হাইব্রিড-৭ জাতের আউশ ধানে বিঘায় ফলন ২৩ মণ

প্রকাশিত: ৭:৪৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৯, ২০২১

ব্রি হাইব্রিড-৭ জাতের আউশ ধানে রেকর্ড ফলন হয়েছে। ক্রপ কাটিংয়ে বিঘায় ফলন পাওয়া গেছে ২৩ মণ, যা আউশ মৌসুমের অন্য যেকোনো জাতের চেয়ে অনেক বেশি। ভোলা জেলার রাজাপুর ইউনিয়নে চরমনসা গ্রামের সবুজ বাংলা কৃষি খামারে ব্রি হাইব্রিড-৭ জাতের প্রদর্শনী প্লটের ধান কাটা ও মাঠ দিবসে এ তথ্য পাওয়া যায়। আজ বৃহস্পতিবার কৃষি মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে বলা হয়েছে।

ভোলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবু মো. এনায়েত উল্লাহর সভাপতিত্বে এ বিষয়ে ভোলায় একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আসাদুল্লাহ, ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) মহাপরিচালক ড. মো. শাহজাহান কবীর ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরেজমিন উইংয়ের পরিচালক এ কে এম মনিরুল আলম ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন।

ভোলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, চরমনসা গ্রামের কৃষক মো. ইয়ানুর রহমান বিপ্লবের আট হেক্টর জমির প্রদর্শনী প্লটে ব্রি হাইব্রিড-৭ জাতের বীজ বপন করা হয়েছিল এ বছরের ৮ এপ্রিল। চারা রোপন করা হয়েছিল ৩ মে। আর কম্বাইন হারভেস্টারের মাধ্যমে গতকাল বুধবার ধান কাটা হয়েছে। ১১০ দিনের মধ্যে ধানের বীজ বপন ও কাটার কাজ সম্পন্ন হচ্ছে। হেক্টর প্রতি ধানের ফলন সাত মেট্রিকটন (বিঘায় ২৩ মণ)। আর চালের হিসাবে হেক্টর প্রতি চার দশমিক ৬০ মেট্রিকটন।

শস্য কর্তনের ফলাফলে আরও জানানো হয়, ধান কাটার পর মাঠ থেকেই কাঁচা অবস্থায় ৭৫০ টাকা মণ দরে বিক্রি হয়েছে। হেক্টর প্রতি উৎপাদন খরচ হয়েছে ৬০ হাজার টাকা। খরচ বাদে হেক্টর প্রতি কৃষকের লাভ ৭০ হাজার টাকা। সে হিসাবে আট হেক্টর জমিতে পাঁচ লাখ ৭০ হাজার টাকা লাভ হবে।

উপ-পরিচালক আবু মো. এনায়েত উল্লাহ বলেন, চলমান ২০২১-২২ আউশ মৌসুমে ব্রি থেকে ব্রি হাইব্রিড-৭ জাতের বীজ সংগ্রহ করে কৃষকের মধ্যে বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ভোলায় ১৯৮ হেক্টর জমিতে ব্রি হাইব্রিড-৭ আবাদ হয়েছে। আগামী মৌসুমে কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী বীজ সরবরাহের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আসাদুল্লাহ বলেন, ব্রি হাইব্রিড-৭ জাতের ধান কর্তনের ফলাফল খুবই আশাব্যঞ্জক। আগামী আউশ মৌসুমে এ জাতের ধান চাষ ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। আউশ মৌসুমে বেশি করে এ জাতের ধান চাষ করার জন্য কৃষকদের আহ্বান জানান তিনি।

ব্রির মহাপরিচালক ড. মো. শাহজাহান কবীর বলেন, ‘আউশ মৌসুমে অন্য সব জাতের চেয়ে ব্রি হাইব্রিড-৭ জাতটির ফলন বেশি। আগামী দিনে এ জাতটিকে বিএডিসির মাধ্যমে কৃষকের কাছে সরবরাহ করতে আমরা সচেষ্ট থাকব।’