সুনামগঞ্জে ফের বন্যা, ভেসে গেছে প্রায় ২৫ কোটি টাকার মাছ

প্রকাশিত: ৪:২৫ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ১১, ২০২০

সপ্তাহের ব্যবধানে সুনামগঞ্জ জেলা আবার বন্যার কবলে পড়েছে। গত দুদিনে আবারও অতিবৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জেলার সবকটি নদনদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। প্রায় দুই হাজার ৮৬৬টি পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। এতে মাছচাষিরা প্রায় ২৫ কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

গতকাল শুক্রবার সকাল ৯টায় সুরমা নদীর পানি ষোলঘর পয়েন্ট দিয়ে বিপদসীমার ১৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং গত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জে ১৮৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

জেলার সুনামগঞ্জ সদর, তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, দোয়ারাবাজার, ছাতক এবং জামালগঞ্জের নদী তীরবর্তী এলাকা তলিয়ে গিয়ে নতুন করে বন্যা দেখা দেওয়ায় বিপাকে পড়েছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিবুর রহমান বলেন- ‘আগামী তিন থেকে চার দিন টানা ভারি বর্ষণ অব্যাহত থাকবে। তাই বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে। সুরমাসহ সবকটি নদনদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সুরমা নদীর পানি গতকাল সকাল ৯টায় ষোলঘর পয়েন্ট দিয়ে বিপদসীমার ১৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।’

গত ২৫ জুন প্রথম দফায় সৃষ্ট বন্যার কারণে তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, জামালগঞ্জ ও দোয়ারাবাজারের মূল সড়ক ভেঙে গিয়ে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। জেলার প্রায় ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সড়ক ও জনপথের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম বলেন – ‘এবারের বন্যার পানিতে সুনামঞ্জের কয়েক উপজেলার ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কিছু কিছু স্থানে বালুর বস্তা ফেলে মানুষের চলাচলের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বন্যার পানি নেমে গেলে দ্রুত সব সড়কের কাজ করা হবে।’

এদিকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষিরা জানান, জেলায় প্রায় ২৫ কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে। ছোট মৎস্যজীবীর যেমন লাখ টাকার মাছ ভেসে গেছে, একইভাবে ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকার এক পুকুর মালিকের মাছও ভেসে গেছে।