রেকর্ড সংখ্যক মৃত্যু, তবুও সর্বত্র উপেক্ষিত স্বাস্থ্যবিধি!

প্রকাশিত: ১০:১২ অপরাহ্ণ, জুন ৭, ২০২০

গত ডিসেম্বরে চীনের উহান শহর থেকে ছড়ানো প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে আজ গোটা বিশ্বজুড়ে এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৭০ লাখ। মৃতের সংখ্যা চার লাখ দুই হাজারেরও বেশি।

গত ৮ই মার্চ বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়। এরপর ধারাবাহিকভাবে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকে। বাড়ে মৃত্যুর সংখ্যাও। বাংলাদেশে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড হয় আজ। সংখ্যাটি ৪২। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে মোট ৮৮৮ জনের মৃত্যু হলো। একই সময়ে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন আরও দুই হাজার ৭৪৩ জন। ফলে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৬৫ হাজার ৭৬৯ জনে।

এদিকে মোট সংক্রমণের বেশি ভাগ রাজধানী ঢাকার। ঢাকাসহ সারাদেশে করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে নানা পদক্ষেপ নেয় সরকার। তবে মানা হচ্ছে না কিছুই। কোথাও নেই সামাজিক দূরত্ব। নেই সচেতনতা। রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে প্রতিদিন লোকে লোকারণ্য থাকছে। কোনো ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। নেই হাত ধোয়ার কোনো ব্যবস্থা। বিভিন্ন স্থানে খালিপাত্র বসিয়ে রাখা হয়েছে। কোথাও নেই পানি। আবার কোথাও সাবান কিংবা স্যানিটাইজারও নেই। অথচ এ নিয়ে কারও মধ্যে কোনো উদ্বেগ নেই।

উল্লেখ্য, করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের আধিক্য বিবেচনায় করে সংক্রমণ ঠেকাতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলকে রেড জোন, ইয়েলো জোন ও গ্রীণ জোনে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই তিন ভাগে ভাগ করে তালিকা প্রকাশ করা হলেও এসব জোনের নাগরিকদের জন্য নতুন কোনো নির্দেশনা দেয়া হয়নি। ঢাকা মহানগরীর ৩৮টি এলাকাকে আংশিক লকডাউন (ইয়েলো জোন বিবেচিত) হিসেবে দেখানো হয়েছে।

অথচ ঢাকায় এখন পর্যন্ত কোনো এলাকাকে রেড জোন বিবেচিত হিসেবে দেখানো হচ্ছে না। ফলে রোববারও এসব এলাকার লোকজন যত্রতত্র চলাচল করেছে। এছাড়া স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দেশের তিনটি বিভাগ, ৫০টি জেলা ও ৪০০টি উপজেলাকে রেড জোন (পুরোপুরি লকডাউন) দেখানো হয়েছে। আংশিক লকডাউন (ইয়েলো জোন বিবেচিত) দেখানো হয়েছে দেশের পাঁচটি বিভাগ, ১৩টি জেলা ও ১৯টি উপজেলাকে। আর লকডাউন নয় (গ্রীণ জোন বিবেচিত) এমন জেলা দেখানো হচ্ছে একটি এবং উপজেলা দেখানো হচ্ছে ৭৫টি।