স্বাস্থ্যবিধি মানতে হিমশিম খাচ্ছে গণপরিবহন

প্রকাশিত: ৬:৩১ পূর্বাহ্ণ, জুন ২, ২০২০

দীর্ঘ সাধারণ ছুটির পর চালু হয়েছে গণপরিবহন। করোনার সংক্রমণ এড়াতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শর্তসাপেক্ষে গণপরিবহন চলাচলের অনুমতি দিয়েছে সরকার। সরেজমিনে দেখা যায়, শুধুমাত্র ট্রেন ছাড়া বাস, লঞ্চ, টেম্পু, অটোরিকশা সব ধরনের গণপরিবহনেই স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত। দূরপাল্লার বাসগুলো অর্ধেক যাত্রী তোলা হলেও বাসের ওঠার সময় যাত্রীদেরকে ঠেলাঠেলি করেই উঠতে দেখা গেছে।

গতকাল দুপুরে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা গেছে, দূরপাল্লার বাসগুলোতে অর্ধেক যাত্রী তোলা হচ্ছে। যাত্রীরা একটা আসন খালি রেখে বসছেন। হেলপাররা আগের মতোই যাত্রীদের টানাহেঁচড়া করে বাসে তুলছেন। কোনো কোনো বাসের ছাদেও নেয়া হচ্ছে যাত্রী। এসময় জীবাণুনাশক ছিটাতে দেখা যায়নি। তবে পরিবহন শ্রমিকরা দাবি করেছেন, বাসগুলো আগেই জীবাণুমুক্ত করা হয়েছে।

সকালে রাজধানীর শ্যামলী, কল্যাণপুর ও কলেজগেট এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, যত্রতত্র যাত্রী উঠানো ও নামানো হচ্ছে। অধিকাংশ পরিবহনে নেই হ্যান্ড স্যানিটাইজার বা জীবানুনাশক স্প্রে’র ব্যবস্থা। হেলপার কিংবা কন্ডাক্টর টেনে টেনে বাসে যাত্রী তুলছেন সেই পুরাতন অভ্যাসেই।

রজনীগন্ধা বাসের চালক জসিম উদ্দিন বলেন, যাত্রী কম। আমরাও মানুষকে ডাকাডাকি করে পরিবহনে তুলছি না। মানুষকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে অনুরোধ করছি। বাসে ওঠার সময় যাত্রীদের কেনো হ্যান্ড স্যানিটাইজার দেওয়া হচ্ছে না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা এখনও মালিক থেকে সেটা বুঝে পাইনি।

তবে তরঙ্গ পরিবহনের যাত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে বের হয়েছি রামপুরার উদ্দেশ্যে। বাধ্য হয়েই বাসে উঠেছি। আসলে যেসব স্বাস্থ্যবিধির কথা বলা হয়েছে সেগুলো পুরোপুরি পালন করা হচ্ছে না। তবে খিলগাঁও রুটের কয়েকটি বাসে স্বাস্থ্যবিধি মানতে দেখা গেছে।

অপরদিকে সামাজিক দূরত্বের বালাই নেই লেগুনা-ইজিবাইক-অটোরিকশায় : এদিকে, সামাজিক দূরত্ব মানা হচ্ছে না লেগুনা, টেম্পু ইজিবাইক ও সিএনজি অটোরিকশায়। একজনের অন্যজনের গা ঘেঁষে বসা, মাস্ক-হ্যান্ড গ্লাভস ব্যবহার না করার পুরনো চিত্র দেখা গেছে রাজধানীজুড়েই।

সদরঘাটে উপচেপড়া ভিড়: অন্যদিকে, সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে গতকাল সোমবার যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। সকাল থেকে ৭৫টি লঞ্চ ছেড়ে গেছে ও ভিড়েছে জানিয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়, ১০ নম্বর পল্টুনে উপচেপড়া ভিড় হওয়ায় সেখানে স্বাস্থ্যবিধি মানা সম্ভব হচ্ছে না। এখান থেকে হাতিয়া ও বেতুয়ার উদ্দেশে লঞ্চ ছাড়ে।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা নদীবন্দর সদরঘাটের যুগ্মপরিচালক আরিফ উদ্দিন বলেন, শুধু ১০ নম্বর পল্টুনে যাত্রীদের ভিড় আছে। এখান থেকে হাতিয়া-বেতুয়ার লঞ্চ ছাড়ে। আজ এই দুটো লঞ্চ ৫টা ও সাড়ে ৫টায় ছাড়ার কথা। যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড়। বাকি পল্টুনগুলোয় স্বাভাবিকের চেয়েও কম যাত্রী আছে। এই লাইনে যে কয়টি লঞ্চ ছাড়ার কথা তার মধ্যে মাত্র একটি যাবে। ফলে উপচেপড়া ভিড় ঠেকানো যাচ্ছে না। স্বাস্থ্যবিধি মানা আমাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। বাকি ঘাটগুলোয় কোনও সমস্যা নেই।

উল্লেখ্য, করোনাকালে বাস চালানোর নতুন নির্দেশনা অনুসারে, একজন যাত্রীকে বাসের দুইটি আসনের একটি আসনে বসিয়ে অপর আসনটি অবশ্যই ফাঁকা রাখতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি অনুসারে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। কোনোভাবেই সংশ্লিষ্ট মোটরযানের রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটে উল্লিখিত মোট আসন সংখ্যার অর্ধেকের বেশি যাত্রী বহন করা যাবে না এবং দাঁড়িয়ে কোনো যাত্রী বহন করা যাবে না।

সূত্র কৃতজ্ঞতা- গণমাধ্যম