ঢাকা, শনিবার ২৩শে অক্টোবর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই কার্তিক, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৬ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৩ হিজরি

সালাম ও তার জবাবের উত্তম পদ্ধতি


প্রকাশিত: ১০:০৯ অপরাহ্ণ, জুন ১৩, ২০২০

সালাম হল মুসলমানদের অভিবাদনের অন্যতম মাধ্যম। সালামের মাধ্যমে আমরা পরস্পর পরস্পরকে সম্ভাষণ করে থাকি। আর আমাদের সম্ভাষণ যদি সুন্নাহ সম্মত পদ্ধতিতে হয় তবে সেটা কতই না উত্তম হয়। আসুন আমরা জেনে নেই সালাম ও এর জবাব দেয়ার পদ্ধতি।

সালাম দেয়ার পদ্ধতি:

সালামের সর্বনিম্ন শব্দ হল: (السلام عليكم) আসসালামু আলাইকুম বলা। যাকে সালাম দেয়া হচ্ছে সে যদি একক ব্যক্তি হয়, তবে তার জন্য সর্ব নিম্ন শব্দ হল: (السلام عليك) আসসালামু আলায়কা বলা। তবে এক্ষেত্রে উত্তম হল (السلام عليكم) বলা যাতে করে এ সালাম তাকে ও তার দুই ফেরেশতাকেও শামিল করে। এর চেয়েও পূর্ণাঙ্গরূপ হল: (ورحمة الله) ওয়া রহমাতুল্লাহ বৃদ্ধি করে বলা, অনুরূপ ভাবে (وبركاته) ওয়া বারাকাতুহু শব্দ বৃদ্ধি করে বলা আরও উত্তম। যদি কেউ (سلام عليكم) সালামুন আলাইকুম বলে তবুও তা তার জন্য যথেষ্ট হবে।

সালামের জবাব:

সালামের জওয়াব দেয়ার সর্বোত্তম ও পূর্নাঙ্গ পদ্ধতি হল: ( وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته)ওয়া আলাইকুমাসসালাম ওয়া রহমাতুল্লাহে ওয়া বারাকাতুহ্‌ বলা। অর্থাৎ আলাইকুম, এর পূর্বে (و) ওয়াও অক্ষরটি উল্লেখ করবে। তা বাদ দিলেও জায়েজ আছে তবে সেটা উত্তম পদ্ধতি হবে না। কেউ যদি সালামের জবাবে শুধু ওয়া আলাই কুমুস্‌ সালাম বলে তবে তা যথেষ্ট হবে। তবে যদি শুধু (عليكم) আলাইকুম বলে তবে সকল বিদ্বানের নিকটেই তা যথেষ্ট হবে না।

সালামের স্তর:
তিনটি স্তরে সালাম বিভক্ত:
১) সর্বোচ্চ, পূর্ণাঙ্গ ও সর্বোত্তম রূপ হল: (السلام عليكم ورحمة الله وبركاته) আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহে ওয়া বারাকাতুহু বলা।
২) এর তার চেয়ে নিম্ন পর্যায়ের হল (আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ্‌) বলা।
৩) সবচেয়ে নিম্ন পর্যায়ের হল: আসসালামু আলাইকুম বলা।

মুসলিম ব্যক্তি হয় পূর্ণাঙ্গ নেকী নিবে অথবা তার চেয়ে কম নেকী নিবে অর্থাৎ সালাম অনুযায়ী সে কম বেশী সওয়াব পাবে। এজন্যই হাদীছে এসেছে যে,
عن عِمران بن الحصين رضي الله عنهما قَالَ: جاءَ رجُلٌ إِلَى النَّبيِّ ﷺ فَقَالَ: “السَّلامُ عَلَيكُم”، فَرَدَّ عَلَيْهِ، ثُمَّ جَلَسَ، فَقَالَ النبيُّ ﷺ: عَشْرٌ، ثُمَّ جَاءَ آخَرُ فَقَالَ: “السَّلامُ عَلَيكُم وَرَحْمَةُ اللهِ”، فَرَدَّ عليهِ، فَجَلَسَ، فَقَالَ: عِشْرون، ثُمَّ جَاءَ آخَرُ فَقَالَ: “السَّلامُ عَلَيكُم وَرَحْمَةُ الله وَبَرَكَاتُه”، فَرَدَّ عليهِ، فَجَلَسَ، فَقَالَ: ثَلاثُونَ. رواه أَبُو داود والترمذي وقال: حديثٌ حسنٌ.

ইমরান ইবনুল হুসাইন রা. হতে বর্ণিত, একজন ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করল অতঃপর আসসালামু আলাইকুম বলল।
তখন নবী সাল্লাল্লাহু আরাইহি ওয়া সাল্লাম মসজিদে বসে ছিলেন, সাহাবায়ে কেরাম তার সাথেই ছিলেন।
নবী সাল্লাল্লাহু আরাইহি ওয়া সাল্লাম উত্তরে বললেন: (ওয়া আলাইকুমুস সালাম) তুমি ১০টি নেকি পেয়েছ।

এরপর অপর এক ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করত: ”আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ্‌” বলল।
নবী সাল্লাল্লাহু আরাইহি ওয়া সাল্লাম জবাবে বললেন: ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহ্‌মাতুল্লাহ্‌। তুমি ২০টি নেকি পেয়েছো।
অতঃপর আরও একজন ব্যক্তি প্রবেশ করত: ”বলল আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।”

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহে ওয়া বারাকাতুহ্‌ – তুমি পেয়েছো ৩০টি নেকি।

আল্লাহ আমাদের সুন্নাহ সম্মত পন্থায় সালাম দেয়া ও সালামের জবাব দেয়ার তাওফিক দান করুন।

ফুটনোটঃ(আবূ দাউদ, তিরমিযী হাসান সূত্রে) (তিরমিযী ২৬৮৯, আবূ দাউদ ৫১৯৫, আহমাদ ১৯৪৪৬, দারেমী ২৬৪০) (রিয়াদুস সলেহিন, হাদিস নং ৮৫৫ হাদিসের মান: সহিহ হাদিস।)

– মোয়াজ্জেম হোসাইন