ইতোমধ্যে ১৮২ টি দেশ সম্পৃক্ত হয়েছে এ আন্দোলনে। ১৪ই জুন দিবসটি পালনের আরোও একটি তাৎপর্য রয়েছে। এদিন জন্ম হয়েছিল বিখ্যাত বিজ্ঞানী কার্ল ল্যান্ডস্টিনারের। এই নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী আবিষ্কার করেছিলেন রক্তের গ্রুপ ‘এ, বি, ও,এবি’ সমূহ।

 

বাংলাদেশেও অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পালন করা হয় এ দিবসটি। এ বছরের প্রতিপাদ্য হচ্ছে “Blood donation and universal access to safe blood transfusion”. মানবতার কল্যাণে এটি একটি বিশেষ ও উত্তম উদ্যোগ। রক্ত দিয়ে একজন মানুষের জীবন বাঁচানো সম্ভব। এজন্য একে বলা হয় পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ ও নি:স্বার্থ উপহার।

 

দুর্ঘটনায় আহত, ক্যান্সারে আক্রান্ত এবং অন্যান্য জটিল রোগে আক্রান্তদের জন্য, অস্ত্রোপচার কিংবা সন্তান প্রসব অথবা থ্যালাসেমিয়ার মতো বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় রক্ত সঞ্চালনের প্রয়োজন হয়। তবে বাংলাদেশে জনসংখ্যার তুলনায় রক্তদাতার সংখ্যা এখনো নগণ্য। পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশে বছরে আট থেকে নয় লাখ ব্যাগ রক্তের চাহিদা থাকলেও রক্ত সংগ্রহ হয় ছয় থেকে সাড়ে ছয় লাখ ব্যাগ। ঘাটতি থাকে তিন লাখ ব্যাগেরও বেশি। তাই রক্তের অভাবে প্রতিবছর বহু রোগীর প্রাণ সংকটের মুখে পড়ে। এক ব্যাগ রক্ত দিতে সময় লাগে মাত্র ১০ থেকে ১২ মিনিট। এই অল্প সময়ে চাইলেই একজন মানুষের প্রাণ বাঁচানো সম্ভব। চিকিৎসকদের মতে প্রাপ্তবয়স্ক সুস্থ নারী-পুরুষ নির্দিষ্ট সময় পরপর রক্ত দিতে পারেন। ১৮ থেকে ৪৫ বছর বয়সের মধ্যে শারীরিকভাবে সুস্থ নারী ও পুরুষ রক্ত দিতে সক্ষম।

 

এক্ষেত্রে পুরুষের ওজন থাকতে হবে অন্তত ৪৮ কেজি এবং নারীর অন্তত ৪৫ কেজি। এছাড়া রক্তদানের সময় রক্তদাতার তাপমাত্রা ৯৯.৫ ফারেনহাইটের নিচে থাকতে হবে ৷ আর নাড়ির গতি ৭০ থেকে ৯০ এর মধ্যে এবং রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকতে হবে। পুরুষদের ক্ষেত্রে রক্তের হিমোগ্লোবিন প্রতি ডেসিলিটারে ১৫ গ্রাম এবং নারীদের ক্ষেত্রে ১৪ গ্রাম হওয়া দরকার। রক্তদাতাকে অবশ্যই ভাইরাসজনিত রোগ, শ্বাসযন্ত্রের রোগ এবং চর্মরোগ মুক্ত থাকতে হবে। সাধারণত ৯০ দিন পর পর, অর্থাৎ তিন মাস পর পর রক্ত দেওয়া যাবে। আর নিয়মিত রক্ত দেয়ার কিছু উপকারিতাও রয়েছে। সেগুলো হলো:-

১. এতে একজন মানুষের জীবন বাঁচানো সম্ভব। আর প্রসূতি মায়ের ক্ষেত্রে দুইজনের জীবন বাঁচানোর সম্ভব হয়৷

২. নিয়মিত রক্তদাতাদের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কম থাকে।

৩. বছরে তিনবার রক্ত দিলে শরীরে নতুন লোহিত কণিকা তৈরির হার বেড়ে যায়। এতে অস্থিমজ্জা সক্রিয় থাকে এবং দ্রুত রক্ত স্বল্পতা পূরণ হয়।

৪. রক্তে কোলেস্টরেলের মাত্রা কমে যায়, এতে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। ফলে হৃদরোগ ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।

৫. রক্ত দিলে যে ক্যালোরি খরচ হয়, তা ওজন কমানোর ক্ষেত্রে ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

৬. শরীরে হেপাটাইটিস-বি, হেপাটাইটিস-সি, জন্ডিস, ম্যালেরিয়া, সিফিলিস, এইচআইভি বা এইডসের মতো বড় কোন রোগ আছে কি না, সেটি বিনা খরচে জানা যায়।

৭. রক্তদাতার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।

৮. রক্তদাতার যদি নিজের কখনো রক্তের প্রয়োজন হয় তাহলে ব্লাড ব্যাংকগুলো তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে রক্তের ব্যবস্থা করে দেয়।

 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (World Health Organization)-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতিবছর বিশ্বের ৯ কোটি ২০ লাখ মানুষ রক্ত দিয়ে থাকে। তবে উন্নত বিশ্বে স্বেচ্ছা রক্তদানের হার প্রতি এক হাজারে ৪০ জন হলেও উন্নয়নশীল বিশ্বে প্রতি এক হাজারে ৪ জনেরও কম। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার লক্ষ্য ২০২০ সালের মধ্যে স্বেচ্ছায় রক্তদানের মাধ্যমে চাহিদার শতভাগ রক্তের সরবরাহ নিশ্চিত করা।