লকডাউন বাস্তবায়ন করতে আরও চার-পাঁচ দিন লাগবে: মেয়র তাপস

প্রকাশিত: ৮:৫৮ পূর্বাহ্ণ, জুন ১৭, ২০২০
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস। ফাইল ছবি

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ‘রেড জোন‘ হিসেবে চিহ্নিত এলাকাগুলোতে লকডাউন বাস্তবায়ন করতে আরও চার থেকে পাঁচদিন লাগবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণে জোনিং সিস্টেম বাস্তবায়ন বিষয়ক ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা কমিটির এক বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে মেয়র এ কথা বলেন।

অতি সংক্রমণের পাড়া-মহল্লা সুনির্দিষ্ট করতেই দুই থেকে তিন দিন লেগে যাবে। তারপরে লকডাউন বাস্তবায়ন করতে আরো ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা সময় লাগবে বলে জানান মেয়র।

জনগণকে সচেতন ও সম্পৃক্ত করেই আমরা লকডাউন বাস্তবায়নে যাবো- এমনটা মন্তব্য করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র বলেন, যাতে করে জনগণের কোনোরকম কষ্ট বা দুর্ভোগ না হয়, সেদিকটাকে প্রাধান্য দিয়েই আমরা ডিএসসিসিতে লকডাউন বাস্তবায়ন করব। তিনি বলেন, ‘ওইসব এলাকায় যাতে করে সংক্রমণের হার না বাড়ে এবং এই সংক্রমণ ক্রমান্বয়ে কমিয়ে লকডাউন তুলে নেওয়ার পর যাতে সে এলাকা গ্রিন জোন হিসেবে চিহ্নিত করা যায়, সেটাই আমাদের মূল লক্ষ্য।’

মেয়র তাপস এ সময় বলেন, ‘ডিএসসিসির আওতাধীন কোনো এলাকাকে এখন পর্যন্ত লকডাউন করা হয় নি। লকডাউন করার আগে আমরা এলাকাভিত্তিক সুনির্দিষ্ট ম্যাপিং এবং সে ম্যাপিং অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্থানীয় কাউন্সিলর, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা ও সমন্বয় করেই লকডাউন বাস্তবায়নে যাবো।’

ঢাকা দক্ষিণের মেয়র আরও বলেন, কোভিড-১৯ সারাবিশ্ব থেকে চিরতরে চলে না যাওয়া পর্যন্ত এটি একটি আমাদের জীবনের অংশ হয়ে গেছে। তাই, আমাদেরকে লকডাউনে যেতে হচ্ছে। আমরা জানি, লকডাউন কষ্টের কিন্তু আগামীর সুন্দর ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে এবং এই সংক্রামক ব্যাধি হতে জনগণকে মুক্ত করতে, লকডাউন সফলভাবে বাস্তবায়ন করার জন্য সবাইকে সাময়িক এই কষ্ট মেনে নেওয়ার আহ্বান জানাই।

এদিকে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ৩৮৬২ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। মারা গেছেন সর্বোচ্চ ৫৩ জন।

কোভিড-১৯ সংক্রান্ত নিয়মিত অনলাইন ব্রিফিংয়ে অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) নাসিমা সুলতানা মঙ্গলবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে সর্বোচ্চ ১৭ হাজার ২১৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।

নতুন আক্রান্তসহ এখন পর্যন্ত দেশে করোনার শিকার হয়েছেন ৯৪ হাজার ৪৮১ জন। আর মোট মারা গেছেন এক হাজার ২৬২ জন। করোনায় নতুন যে ৫৩ জন মারা গেছেন তাদের মধ্যে পুরুষ ৪৭ জন এবং নারী ছয়জন। আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

এদিকে, করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন আরো দুই হাজার ২৩৭ জন। এ নিয়ে দেশে মোট সুস্থ ব্যক্তির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৬ হাজার ২৬৪ জন। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৩৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ।