সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি: প্লাবিত ১১ উপজেলা

প্রকাশিত: ১:৪৭ অপরাহ্ণ, জুন ২৮, ২০২০

গত কয়েকদিনের অতিবৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের হাটবাজার, রাস্তাঘাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এমনকি বসতবাড়িতেও হাঁটু সমান পানি ঢুকে শহরের বেশিরভাগ এলাকার মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছে। একদিকে নভেল করোনাভাইরাসের আতঙ্ক, অন্যদিকে বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় অস্বস্তিতে পড়েছে শহরের মানুষ।

একইভাবে জেলার ১১টি উপজেলা সদর ও নিম্নাঞ্চলের গ্রামগুলোতে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। এর ফলে জেলায় কয়েক লাখ মানুষ এখন পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। কয়েকটি আঞ্চলিক সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায়, সুনামগঞ্জ সদরের সঙ্গে তিন উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বিছিন্ন হয়ে পড়েছে। এদিকে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন ১১টি উপজেলা কমপ্লেক্স ভবন আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে খুলে দিয়েছে। একইসঙ্গে বন্যাকবলিত এলাকায় ৪১০ মেট্রিক টন চাল এবং ২৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়েছে।

সুনামগঞ্জের সুরমা নদীর পানি ষোলঘর পয়েন্ট দিয়ে ৬৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাবিবুর রহমান জানান- গত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ১৯০ মিলিমিটার, যা গত শুক্রবার ছিলো ১৫৩ মিলিমিটার। সুরমা নদীর পানি গতকাল শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় বিপৎসীমার ৬৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। যাদুকাটা নদীর পানি ৫৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

মো. সাবিবুর রহমান বলেন, ‘ভারতের চেরাপঞ্জিতে প্রবল বৃষ্টিপাত হচ্ছে আর সে বৃষ্টি আমাদের নদ-নদীতে এসে বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। গত শুক্রবার ভারতের চেরাপঞ্জিতে ৭২ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৯০২ মিলিমিটার।

সুনামগঞ্জ পৌর মেয়র নাদের বখত বলেন, ‘সারা দিন পৌর এলাকায় ঘুরে দেখেছি, শহরের অর্ধেক বাড়িঘরে ও দোকানে পানি উঠেছে।’