শ্রেণী বৈষম্য: এক নিদারুণ বাস্তবতা

প্রকাশিত: ১০:৪০ অপরাহ্ণ, জুন ১৪, ২০২০

 

লিখেছেনঃ নূরুল হুদা।

 

শফিক ভালো ছাত্র। কোন এক কারণে সে এক প্রতিষ্ঠান থেকে বহিষ্কার হয়। পরের বছর সে ঐখানে আবার ভর্তি হতে আসে,ইন্টারভিউ দিয়ে টিকে যায়। কিন্তু শফিকের চেহারা যেহেতু কালো,আর্থিকভাবে তেমন স্বচ্ছল নয়,মামা খালুও নেই। তাই শফিকের ভর্তি আটকে যায়। প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র টিচারের সুপারিশেও কোন কাজ হলো না। বেচারা শফিক কাঁদতে কাঁদতে বিদায় নিলো।

 

গল্পের অপর দৃশ্য:

 

রফিক ভালো ছাত্র। একই অপরাধে সেও বহিষ্কার হয়। নতুন শিক্ষাবর্ষে সে যখন আরেক প্রতিষ্ঠানে ইতিমধ্যেই ভর্তি হয়ে গেছে,তখনই তাকে পূর্বের প্রতিষ্ঠানে নিয়ে আসা হয়। ক্ষমতাসীনের এক সাইনেই তার ভর্তি কমপ্লিট। বলাবাহুল্য, রফিকের চেহারা খুব সুন্দর। ঢাকা শহরের প্রাণকেন্দ্রে তার বাবার বাড়ি আছে। তার মামা খালুর ও অভাব নেই। যার ফলে,অপরাধ এক হলেও ক্ষমতার অপব্যবহার করে তার কার্য সিদ্ধ হয়ে যায়। তাকে শেল্টার দিয়ে কিছু পয়সাকড়ি পায় অদৃশ্য চাটুকার।

 

এদিকে শফিক এসব দেখে খেই হারিয়ে ফেলে,আফসোস করে বলতে থাকে-

“হায়রে ভোজনালয়! তোমার স্কন্ধে বসিয়া ভণ্ড গাহে স্বার্থের গান”

 

আমরা যারা নিরীহ দর্শক আছি,শুধু চেয়ে থাকি। আমাদের হাত-পা বাঁধা থাকে। শ্রেণীবৈষম্য আর ঘৃণ্য বর্ণবাদী আচরণ দেখে শুধু হা-হুতাশ করি। আমেরিকায় বর্ণবাদের বিরুদ্ধে আমরা সবাই  সরব হয়ে উঠেছি, অথচ আমার ঘরে, সমাজে,  রাষ্ট্রের অলিগলিতে বর্ণবাদ যে আষ্টেপৃষ্টে জড়িয়ে আছে সে খবর রাখিনা, অন্তত রাখার চেষ্টাও করিনা।

 

বি :দ্র : উল্লেখিত গল্পে ছদ্মনাম ব্যবহার করা হয়েছে, আমাদের আশেপাশে এমন বহু ঘটনা ঘটছে। তাই,নির্দিষ্ট কোন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আঙুল না তুলে সংশোধনের পথ কিভাবে তৈয়ার করা যায় সেদিকে নজর দেয়াই হবে সময়ের দাবী।।