স্বাস্থ্যখাতে অপ্রতুল বরাদ্দে সংসদে জি এম কাদেরের ক্ষোভ

প্রকাশিত: ৯:৫৬ অপরাহ্ণ, জুন ১৫, ২০২০

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের করোনাকালেও বাজেটে বরাদ্দের টাকা খরচ করতে না পারা এবং প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির অপ্রতুলতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, কোভিড-১৯ মোকাবিলায় (বাজেটে) সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা যদি না থাকে, নির্দেশনাহীন অর্থবরাদ্দ (পরিস্থিতি মোকাবিলায়) কতটা কার্যকর হবে তাতে সন্দেহের অবকাশ আছে।

এ সময় দেশের হাসপাতালগুলোতে বিরাজমান চিকিৎসা সংকট, হাসপাতাল পরিচালনায় অব্যবস্থাপনা ও ক্রয়খাতে অনিয়মের চিত্র তুলে ধরে এসব নিরসনে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানান তিনি। লালমনিরহাটের স্থানীয় জেলা হাসপাতাল, রংপুর বিভাগীয় হাসপাতালসহ দেশের হাসপাতালগুলোর অব্যবস্থাপনার বিভিন্ন চিত্র তুলে ধরেন।

জাতীয় সংসদের চলমান বাজেট অধিবেশনের তৃতীয় দিনে সোমবার চলতি অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি হাসপাতালের অব্যস্থাপনার চিত্র তুলে ধরেন।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের এ সময় চলতি অর্থবছরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বরাদ্দের অর্থ পুরোটা খরচ করতে না পারায় কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অদক্ষতার কারণে তারা বরাদ্দ অর্থ খরচ করতে পারে নি। সেজন্য তাদের সম্পূরক বাজেট দাবি করতে হয় নি। এমনকি এজন্য নতুন অর্থবছরে তাদের বরাদ্দ তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে।

তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরে স্বাস্থ্যখাতে ১০ হাজার কোটি টাকার মতো উন্নয়ন ব্যয় ছিলো, তা কমিয়ে সাত হাজার ৭০০ কোটি টাকার মতো করা হয়। তারা আড়াই হাজার কোটি টাকা খরচ করতে পারে নি। এর অর্থ হাসপাতালগুলোতে যথাযথ সুযোগসুবিধা দেয়া হয় নি। স্বাস্থ্যখাতের বরাদ্দের চিত্র দেখলে মনে হয় উন্নয়নের দরকার ছিলো কিনা, তা তাদের সন্দেহ ছিলো।

বিরোধী দলের উপনেতা আরও বলেন, বর্তমানে কোভিড-১৯ এর কারণে সারাবিশ্বে স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টি সকলের উদ্বেগের বিষয়। বাংলাদেশের যেকোনো মানুষকে এখন জিজ্ঞাসা করলে তারা এককথায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে গুরুত্ব দেয়ার কথা বলবে। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি সম্পূরক বাজেটে তাদের কোনো সংশোধনী বাজেট নেই। তাদের সম্পূরক বাজেট দাবি করতে হয় নি। বাস্তবতা হলো তাদের বাজেট বরাদ্দের চেয়ে খরচ হয়েছে কম। চলতি অর্থবছরে ২৫ হাজার ৭৫৩ কোটি টাকা তাদের বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তারা খরচ করতে পেয়েছে ২৩ হাজার ৬৯২ কোটি টাকা। দুই হাজার ৪১ কোটি টাকা তাদের খরচ কমানো হয়েছে।

জিএম কাদের দেশের হাসপাতালগুলোর চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে নিজের নির্বাচনী এলাকার লালমনিরহাটের হাসপাতালের চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সেখানে হাসপাতালে ৩৯টি চিকিৎসক পদের মধ্যে ১১ জন কর্মরত, ৫৪ জন কর্মচারীর মধ্যে কর্মরত ৩৭ জন। এখানে প্রয়োজনীয় ২২ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর মধ্যে চারটি পদ আছে।

একশ শয্যার হাসপাতালকে ২৫০ উন্নীত করা হয়েছে। লোকবল বাড়ানো হয় নি। হাসপাতালে ২২ জন ওয়ার্ডবয় ও সমান সংখ্যক আয়ার দরকার হলেও কোনো পদ নেই। নিরাপত্তাপ্রহরীর পদ নেই। হাসপাতাল থেকে বিভিন্ন সময় মন্ত্রণালয়কে এটা জানালে কোনো সুরাহা হয় নি। এরমধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে সরবরাহকৃত এক্সরে মেশিনসহ বিভিন্ন আধুনিক যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হলেও তা কিছুদিনের মধ্যেই অকার্যকর হয়ে পড়েছে। এরপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শুধু চিঠি চালাচালি হয়। কিন্তু কোন কাজ হয়না।

এছাড়া বিভিন্ন হাসপাতালে দুর্নীতির অভিযোগ আসার প্রেক্ষিতে হাসপাতালগুলোতে বিরাজমান চিকিৎসা সংকট, হাসপাতাল পরিচালনায় অব্যবস্থাপনা ও ক্রয়খাতে অনিয়মের চিত্র তুলে ধরে এসব নিরসনে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানান তিনি। একই সাথে ওই কমিটির সুপারিশের আলোকে হাসপাতালগুলোর কী প্রয়োজন তার বাস্তবায়নের দাবি জানান তিনি।