রাজধানীতে অকারণে বের হয়ে গত ৫ দিনে গ্রেপ্তার ২৪৯৪

প্রকাশিত: ৯:৪৭ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২৮, ২০২১
ছবিঃ সংগৃহীত

করোনাভাইরাসের উচ্চ সংক্রমণরোধে সরকারের দেওয়া ১৪ দিনের কঠোর বিধিনিষিধের পঞ্চম দিন গতকাল মঙ্গলবার।

অন্যান্য দিনের তুলনায় এদিন সড়কে মানুষ বেড়েছে। বেড়েছে রিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা। সরকারি সিদ্ধান্ত অমান্য করে অকারণে বাইরে বের হওয়ায় মঙ্গলবার রাজধানীতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৫৫৫ জনকে।

বিধিনিষেধ শুরুর দিন থেকে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত পাঁচ দিনে অকারণে বাইরে বের হওয়ার জন্য মোট গ্রেপ্তার করা হয়েছে দুই হাজার ৪৯৪ জনকে। এ ছাড়া পাঁচ দিনে অকারণে বাইরে বের হওয়ায় ৬৫ লাখ ৪৩ হাজার ১২৫ টাকা জরিমানা করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ভ্রাম্যমাণ আদালত ও ট্রাফিক বিভাগ।

কঠোর বিধিনিষেধের শুরু থেকে ডিএমপির পাঠানো তথ্য বিশ্লেষণ করে এ চিত্র দেখা গেছে।

এদিকে গতকাল ডিএমপির জনসংযোগ শাখা থেকে পাঠানো তথ্যমতে, মঙ্গলবার সকাল থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৫৫৫ জনকে। ভ্রাম্যমাণ আদালত ২৩৬ জনকে চার লাখ ৮৩ হাজার ৯৭৫ টাকা জরিমানা করেছেন। পাশাপাশি ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ সড়ক পরিবহণ আইন অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন করাসহ বিভিন্ন অভিযোগে ৪৯৭টি গাড়িকে ১১ লাখ ৭৩ হাজার টাকা জরিমানা করে।

মঙ্গলবার সারাদিন অযাচিত ঘোরাঘুরির কারণে ডিএমপির আটটি বিভাগ সড়কের বিভিন্ন স্থানে স্থানে অভিযান পরিচালনা করে এই গ্রেপ্তার ও জরিমানা করেছে বলে মঙ্গলবার রাতে জানিয়েছেন ডিএমপির জনসংযোগ শাখার অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) ইফতেখায়রুল ইসলাম।

তিনি বলেন, করোনারোধে পুলিশ মাঠে তৎপর। ফলে অযাচিত ঘোরাফেরা করলে দেওয়া হচ্ছে মামলা, করা হচ্ছে জরিমানা। আগামীতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।

করোনাভাইরাসের উচ্চ সংক্রমণ রোধে গত ২৩ জুলাই সকাল ৬টা থেকে সরকারের দেওয়া কঠোর বিধিনিষেধ চলছে। এ বিধিনিষেধ ৫ আগস্ট দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

গতকাল ছিল সেই বিধিনিষেধের পঞ্চম দিন। এদিন রাজধানীর কারওয়ান বাজার, শাহবাগ, যাত্রাবাড়ী, গাবতলী, আগারগাঁও, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, ফার্মগেট এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কঠোর বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে পুলিশ টহল দিচ্ছে।

তারা চেকপোস্ট বসিয়ে গাড়ি থামিয়ে বাইরে আসার কারণ জানতে চাইছে। তবে কোথাও কোথাও পুলিশের ঢিলেঢালা টহল দিতে দেখা গেছে। মানুষকেও কোনো রকম বাধা ছাড়াই চলাচল করতে দেখা গেছে।

ঢাকা জেলা প্রশাসন ও ডিএমপি পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রমও অব্যাহত আছে। এ ছাড়া পুলিশের পাশাপাশি রাজধানীতে সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে তৎপর রয়েছেন।

বিধিনিষেধ শুরুর পর অর্থাৎ শুক্রবার ও শনিবারের পর রাস্তায় লোকজনের সংখ্যা বাড়তে শুরু করে। বাড়তে থাকে রিকশা ও ব্যক্তিগত গাড়ির চাপও। তবে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হলেই নানা ধরনের পুলিশি ঝামেলায় পড়তে হচ্ছে নগরবাসীকে।

এডিসি ইফতেখায়রুল ইসলাম বলেন, কঠোর বিধিনিষেধের পঞ্চম দিনের সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ডিএমপির রমনা, লালবাগ, মতিঝিল, ওয়ারী, তেজগাঁও, মিরপুর, গুলশান ও উত্তরা বিভাগ এলাকায় সরকারি নিয়ম অমান্য করে বাইরে বের হওয়ায় ৫৫৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া ডিএমপির ভ্রাম্যমাণ আদালত ২৩৬ জনকে ৪ লাখ ৮৩ হাজার ৯৭৫ টাকা জরিমানা করেছেন। পাশাপাশি ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ সড়ক পরিবহণ আইন অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন করাসহ বিভিন্ন অভিযোগে ৪৯৭টি গাড়িকে ১১ লাখ ৭৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

কঠোর বিধিনিষেধের প্রথম দিন শুক্রবার, অহেতুক ঘর থেকে বের হওয়ায় ৪০৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছিল ডিএমপি। এ ছাড়া এদিন ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ২০৩ জনকে এক লাখ ২৭ হাজার ২৭০ টাকা জরিমানা করে। অপরদিকে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ ৪৪১টি গাড়িকে ১০ লাখ ৬০ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করে।

দ্বিতীয় দিন শনিবার, সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে বাইরে বের হয়ে ডিএমপির হাতে গ্রেপ্তার হয় ৩৮৩ জন। ১৩৭ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা করা হয়েছিল ৯৫ হাজার ২৩০ টাকা। এ ছাড়া ট্রাফিক বিভাগের নির্দেশে ৪৪১টি গাড়ির বিরুদ্ধে মামলায় জরিমানা করা হয়েছিল ১০ লাখ ৮৩ হাজার টাকা।

তৃতীয় দিন রোববার একই কারণে গ্রেপ্তার করা হয়েছে মোট ৫৮৭ জন। এ ছাড়া ২৩৩ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা করা হয়েছে এক লাখ ৯৫০ টাকা। অপরদিকে ট্রাফিক বিভাগের নির্দেশে ৫২১টি গাড়ির বিরুদ্ধে মামলায় জরিমানা করা হয়েছে ১২ লাখ ৭২ হাজার টাকা।

চতুর্থ দিন অর্থাৎ গতকাল সোমবার ৫৬৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১৬৪ জনকে এক লাখ ২৬ হাজার ২০০ টাকা জরিমানা করা হয়। অপরদিকে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ ৪৪৩টি গাড়িকে ১০ লাখ ২১ হাজার টাকা জরিমানা করে।