লকডাউন: আত্মভোলা ব্যস্ত জীবনে একটুখানি সুবাতাস….

প্রকাশিত: ১২:২০ অপরাহ্ণ, জুলাই ১২, ২০২০

৷৷শায়েখ সামীর আরিফ৷৷

ক্ষুদ্র এক ভাইরাসের সংক্রমণে পুরো পৃথিবী থমকে গেছে। চারদিকে মৃত্যুর মিছিল। বিশ্বের পরাশক্তিগুলোর সকল চেষ্টা ব্যর্থ৷ মিসাইল, এটম কোনো কিছু দিয়েই এ ভাইরাসের প্রতিরোধ সম্ভব নয়। ফলে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আসমানের মালিকের দরবারে অনুতপ্ত। তবে হাজারো ক্ষতিকর দিক থাকা সত্ত্বেও লকডাউনের ফলে আমরা কিছু নেয়ামত ভোগ করছি। এমন কিছু নেয়ামতের কথা নিয়েই আমাদের বক্ষমান প্রবন্ধ।

 

• আল্লাহর কুদরতের মাহাত্ম্য অনুধাবন:

চোখে দেখা যায় না এমন একটি ভাইরাসের ছোবলে আজ পৃথিবী স্তব্ধ, জনজীবন বিপর্যস্ত। ফলে মানুষের অন্তরে আল্লাহর প্রতি ভক্তি দ্বিগুণ বেড়েছে। এমনকি বিধর্মীদের মনেও আল্লাহর ভয় সঞ্চার হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন-

“আল্লাহ সপ্তাকাশ সৃষ্টি করেছেন এবং পৃথিবীও সেই পরিমাণে। এসবের মধ্যে তাঁর আদেশ অবতীর্ণ হয়। যাতে তোমরা জানতে পার যে, আল্লাহ সর্বশক্তিমান এবং সবকিছু তাঁর গোচরীভূত।” (সূরা ত্বলাক, আয়াত:১২)

 

• আল্লাহর নেয়ামতের মূল্যায়ন:

লকডাউনের কারণে ঘরবন্দী হওয়ায় অন্যান্য সময়ের মতো অবাধ চলাফেরা, স্বাধীনমতো ঘুরতে না পারার কারণে অনেকেরই তীব্রভাবে বিভিন্ন নেয়ামতের উপলব্ধি হচ্ছে। এর প্রভাবে আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায়ের বড় একটা উপলক্ষ তৈরি হয়েছে। রাব্বে কারীম বলেন-

“আর তোমরা যা চেয়েছো তিনি তোমাদের সবকিছু দিয়েছেন। তোমরা যদি আল্লাহর নেয়ামতের গণনা শুরু করো, কখনো তা গুণে শেষ করতে পারবে না। নিশ্চয়ই মানুষ বড়ই অত্যচারী, কৃতঘ্ন।” (সূরা ইবরাহীম, আয়াত:৩৪)

 

• পারিবারিক বন্ধন সুদৃঢ় হওয়া:

ইতিপূর্বে অধিকাংশ পরিবারের সদস্যদের একে অপরের মাঝে বেশ দুরত্ব ছিলো। অফিস-আদালত, প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা নিয়ে যে যার কাজে ছিলো ব্যস্ত। এদিকে ঘরের গৃহিণীও একাকি থাকতে থাকতে ভুগছিলো একঘেয়েমিতে। কিন্তু লকডাউনের এই অখন্ড অবসরে পরিবারের সকলের মাঝে যেমন মজবুত বন্ধন গঠিত হওয়ার সুযোগ হয়েছে তেমনি একে অপরকে বোঝারও একটা উপলক্ষ তৈরি হয়েছে।

 

• পার্থিব জীবনের ক্ষনস্থায়ীত্ব:

ভোগবাদী মিডিয়ার প্রচারণার ফলে এযাবতকাল মানুষ ভাবতো- দুনিয়ায় তারা চিরকালের জন্য নোঙর গেড়েছে। কিন্তু করোনা এসে তাদের এই উদাসীন ভাবনাকে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে এবং জনমনে মৃত্যুর বাস্তবতা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে উপলব্ধ হয়েছে।

“আপনি বলুন- যে মৃত্যু থেকে তোমরা পালিয়ে বেড়াচ্ছো তা অবশ্যই তোমাদের কে পাকড়াও করবে” (সূরা জুমআ, আয়াত:০৮)

 

• অপচয়-অপব্যয় থেকে রক্ষা:

বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে ঘন্টার পর ঘন্টা রেস্টুরেন্টে বসে আড্ডা, আধুনিকতার নামে অযথা খাবার অপচয় ছিলো নিত্যদিনের ঘটনা। স্রেফ মনের চাহিদা মেটানোর জন্য কত রকম পাপকর্মের পেছনে অপচয় হতো টাকা পয়সা। করোনা এসে আমাদেরকে মিতব্যয়ী হওয়ার শিক্ষা দিয়ে গেলো।

“হে আদম সন্তান! তোমরা নামাজের সময় উত্তম পোশাক পরিধান করো, পানাহার করো, তবে অপচয় করো না। নিশ্চয়ই তিনি অপচয়কারীদের পছন্দ করেন না।” (সূরা আরাফ, আয়াত:৩১)

 

• মসজিদে ও জামাতে নামাজের গুরুত্ব :

করোনার বিস্তার রোধে মসজিদগুলো যখন তালাবদ্ধ হওয়ার ঘোষণা হলো তখন মসজিদের জন্য মুমিনের অন্তরটা হাহাকার করে উঠলো। তার সত্তাজুড়ে মসজিদের প্রতি আবেগ ও ভালোবাসা জেগে উঠে নতুনভাবে।

“এটা শ্রবণযোগ্য, আর যে আল্লাহর নাম সম্বলিত নিদর্শনাবলীকে সম্মান করবে তা পালনকর্তার নিকট তার জন্যে উত্তম। (সূরা হজ, আয়াত :৩০)

 

• শেষকথা:

আমাদের উচিত আল্লাহ তায়ালার নিদর্শনের প্রতি গভীর দৃষ্টিপাত করা। সেই সাথে সুখে-দুঃখে আল্লাহ তায়ালার অসংখ্য অগণিত নেয়ামতের শোকর আদায় করা। করোনা ভাইরাস যেন হয় আমাদের ঈমানকে দীপ্ত করার রসদ। আল্লাহ আমাদের সকলকে করোনার সংক্রমণ থেকে হেফাজত করুন।

অনুবাদ: নূরুল হুদা