রিয়াদ-সাকিবের কার্ডিফ রূপকথা!

প্রকাশিত: ৮:৫৩ অপরাহ্ণ, জুন ১১, ২০২০
১২ তম ওভারের শেষে বাংলাদেশের স্কোর ৩৫/৪; স্কোরে চোখ দিতে বাংলাদেশী ক্রিকেট ভক্তদের মুখ-অবয়ব এর  দিকে আর চোখ ফেরানো যাচ্ছে না, মেঘে ঢাকা আকাশ যেমনি সাজে ছন্নছাড়া ফেকাশে সাজে তেমনি সেজে ছিলো প্রতিটা ক্রিকেটপ্রেমীর বিবর্ণ রূপের আদলে…

 

আর কিউই শিবিরে তখন রৌদ্রোজ্জ্বল আলোর কিরণে ফুরফুরে মেজাজ। কিন্তু তখনো কি কিউই দলপতি ঘোনাক্ষরেও ভেবেছিলো কি হতে যাচ্ছিলো সেই ম্যাচের ভাগ্য? এতোদিন কার্ডিফের পয়া ভাগ্য গল্পের শ্রুতিমধুর গল্প শুনে যাওয়া টাইগার ক্রিকেট প্রেমীরা তখন ছাড়তে শুরু করেছে গ্যালারী কিংবা টিভির পর্দা! তারা হয়তোবা ভেবে নিয়েছিলো আবারো একরাশ বেদনাক্রান্ত গল্পের সাক্ষি বোধগম্য হতে হবে..

তবে হঠাৎ এই যেনো ক্রিকেটপ্রেমীরা নড়ে-চড়ে বসলেন। কিন্তু কেনো?

ইনিংসের খেলা তখন ২৯ ওভারে গড়িয়ে, সাকিব পূর্ণ করলেন করলেন নিজেত ব্যাক্তিগত অর্ধশত এবং সাকিব-রিয়াদে পূর্ণ হলো শত রানের জুটি। এবার যেনো প্রাণে স্বস্তি ফিরে পাচ্ছিলো টাইগারর ক্রিকেটপ্রেমীরা। তার সদ্য প্রমাণ মেলে কার্ডিফের সবুজ উদ্যানের চারদিকে গ্যালারীর স্টান্ডে টাইগার ক্রিকেট প্রেমীদের গগনবিদারী চিৎকারে! যেনো মনে হচ্ছিলো এযেনো এক টুকরো বাংলাদেশ..

ম্যাসেঞ্জারে টুংটাং শব্দে তখন টিভি সেটের সামনে ফিরতে শুরু করেছে টাইগার ভক্তরা। মনে উকিঁ দিচ্ছে এক অসাধ্য সাধনের গল্প নিজ চক্ষু দর্শনের আনন্দে। আনন্দের বন্যায় গা ভাসানোর জোয়ারে তখন মেতেছিলো পুরো বাংলাদেশ। টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া গর্জিত বাংলাদেশ যেনো জানান দিচ্ছিলো চিনে নাও আমদের, দেখে নাও আমাদের বাঘেদের থাবা কতোটা ভয়ংকর!

 

ম্যাচের বয়স যখন ৪২ ওভারের ৩ বল গড়িয়ে চলে ঠিক তখন রিয়াদ-সাকিবের হাত ধরে বাংলাদেশের ইতিজাসে সবচেয়ে বড় জুটির রেকর্ড গড়ে এই দুই ব্যাটসম্যানদ্বয়! ৪৬ ওভারের ৪র্থ বলে ছয়ের মারে নিজের শতক বুঝে নেন সাকিব আল হাসান। ৪৭ তম ওভারের ৩য় বলে বোল্টের ধেয়ে আসা এক বলে যখন সাকিব ক্লিন বোল্ড তখন সাকিবের নামের পাশে ঝলমলে ১১৪ রানের ইনিংশ খোদাইকৃত হয়ে গেছে!

 

ঠিক তৎক্ষনাৎ বাংলাদেশের প্রয়োজন মাত্র ৯ রান। ৪৭ তম ওভারের শেষ বলে দৃষ্টিনন্দন চারের মারে রিয়াদের ব্যাক্তিগত শতক তুলে নেওয়ার পর ইনসাইদ এজ থেকে মোসাদ্দেক এর চারে বাকি কাজ টা বেশ ভালো ভাবেই সম্পন্ন করে রিয়াদ-মোসাদ্দেক!

 

সেদিন চোখজোড়া গর্বিত হয়েছিলো এই অসাধ্য সাধনের গল্পের প্রমাণ হতে পারে! পুরো ম্যাচে সাকিব রিয়াদ এবং মোসাদ্দেক এর ভূমিকা ছিলো অপরিসীম! মজার ব্যাপার হচ্ছে সেদিন সাকিব ২১ রান করেছিলো তার প্রিয় কাট শট থেকে এবং মাহমুদউল্লাহ ১৯ রান করেছিলো অন ড্রাইভ থেকে।

যতো যাই বলি না কেনো এই জয়ের কাছে সব অতি নগন্য। তারপরেও এই অল্পকিছু লিখার কারণ এই সুখস্মৃতির আজ পূর্ণ হলো ৩ বছর। ২০১৭ সালের আজকের এইদিনে কার্ডিফে সাকিব-রিয়াদ রচিত করেছিলো এই নান্দুনিক কাব্য!

 

-হাসান নোমান