সেন্টিনেলঃ রহস্যময় এক দ্বীপ

আমজাদ হোসাইন

প্রকাশিত: ১১:৪৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ৮, ২০২০

 

মানুষ স্বভাবতই অজানাকে জানতে আগ্রহী এবং অদেখাকে দেখতে জীবন বাজি রাখতেও প্রস্তুত অনেকে। ভ্রমণপিপাসু  ও থ্রিলারপ্রিয় মানুষেরা সব সময় নতুন, অজানা, রহস্যময় ও নিষিদ্ধ কোনো কিছুর নাম শুনলেই নড়েচড়ে বসেন৷ অদৃশ্য এক আকর্ষণ তাঁদেরকে হাতছানি দিয়ে ডাকে। এমনি একটি নিষিদ্ধ জায়গা নিয়ে আজকের আলোচনা৷ যেখানে লুকিয়ে আছে বহু রহস্য, যা আজও আধুনিক বিশ্বের মানুষদের কাছে অজানা। রহস্য ঘেরা এই দ্বীপটির অবস্থান আমাদের বঙ্গোপসাগরেই; যার সন্ধান হয়তো আমরা অনেকেই জানি না। জানি না সেই দ্বীপের বাসিন্দাদের কথা। এই দ্বীপবাসীরা দেখতে কেমন, কী ধরণের জীবন-যাপনে তারা অভ্যস্ত বা বহির্বিশ্ব সম্পর্কে তাদের ধরণা কেমন; সে সম্পর্কেও কিছুই জানার সুযোগ নেই।

 

আধুনিক বিশ্ব বা বিশ্বে বসবাসরত অন্যান্য জাতি সম্পর্কে তাদের আদৌ কোনা ধারণা আছে বলেও মনে হয় না। এই পৃথিবীর অধিবাসী হয়েও তারা এই দীর্ঘ সময় ধরে সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে টিকে রয়েছে বঙ্গোপসাগরের বুকে ছোট্ট এক নির্জন দ্বীপে। সত্যিই এটি একটি অপার রহস্য! এই দ্বীপের মানুষগুলো নিজেরাই চায় না বাইরের পৃথিবীর মানুষ তাদের রহস্য ভেদ করুক, তাদের সম্পর্কে জানুক বা যোগাযোগ করুক তাদের সাথে। তারা পৃথিবীর অন্য সব মানুষের চোখের আড়ালবর্তী হয়েই বাঁচতে চায়। হাজার হাজার বছর ধরে তারা বাইরের মানুষের কৌতূহলী দৃষ্টি ও জানার আগ্রহকে অত্যন্ত কঠোরভাবে উপেক্ষা করে নিজেদের স্বাতন্ত্র বজায় রেখে চলেছে। তাদের সীমানায় বা তাদের জীবনে উঁকি দেওয়ার অধিকার আজও কোনা মানুষ, জাতি বা দেশ অর্জন করতে পারেনি। তাদেরও বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই অবশিষ্ট পৃথিবী বা পৃথিবীর মানুষদের নিয়ে। বহু চেষ্টা করেও সেই দ্বীপের জমিতে পা রাখতে বা তার সৌন্দর্য অবলোকন করতে পারেনি আধুনিক বিশ্বের কোনো মানুষ। তাই এটি একটি নিষিদ্ধ দ্বীপ হিসেবেই পরিচিত।

 

 

আলোচিত এই দ্বীপটির নাম, “সেন্টিনেল দ্বীপ”। আধুনিক প্রযুক্তির এই যুগে যেখানে সাগরের তলদেশ থেকে মহাকাশ পর্যন্ত সবখানেই বিজ্ঞানের জয়জয়কার। সবকিছুই মানুষের নখদর্পণে। সেখানে বঙ্গোপসাগরের বুকে জেগে থাকা এই দ্বীপটি এখনো বলতে গেলে অনাবিষ্কৃতই রয়ে গেছে। দ্বীপের সন্ধান পাওয়া গেলেও, দ্বীপটি সম্পর্কে জানা যায়নি তেমন কোনো তথ্য। নৃতাত্ত্বিকদের মতে, দ্বীপটির বয়স প্রায় ৬০ হাজার বছর।

 

ভৌগোলিক অবস্থান হিসেবে এবং কাগজে কলমে দ্বীপটি ভারতের অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু দ্বীপের ওপর ভারতের আদৌ কোনো কর্তৃত্ব নেই। অনেকবার চেষ্টা করেও দ্বীপটি সম্পর্কে তেমন কিছু জানতে পারেনি ভারত সরকার নিজেও। এমনকি বহুবার চেষ্টা করেও তারা এ দ্বীপটিতে ঢুকতে ব্যর্থ হয়েছে। কেউ ঢুকতে গেলেই তারা সেখানকার অধিবাসীদের হিংস্রতার শিকার হয়। শেষমেশ ভারত সরকার বাধ্য হয়েই আইন করে দিয়েছে, “লেট দেম লিভ অ্যালোন”। তাই কেউ এখন আর তাদের নির্জনতা, গোপনীয়তা, রহস্যময়তা, স্বাধীনতা ও স্বকীয়তা ভঙ্গ করার কোনা অধিকার রাখে না। দ্বীপের বাসিন্দারাও সেই অধিকার কাউকেই দিতে চায় না। তারা নিজেই রাজা তাদের নিজের রাজত্বে। ভুল করে, দুর্ঘটনার কারণে, বা পথ হারিয়ে কেউ সেখানে প্রবেশ করলে তাদেরকে হত্যা করা হয় নৃশংসভাবে। এমনকি হেলিকপ্টারও সেখানে ল্যান্ড করতে সাহস পায় না। দ্বীপে হেলিকপ্টার নামলে, নৌকা বা জাহাজ ভিড়তে চাইলে তারা দৌড়ে গিয়ে তীর-ধনুক দিয়ে তাদের ওপর আক্রমণ চালায়। কাউকে পেলে পানিতে ডুবিয়ে হত্যা করে।

 

 

এখানে বসবাসকারীদেরকে দ্বীপের সাথে সম্বোধন করে সেন্টিনেলি বলা হয়৷ জাতিতে এরা বঙ্গোপসাগরের আন্দামান দ্বীপপুঞ্জে বসবাসরত দক্ষিণ এশীয় আন্দামানি আদিবাসী জনগোষ্ঠীগুলোর একটি। গ্রেট আন্দামান উত্তর সেন্টিনেলী দ্বীপপুঞ্জে এই জনগোষ্ঠীর বসবাস৷ ধারণা করা হয় প্রস্তর যুগ থেকেই এই দ্বীপে তাদের বসবাস চলে আসছে। বহিরাগতদের ওপর আক্রমণাত্মক মনোভাবের জন্য তারা বিশেষভাবে পরিচিত। এ কারণে কেউই সফলভাবে এই দ্বীপে যেতে পারে নি। বাইরের জগতের কারও নাক গলানো মোটেও সহ্য করে না এখানকার বাসিন্দারা। এরা মূলত একটি শিকার-নির্ভর জাতি।

 

বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ শিকার, মাছ ধরা ও বন্য লতাপাতার মাধ্যমে সংগ্রহ করে। সামুদ্রিক মাছ, প্রাণী ও দ্বীপের উদ্ভিদই সম্ভবত তাদের খাদ্য। এখন পর্যন্ত তাদের মাঝে কৃষিকাজ করার কোনা প্রমাণ দেখা যায় না। এদের কুড়েঘরগুলোর কোনো দেয়াল নেই, ঘরের মাথার ওপর থেকে ছাউনিটি চারপার্শে একেবারে মাটি পর্যন্ত প্রসারিত করা হয়। আশপাশে কুড়িয়ে পাওয়া ধাতব সামগ্রী দিয়ে অল্প কিছু জিনিস বানাতে পারলেও ধাতু দিয়ে তেমন কিছু বানাতে পারে না। তবে সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপার হলো আজও হয়তো তারা আগুন জ্বালাতে শেখেনি।

 

 

স্যাটেলাইট থেকে এর অবস্থান সম্পর্কে যতটুকু জানা যায়, এটি স্মিথ দ্বীপের প্রায় ২০ মাইল পশ্চিমে অবস্থিত৷ দ্বীপটি প্রবাল প্রাচীর দ্বারা বেষ্টিত এবং ঘন সবুজ বনভূমে ঘেরা৷ দ্বীপটি ঘিরে রয়েছে একটি সংকীর্ণ সমুদ্র সৈকত। যার মহীসোপান প্রায় ২০ মিটার থেকে ১২২ মিটার। দ্বীপের চারপাশের প্রবাল প্রাচীরগুলো ৪০০ থেকে ১২৯০ মিটার পর্যন্ত প্রসারিত। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা প্রায় ১২২ মিটার। রাজধানী পোর্ট ব্লেয়ার থেকে মাত্র ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই দ্বীপে আজও পৌঁছাতে পারেনি রাজধানীর আধুনিকতার ছোঁয়া। সেন্টিনেলরা তাঁদের অঞ্চলে, তাঁদের সব বিষয়ে অবাধ স্বাধীনতা ভোগ করে। এখন পর্যন্ত সঠিকভাবে সেন্টিনেলিদের জনসংখ্যার কোনো পরিসংখ্যান পাওয়া যায় না।

 

ধারণা অনুযায়ী এদের জনসংখ্যা সর্বনিম্ন ৩৯ থেকে ২৫০-এর মধ্যে, এবং সর্বোচ্চ ৫০০ পর্যন্ত হতে পারে। ২০০১ সালে পরিচালিত ভারতের জনপরিসংখ্যানে ৩৯ জন পৃথক ব্যক্তির উপস্থিতি রেকর্ড করা হয় যাদের মাঝে ২১ জন পুরুষ ও ১৮ জন নারী। নিরপত্তাজনিত কারণে এই জরিপটি প্রয়োজনের চেয়েও বেশি দূর থেকে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে পরিচালনা করা হয়েছিলো৷ উল্লেখযোগ্য জনসংখ্যার অঞ্চলসমূহ মূলত উত্তর সেন্টিনেলি দ্বীপপুঞ্জে৷ নৌকা এবং হেলিকপ্টার থেকে বছরের পর বছর নজর রেখেও তাদের সম্পর্কে একেবারেই অল্প ধারণা পেয়েছেন নৃতত্ত্ববিদেরা। এদের ভাষার নাম দেওয়া হয়েছে ‘সেন্টিনেলি’। ধারণা করা হয়, এটি আন্দামানি ভাষাগুলোর একটি।

 

সেন্টিনেলিদের ধর্ম সম্পর্কে স্পষ্ট বা অস্পষ্ট কোনো ধারণাই পাওয়া যায় না। তাদের সংশ্লিষ্ট কোনো জাতিগোষ্ঠী সম্পর্কেও তেমন জানা যায় না। তবে আন্দামানের আদিবাসী ‘ওঙ্গে’দের সঙ্গে এদের ভাষার কিছুটা মিল পাওয়া যায়। কিন্তু সেন্টিনেলের সবচেয়ে কাছের উপজাতি ‘ওঙ্গে’দের পক্ষেও তাদের ভাষা বোঝা মুশকিল। তাদের ভাষা ‘সেন্টিনেলি’ সম্পর্কে সঠিক তথ্য সংগ্রহ করা এখন পর্যন্ত সম্ভব হয়নি, তবে ধারণা করা হয় এটি আন্দামানি ভাষাগুলোর একটি৷

 

 

আদিম এই উপজাতির সঙ্গে সভ্য মানুষের প্রথম সাক্ষাৎ হয় ১৮৮০ সালে। ব্রিটিশ নৃতত্ত্ববিদ এম ভি পোর্টম্যানের নেতৃত্বে একটি দল ওই দ্বীপে গিয়ে উপজাতিদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করেন। উপজাতিদের এক প্রৌঢ় দম্পতি এবং চার শিশুকে তুলে নিয়ে আসেন পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য। তাদের নতুন পোশাক ও খাবার দেওয়া হয়। কথা বলানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু প্রাপ্তবয়স্ক দুজনকে দ্বীপ থেকে আনার পরপরই মারা যায়। বাকিদের কিছুদিন রাখার পর কোনা তথ্য না পেয়ে তাদেরকে আবার দ্বীপে রেখে আসা হয়। এই ঘটনার পর আধুনিক সমাজের প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে সেন্টিনেলরা। ১৯৭৫ সালে ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের একজন চিত্রগ্রাহক তথ্যচিত্র বানানোর জন্য গিয়েছিলেন সেন্টিনেল দ্বীপে। উপজাতিদের বিষমাখানো তীরের আঘাতে তিনি মারাত্মক ভাবে জখম হোন।

 

১৯৬৭ সালে থেকেই ভারত সরকার সেন্টিনেলিদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করে যাচ্ছিলো। ভারতীয় নৃতত্ত্ববিদ ত্রিলোক নাথ পণ্ডিতই প্রথমবারের মতো ১৯৯১ সালের ৪ জানুয়ারি দ্বীপটিতে নিজে গিয়ে সেন্টিনেলদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ যোগাযোগ স্থাপন করার চেষ্টা করেন, কিন্তু সেই চেষ্টা সফল হয়নি। যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা হিসেবে দ্বীপটির তীরে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন উপহার যেমন:- খাবার, পোশাক ইত্যাদি রেখে আসা হতো। কিন্তু তাতে তাদের হিংস্র মানসিকতার কোনা পরিবর্তন হয়নি। দ্বীপের কাছে কোনো নৌকা বা উপরে কোনো হেলিকপ্টার দেখলেই তারা তীর, পাথর বা বর্শা জাতীয় অস্ত্র ছুড়ে মারে। বাইরের মানুষকে তারা তাদের রাজ্যে প্রবেশের কোনো অনুমতি দেয়নি।

 

প্রতিবারই অনুপ্রবেশকারীরা তাদের আক্রমণের শিকার হয়েছে। মৃত্যুও হয়েছে অনেকের। ২০০৪ সালে ভারত মহাসাগরে সংঘটিত ভূকম্পন ও সংশ্লিষ্ট সুনামির ফলে দ্বীপটি বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সুনামির পর হেলিকপ্টারে নর্থ সেন্টিনেল আইল্যান্ডে ত্রাণ নিয়ে গিয়েছিলো ভারত সরকার। সে ত্রাণ গ্রহণ করার বদলে তারা উল্টো আক্রমণ চালায়। তবে অনুমান করা হয়, কিছুদিনের মধ্যেই দ্বীপের বাসিন্দারা সুনামির ধাক্কাটি কাটিয়ে উঠেছিলো। কারণ সুনামির পরপরই হেলিকপ্টার থেকে দ্বীপের বাসিন্দাদেরকে তাদের স্বাভাবিক কাজে ব্যস্ত দেখতে পাওয়া যায়। অবশেষে তাদের বিরক্ত না করারই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

 

২০০৬ সালে সেন্টিনেল তিরন্দাজরা তাঁদের দ্বীপে অনুপ্রবেশকারী দুজন জেলেকে তীর মেরে হত্যা করে মাটি চাপা দেয়। উদ্ধার অভিযানে আসা হেলিকপ্টার থেকে হেলিকপ্টারের পাখার ঘূর্ণনে সৃষ্ট প্রবল বাতাসের তোড়ে অগভীর কবরের মাটি সরে গিয়ে ওই দুজন জেলের মৃতদেহও দেখা গিয়েছিল। কিন্তু সেন্টিনেল তিরন্দাজরা মরদেহ উদ্ধারে আসা হেলিকপ্টারটিকেও তীর মেরে হটিয়ে দেয়৷ নিজেদের ঘেরাটোপের বাইরের অজানা জগৎ সম্পর্কে নির্বিকার, উদাসীন এই মানুষগুলো শুধু তাদের মতো করেই বাঁচতে চায়। কিন্তু তাদের চৌহদ্দির ভেতরে কেউ নাক গলাতে এলে তার সমুচিত জবাব দিতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করে না তারা। তারই জের ধরে সম্প্রতি এক মার্কিন ধর্মযাজক ফের এই উপজাতিদের শিকারে পরিণত হন।

 

খ্রিষ্টধর্ম প্রচারের অভিলাষেই তিনি ওই নিষিদ্ধ দ্বীপে গিয়েছিলেন বলে জানা যায়। মার্কিন যাজকের খুব ইচ্ছে ছিলো আদিম আদিবাসীদের ধর্মান্তরিত করবেন। সাতাশ বছর বয়সের ওই পর্যটক জন অ্যালেন চাওকে তীর ছুড়ে হত্যা করেছিল সেন্টিনেলিরা। আর এই আমেরিকান ধর্মযাজকের নিখোঁজ ও হত্যার খবর দিয়েই আবার নতুন করে আলোচনায় আসে সেন্টিনেলিরা। যেহেতু তাদের বিরুদ্ধে মামলা করারও অধিকার রাখে না ভারত সরকার; তাই আমেরিকান ধর্মযাজকের মৃত্যুর ব্যাপারেও কোনা পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভবপর ছিল না।

 

দ্বীপবাসীর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য তাদের এলাকায় প্রবেশ বেআইনি জেনেও এই ধর্মযাজক সেখানে অনুপ্রবেশ করেছিলেন। ‘২০১৭ সালে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে তাদের নিয়ে কোনোরকম ভিডিও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে আপলোড করাও নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল।’ ঘটনাটি ঘটেছে ২০১৮ সালের ১৬ নভেম্বর মাসে। ধর্মযাজক জনের লাশের অনুসন্ধান চালানো হলেও প্রশাসন সেখানে হেলিকপ্টার নামাতে ভয় পাচ্ছিলো। তবে যে ছয়জন মৎস্যজীবীর সহায়তায় এই তরুণ মার্কিন যাজক সেখানে পৌঁছেছিলেন তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সেই যাজক দ্বীপে নামার পরপরই জঙ্গল থেকে বিষাক্ত তীর ছুটে আসতে থাকে। এই অবস্থাতেও তিনি ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করেন। এরপর সেন্টিনেলিরা তাকে বেঁধে টেনে ভেতরের দিকে নিয়ে যেতে দেখেছেন মৎস্যজীবীরা। দূর থেকে সেই দৃশ্য দেখেই তারা পালিয়ে এসেছে।

 

এভাবেই আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে এই রহস্যময় দ্বীপ আর দ্বীপবাসীরা। সেন্টিনেলিদের ওপর গবেষণা করছেন এমন নৃতত্ত্ববিদরা লক্ষ্য করেছেন যে, মৃতদেহ পুঁতে দেওয়ার কয়েক দিন পরে আদিবাসীরা সেই জায়গাতে ফিরে এসে কবর খুঁড়ে সেই দেহ বের করে। তারপর মৃতদেহকে বাঁশের সঙ্গে বেঁধে সমুদ্রের ধারে দাঁড় করিয়ে রাখে। এ ভাবেই তারা বহিরাগতদের ইঙ্গিত দেয়; অনুপ্রবেশকারীরা সাবধান! এখানে এলে তোমাদেরও এই হাল হবে।