ঢাকা, বুধবার ১৩ই অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২৮শে আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ৬ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি

হালাকু খানের বাগদাদ আক্রমণ ও একটি সমৃদ্ধ মুসলিম সভ্যতার পতন (প্রথম পর্ব)


প্রকাশিত: ৯:২১ অপরাহ্ণ, জুন ৮, ২০২০

খোরাসানের পতনের কারণে হালাকু খানের জন্য বাগদাদ অভিযানের পথ উন্মুক্ত হয়ে যায়। হালাকু খান বাগদাদের দিকে দ্রুত ধাবিত হন। এ অভিযানে হালাকু খান সঙ্গে নেন মূছেলের শাসনকর্তা বদরুদ্দীন লুলু ও সাবেক ইসমাঈলী মন্ত্রী, দার্শনিক নাছীরুদ্দীন তূসীকে। এদিকে মহিউদ্দীন ইবনুল খোয়ারিযমী খাদ্য, বাহন ও অর্থ দিয়ে সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়ে লোক পাঠান। আবার মূছেলের সুলতানের পুত্র সালেহ ইসমাঈলীও হালাকুর সঙ্গে যোগ দেন।  সব মিলে দুলক্ষ সৈন্য সাথে নিয়ে হালাকু খান বাগদাদের পথে রওয়ানা হন।  

হালাকুর সৈন্যদল পূর্ব-পশ্চিম উভয় দিক দিয়ে বাগদাদের পথে রওয়ানা হয়। বাজুয়ানের নেতৃত্বে আরেক দল সৈন্য পশ্চিম দিক দিয়ে তিকরিতের পথ ধরে বাগদাদের দিকে অগ্রসর হয়।  হালাকু বাহিনীর ভয়ে লোকেরা নারী ও সন্তানদের নিয়ে দুজাইল, ইসহাক, নাহরে মালাক ও নাহরে ঈসা ত্যাগ করে শহরে প্রবেশ করতে শুরু করে। তারা নদী পাড়ি দেওয়ার সময় যেনো নিজেদেরকে পানিতে নিক্ষেপ করছিলো।  মাঝিরা লোকদের পারাপার করার সময় ভাড়া হিসাবে স্বর্ণের চুড়ি, বালা ও বহু দীনার লাভ করছিলো। যখন হালাকু খানের ত্রিশ হাজার অশ্বারোহী সৈন্য দুজাইল নগরীতে প্রবেশ করলো তখন খলীফা মুস্তাছিমের পক্ষ থেকে তাদের প্রতিরোধের জন্য মুজাহিদুদ্দীন আয়বেক (দোওয়েদায়ে সগীর নামে পরিচিত) ইযযুদ্দীন সামনে অগ্রসর হন।

তিনি অল্প সংখক সৈন্য নিয়ে এক বিশাল বাহিনীর প্রতিরোধ করতে সক্ষম হন। কিন্তু চৌকস তাতার সৈন্যরা রাতে দজলা নদীর বাঁধ ভেঙ্গে দিলে মুসলিম সৈন্যরা দিশাহারা হয়ে পড়ে। এই সুযোগে তাতার সৈন্যরা মুসলিম সৈন্যদের কাউকে হত্যা ও কাউকে বন্দি করতে সক্ষম হয়। এ থেকে কেবল তারাই রক্ষা পায় যারা নদীতে ঝাঁপ দেয় বা যারা মরুভূমি হয়ে সিরিয়ায় পলায়ন করে। সেনাপতি ইযযুদ্দীন দোওয়ায়েদার কোন মতে আত্মরক্ষা করে বাগদাদে চলে যান। আর হালাকুর সেনাপতি বাজু তার সৈন্যদের নিয়ে শহরের পশ্চিম পাশ দিয়ে প্রবেশ করে মুহাযিত-তাজের সামনে অবস্থান নেয়। তার সৈন্যরা মুসলমানদের বাড়ি-ঘরে প্রবেশ করতে থাকে।

অপরদিকে তাতার বাহিনী পূর্ব পাশ দিয়ে ৪ঠা মুহাররম ৬৫৬ হিজরী বাগদাদের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান গ্রহণ করে। খলীফার সৈন্যরা ১৯শে মুহাররম ৬৫৬ হিজরী পর্যন্ত প্রতিরোধের চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়। অতঃপর তাতাররা বাগদাদের প্রাচীর ভেঙ্গে তীব্র গতিতে শহরে প্রবেশ করে নাগরিকদের মধ্যে ভীতির সঞ্চার করে। লোকেরা ভয়ে বহুতল ভবন ও উঁচু মিনারে আশ্রয় গ্রহণ করে। হালাকু খান খলীফাকে অবিলম্বে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। খলীফা এতে কর্ণপাত না করলে তাতাররা বাগদাদ নগরী অবরোধ করে। খলীফা যখন দেখলেন আত্মসমর্পণ ছাড়া উপায় নেই তখন তিনি যুদ্ধ বন্ধ ও শান্তিচুক্তি সম্পাদনের জন্য শারফুদ্দীন ইবনুল জাওযীকে হালাকুর নিকটে পাঠান। কিন্তু হালাকু বাহিনী চুক্তির অঙ্গীকার করে মুসলমানদের ধোঁকা দেয়। ইবনু কাছীর (রহঃ) বলেন,ইবনুল আলকামী তার পরিবার-পরিজন ও সঙ্গী-সাথীদের নিয়ে হালাকুর নিকট গমন করে। অতঃপর খলীফাকে হালাকুর কাছে যাওয়ার ইঙ্গিত করে এবং তার সাথে সাক্ষাৎ করে সন্ধি করার পরামর্শ দেয়। যাতে বলা হয় অর্ধেক জিযিয়া হালাকুর জন্য হবে ও অর্ধেক হবে খলীফার জন্য।

খলীফা মুস্তাছিম বিল্লাহর পুত্র আহমাদ, আব্দুর রহমান ও মুবারক এবং কাযী, ফক্বীহ, আলেম-ওলামা, ছূফী ও গণ্যমাণ্য ব্যক্তিসহ তিন হাজার অনুচরবর্গ জীবন রক্ষার জন্য আত্মসমর্পণ করতে হালাকু খানের নিকট যান। এই প্রতিনিধি দলটি যখন হালাকুর বাসস্থানের কাছে পৌঁছে তখন সতের জন ব্যক্তি ব্যতীত সকলকে হত্যা করা হয়।

হালাকু খান। ছবিঃ ইন্টারনেট।

খলীফা হালাকুর নিকটে পৌঁছলে সে খলীফাকে বললো, আপনি মেযবান আর আমরা মেহমান। অতএব আপনি আমাদের উপযুক্ত মেহেনদারী করুন। খলীফা তার ধনভাণ্ডারের তালা খুলে তার মেহমানদারী করার নির্দেশ দিলেন। এতে তার জন্য ত্রিশ হাজার পোশাক, দশ হাজার দীনার এবং অগণিত মনি-মুক্তা হালাকুর সামনে উপস্থাপন করা হলো। কিন্তু হালাকু এগুলোর প্রতি কোন ভ্রূক্ষেপ না করে খলীফাকে বললেন, এগুলো আমার দাস ও সৈন্যদের জন্য। এগুলোতো প্রকাশ্য সম্পদ। কিন্তু গচ্ছিত ও রক্ষিত সম্পদ কোথায়? সেগুলোর সন্ধান দিন। খলীফা লুক্কায়িত সম্পদের কথা বলে দিলে তারা তা খনন করে দেখল যে, হাউজ লাল স্বর্ণে পরিপূর্ণ। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, হালাকু খান স্বয়ং খলীফার সাথে অতিশয় অপমান সূচক আচরণ করলেন। খলীফা লাঞ্ছিত, ভীত ও অপদস্থ অবস্থায় বাগদাদে ফিরে এলেন। খাজা নাছীরুদ্দীন তূসী ও খলীফার প্রধান মন্ত্রী ইবনুল আলকামীও খলীফার সাথে বাগদাদে ফিরে এলো। তাদের পরামর্শক্রমে খলীফা পুনরায় রাজকোষের সমুদয় স্বর্ণ, হীরক এবং মূল্যবান সামগ্রীসহ হালাকুর নিকট উপস্থিত হলেন।

শীআ মন্ত্রীদ্বয়ের ষড়যন্ত্র ও প্ররোচনার ফলে খলীফা মুস্তাছিমের শতো অনুনয়-বিনয় ও অনুরোধ সত্ত্বেও হালাকু খান খলীফার সাথে চুক্তি করতে সম্মত হন নি। হালাকু খান খলীফার সাথে সন্ধি করতে চাইলে ইবনুল আলকামী হালাকু খানকে বলে, আপনি খলীফার সাথে চুক্তি করবেন না। কারণ তিনি এক বা দুবছরের মধ্যে চুক্তি ভঙ্গ করবেন। তিনি আপনার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করবেন। এভাবে ইবনুল আলকামী হালাকু খানকে খলীফার বিরুদ্ধে প্ররোচিত করতে থাকে। তারপর হালাকু খান খলীফাকে বললো, বাগদাদবাসীকে নির্দেশ দেন যাতে তারা অস্ত্র রেখে দিয়ে বাগদাদের রাস্তায় বেরিয়ে পড়ে। খলীফা তাই করলেন। ফলে লোকেরা নিরাপত্তার আশায় অস্ত্র ফেলে লাইন ধরে রাস্তায় বেরিয়ে গেলেন। কিন্তু এতেও বাগদাদ নগরী হালাকু খানের প্রমত্ত ধ্বংসযজ্ঞ থেকে রক্ষা পেলো না। এসময় হালাকু তার সৈন্যদেরকে লাইনে থাকা নিরস্ত্র সাধারণ লোকদের হত্যা করার নির্দেশ দেন। হত্যাকাণ্ড শেষ হলে হালাকু খান বাগদাদ নগরীর অভ্যন্তরে প্রবেশ করে খলীফা ও তার আত্মীয়-পরিজনসহ নগরীর অসংখ্য নর-নারীকে হত্যা করে। প্রাণভয়ে ভীত বাগদাদের অগণিত নারী-পুরুষের করুণ আর্তিকে উপেক্ষা করে মোঙ্গলবাহিনী বিভৎস হত্যাকাণ্ডের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। শুধু জীবননাশের মধ্য দিয়েই মোঙ্গলবাহিনীর অত্যাচার শেষ হয়নি, তাদের হাতে যুগ যুগ লালিত মুসলিম সাহিত্য-শিল্প ও সংস্কৃতিরও বিলুপ্তি ঘটে।

হালাকু খানের দুর্ধর্ষ বাহিনী। ছবিঃ ইন্টারনেট।

একদল লোক আত্মরক্ষার জন্য ঘরে প্রবেশ করে ভিতর থেকে দরজা বন্ধ করে দিলে তাতারবাহিনী তাদের কারো দরজা ভেঙ্গে এবং কারো দরজায় আগুন দিয়ে পুড়িয়ে বাড়ীতে প্রবেশ করে। অতঃপর গৃহবাসীকে পাকড়াও করে উঁচু ছাদের উপর নিয়ে গিয়ে হত্যা করে। আর তাদের রক্ত ছাদ হতে নালার মত হয়ে নীচে গড়িয়ে পড়তে থাকে।

তাদের আক্রমণের প্রচণ্ডতায় মুসলিম জাতির গৌরবকীর্তি, মুসলিম জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শিক্ষা-সংস্কৃতির কেন্দ্র বাগদাদ নগরী ধূলিস্মাত হয়ে যায়। এভাবে আরব্য রজনীর স্বপ্নপুরী বাগদাদ তার সর্বস্ব হারায়। চল্লিশ দিন ধরে হালাকু বাহিনী তাদের ধ্বংসলীলা অব্যাহত রাখে। তাদের নির্মম হত্যাকাণ্ড থেকে নারী-পুরুষ, শিশু-বৃদ্ধ ও যুবক কেউ রেহাই পায়নি। ইবনু কাছীর (রহঃ) বলেন, মসজিদ, বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদরাসা কিছুই তাদের হাত থেকে রক্ষা পায়নি। কেবল ইহুদী-খৃষ্টান, শীআ-রাফেযী ইবনুল আলকামীর বাড়িতে আশ্রয় গ্রহণকারী ও কিছু ব্যবসায়ী যারা অর্থের নিরাপত্তা গ্রহণ করেছিলো তারাই রক্ষা পেয়েছিল। তারা বহু অর্থ ব্যয় করে নিজেদের ও সম্পদের নিরাপত্তা লাভ করেছিলো।

বাগদাদ ধ্বংসের বর্বরতা সম্পর্কে ব্রাউন বলেন, সম্ভবত কখনোই এতো বড় ও সমৃদ্ধশালী একটি সভ্যতা এতো দ্রুত অগ্নিশিখায় বিধ্বস্ত ও রক্তধারায় নিশ্চিহ্ন হয়নি। মোঙ্গলদের নিষ্ঠুর আক্রমণে অসংখ্য মসজিদ, প্রাসাদ, অট্টালিকা প্রভৃতি নিশ্চিহ্ন হলো। কেবল মুষ্টিমেয় শিল্পী, চিত্রকর এই আক্রমণের কবল থেকে পরিত্রাণ পেয়েছিলো।

তাতার বাহিনীর চল্লিশ দিনের ধ্বংসলীলায় এক লাখ ষাট হাজার থেকে প্রায় দু্লাখ  নারী-পুরুষ নিহত হয়। এই সংখ্যা সলিল সমাধিতে মৃত ও পলায়ন করে নিখোঁজদের ব্যতীত।

খলীফা ও তাঁর সন্তানদের শাহাদত বরণ :

খলীফা মুস্তাছিম বিল্লাহর যেমন মুত্যুর সময় ঘনিয়ে এসেছিলো তেমনি তিনি অদূরদর্শিতার পরিচয়ও দিয়েছিলেন। ফলে আল্লাহ তাঁর হাত থেকে ক্ষমতা ছিনিয়ে নেন। একদা তাতাররা খলীফার বাসভবন চারদিক থেকে ঘিরে ফেললো। তখন খলীফার সামনে এক তরুণী খেলছিলো এবং তাঁকে আনন্দ দিচ্ছিলো। এসময় তাতার সৈন্যের ছুড়া তীর খলীফার জানালা ভেদ করে উক্ত তরুণীকে বিদ্ধ করে। মেয়েটি খলীফার সামনে ব্যথায় কাতরাচ্ছিল। এতে তিনি অস্বস্তি বোধ করেন এবং প্রচণ্ড ভয় পান। তার সামনে তীরটি নিয়ে আসা হলে তিনি দেখেন যে, তাতে লিখা আছে- إِذَا أَرَادَ اللهُ إِنْفَاذَ قَضَائِهِ وَقَدَرِهِ سَلَبَ ذَوِي الْعُقُولِ عُقُولَهُمْআল্লাহ যখন তাঁর ফায়ছালা ও নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে চান তখন জ্ঞানীদের বুদ্ধি-বিবেক ছিনিয়ে নেন। এরপর তিনি নিরাপত্তা বাড়াতে বলেন এবং খলীফার বাড়ি সৈন্য দ্বারা বেষ্টন করে রাখার নির্দেশ দেন

খলীফা মুস্তাছিম বিল্লাহ বহু চেষ্টা করেও প্রাণ রক্ষা করতে পারেন নি। ইসলাম বিদ্বেষী দুই শীআ মন্ত্রীর উস্কানীর কারণে শেষ পর্যন্ত হালাকু খান খলীফার প্রাণ ভিক্ষা দিতেও রাযী হলো না। ইসলাম জগতের খলীফাকে ১৪ই সফর ৬৫৬ হিজরীতে নির্মম ও নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৪ বছর চার মাস। তাঁর খেলাফতকাল ছিল ১৫ বছর ৮ মাস।

জামালুদ্দীন সুলায়মান বিন রতলায়ন বলেন, আমার পিতা বর্ণনা করেন যে, খলীফার সাথে হালাকু খানের ইরাকের অর্ধেক রাজ্য প্রদানের শর্তে চুক্তি প্রায় হয়ে গিয়েছিলো। এমন সময় ইবনুল আলকামী হালাকুকে ইশারা করে বলল, বরং তাঁকে হত্যা করার মধ্যে কল্যাণ রয়েছে। অন্যথা পুরো ইরাক আপনার করতলগত হবে না। হিংস্র তাতাররা খলীফাকে বস্তায় ভরে লাথি মারতে মারতে হত্যা করে। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, তাকে চটের বস্তায় ভরে কুঠার দ্বারা টুকরা টুকরা করে হত্যা করে। তাঁর সাথে তার বড় ছেলে আবুল আববাস আহমাদ ও মেঝো ছেলে আব্দুর রহমানকেও হত্যা করা হয়। আর ছোট ছেলে মুবরারক ও তাদের তিন বোন খাদীজা, মরিয়ম ও ফাতিমাকে বন্দী করে দাসে পরিণত করে। এছাড়া হাজার হাজার কুমারী নারীকে বন্দি করে প্রকাশ্যে তাদের ধর্ষণ করা হয়।

খলীফাকে হত্যা সম্পর্কে ইবনু খালদূন (রহঃ) বলেন, তাদের ধারণামতে বস্তায় ভরে হত্যার কারণ হল- যাতে রক্ত মাটিতে না পড়ে। কারণ তারা জানতো যে, রক্ত মাটিতে পড়লে তাদের উপর আল্লাহর গযব নাযিল হতে পারে। হালাকু খান প্রথমে খলীফাকে সরাসরি হত্যার নির্দেশ দিলে তাকে বলা হয়, যদি তাঁর রক্ত মাটিতে গড়িয়ে পড়ে তাহলে দুনিয়া অন্ধকার হয়ে যাবে এবং আপনার রাজত্ব ধ্বংসের কারণ হবে। কারণ তিনি রাসূল (সা:)-এর বংশধর এবং পৃথিবীর বুকে আল্লাহর খলীফা। তখন ইসলামের শত্রু মানবরূপী শয়তান নাছীরুদ্দীন তূসী দাঁড়িয়ে বললো, তাঁকে এমনভাবে হত্যা করা হোক যাতে রক্ত প্রবাহিত না হয়। ফলে তাকে বস্তায় ভরে লাথি মারতে মারতে হত্যা করা হয়। তাঁকে হত্যার জন্য আনা হলে তিনি এমন চিৎকার দেন যে বাগদাদের আকাশ প্রকম্পিত হয়ে উঠে। খলীফাকে যখন তাতার বাহিনী তাবুতে অবরোধ করে রেখেছিলো তখন তিনি মধুর স্বরে কুরআন তেলাওয়াত করছিলেন।