লিবিয়ায় ভাগ্যান্বেষী ২৬ বাংলাদেশি হত্যা

প্রকাশিত: ৯:৩৬ অপরাহ্ণ, মে ৩১, ২০২০

গত ডিসেম্বরে বাংলাদেশ থেকে ৩৮ জন তরুণ অবৈধভাবে লিবিয়ায় যান। লিবিয়া হয়ে তাদের ইটালিতে যাওয়ার কথা ছিলো। লিবিয়াতে এই দলটি দুইবার অপহরণের শিকার হয়। প্রথমবার মুক্তিপণ দিয়ে মুক্তি মেলে। কিন্তু দ্বিতীয়বার অপহরণকারীদের চাহিদানুযায়ী মুক্তিপণ দিতে না পারায় এই তরুণ দলটির উপর নির্মম নির্যাতন চালানো হয়। নির্মমতা সইতে না পেরে এঁরা বিদ্রোহী হয়ে ওঠে। হত্যা করে অপহরণকারী দলের নেতাসহ আরেকজনকে। নেতা হত্যার প্রতিশোধ নিতে অপহরণকারীরা নির্বিচারে গুলি চালায় ভাগ্যান্বেষণে দেশ ত্যাগ করা এই অসহায় ছেলেগুলোর উপর। ২৬জন বাংলাদেশী নিহত হয়। সাথে নিহত হয় আরো ৪ সুদানী। গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী এই অসহায় ছেলেগুলো দেশের মাটিতে চির নিদ্রায় শায়িত হতে পারবে না। লিবিয়াতেই তাদেরকে কবর দেয়া হবে।

মানবপাচারকারীদের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠছে বাংলাদেশ। দেশে মানবপাচার বিরোধী আইন থাকলেও নেই সেই আইনের যথাযথ প্রয়োগ। মাঝে মাঝে দুয়েকটা মামলার খবর অবশ্য পাওয়া যায়। কিন্তু আইনের ফাঁকফোঁকর দিয়ে খুব দ্রুতই জামিনে বের হয়ে যায় এই পাচারকারীরা। আবার শুরু হয় তাদের অমানবিক, জঘন্য কার্যক্রম। পাচারকারীদের খপ্পরে পড়ে অনেক ভাগ্যান্বেষী তরুণ বিদেশে দুর্বিষহ জীবন বেছে নিতে বাধ্য হন।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয় থেকে লিবিয়া সরকারের কাছে এই হত্যাকাণ্ডের জন্য ক্ষতিপূরণ ও বিচার দাবি করা হয়েছে। যুদ্ধ বিধ্বস্ত ও রাজনৈতিক গণ্ডগোলে পূর্ণ লিবিয়ার কাছে এই দাবি যে একেবারেই অমূলক এবং এতে কোন কাজ হবে না তা সহজেই অনুমেয়।

কেনো আমাদের তরুণদেরকে ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় অবৈধভাবে বিদেশে পাড়ি জমাতে হচ্ছে- এই প্রশ্নের উত্তর এবং এর দায়ভার সরকারের উপরই বর্তায়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে এ ধরনের হত্যা বন্ধ হবে না। এখন কথা হলো- এই ব্যবস্থাটা নিবে কে? সরকার নাকি জনগণ?

মানব পাচার রোধে আইন পাস হয়েছে কিন্তু বিধি জারি করতে সময় লেগেছে সাত বছর। এই সাত বছরে কতো শত ভাগ্যান্বেষী বাংলাদেশী কঙ্কাল হয়েছে বিদেশের মাটিতে তার কোন হিসেব আছে? বা হিসেব থাকলেও কি এই অপব্যবস্থা বন্ধের কোন তৎপরতা আছে?

মানবপাচারের ক্ষেত্রে আফ্রিকার দুর্ভিক্ষ, গৃহযুদ্ধকবলিত দেশগুলোর পাশে বাংলাদেশের নাম দেখাটা আমাদের জন্য লজ্জার।

বৈধ কিংবা অবৈধ—যে পথেই বাংলাদেশিরা বিদেশে যান না কেন, তাঁদের পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রা আমাদের অর্থনীতির বড় শক্তি। রেমিট্যান্স আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সবচেয়ে বড় উৎস। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে তাঁদের নিরাপত্তার বিষয়ে সরকারের সেই মাত্রায় তৎপরতা দেখা যায় না।

মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে সরকারকে কঠোর হতে হবে এবং জনগণের মাঝে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি কর্মসংস্থান তৈরি করতে হবে যাতে মরীচিকার আশায় দেশত্যাগ করে কোন তরুণকে এমন করুণ পরিণতি বরণ করতে না হয়।

নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডে নিহত সকলের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। যে সুখের আশায় তারা দেশত্যাগ করেছিলো সে সুখ তাদের কপালে জোটে নি। আল্লাহ পরকালে তাদেরকে সুখে রাখবেন এই দুয়া করছি। আমরা নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের প্রতি তীব্র ঘৃণা ও নিন্দা জানাই।

আল্লাহ সবাইকে ভালো রাখুক,সুস্থ ও সুন্দর রাখুক।