যেসব আমল দ্বারা হজ্ব ও ওমরার সওয়াব লাভ হয় 

প্রকাশিত: ১২:০৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৫, ২০২১

যেসব আমল দ্বারা হজ্ব ও ওমরার সওয়াব লাভ হয় 

 

প্রত্যেক মুমিনের অন্তরই মক্কা শরীফের কালো গিলাফ ও মদীনা মুনাওয়ারার সবুজ গম্বুজের সঙ্গে এক আত্মিক সুতোয় বাঁধা। সেলাইবিহীন দুই টুকরো সাদা কাপড় পরে কা‘বা শরীফ তাওয়াফ করা এবং নবীজীর রওযায় উপস্থিত হয়ে সালামের নাযরানা পেশ করা। প্রতিটি মুমিনের হৃদয়ে লালিত স্বপ্ন। কিন্তু বিভিন্ন কারণে অনেকসময়ই পূর্ণ হয় না হৃদয়ের মণিকোঠায় লালিত সেই সোনালি স্বপ্ন।

আল্লাহ্র অনেক বান্দা-বান্দি এমন আছেন, যারা আজীবন হৃদয়ে এ স্বপ্ন লালন করেছেন এবং সাধ্যমত চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তার আগেই পরপারের ডাক এসে গেছে। আল্লাহ তাআলা অবশ্যই তাদের উত্তম নিয়ত ও চেষ্টার যথাযথ প্রতিদান দেবেন। এজন্য সাধ্য না থাকলেও থাকা চাই পূর্ণ চেষ্টা এবং বাস্তব পদক্ষেপ। তাহলেই হয়ত পথ খুলবে বা অন্তত এ চেষ্টার বিনিময় তো লাভ করা যাবে। এ সম্পর্কে সুন্দর ও শিক্ষণীয় একটি ঘটনা আছে। সেটি উল্লেখ করার আগে একটি হাদীস উল্লেখ করছি।

আবু কাবশা আনমারী রা. বর্ণনা করেন, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন।

إِنَّمَا الدُّنْيَا لِأَرْبَعَةِ نَفَرٍ، عَبْدٍ رَزَقَهُ اللهُ مَالًا وَعِلْمًا فَهُوَ يَتّقِي فِيهِ رَبَّهُ، وَيَصِلُ فِيهِ رَحِمَهُ، وَيَعْلَمُ لِلهِ فِيهِ حَقّا، فَهَذَا بِأَفْضَلِ المَنَازِلِ، وَعَبْدٍ رَزَقَهُ اللهُ عِلْمًا وَلَمْ يَرْزُقْهُ مَالًا فَهُوَ صَادِقُ النِّيّةِ يَقُولُ: لَوْ أَنَّ لِي مَالًا لَعَمِلْتُ بِعَمَلِ فُلَانٍ فَهُوَ بِنِيَّتِهِ فَأَجْرُهُمَا سَوَاءٌ، وَعَبْدٍ رَزَقَهُ اللهُ مَالًا وَلَمْ يَرْزُقْهُ عِلْمًا، فَهُوَ يَخْبِطُ فِي مَالِهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ لَا يَتّقِي فِيهِ رَبَّهُ، وَلَا يَصِلُ فِيهِ رَحِمَهُ، وَلَا يَعْلَمُ لِلهِ فِيهِ حَقّا، فَهَذَا بِأَخْبَثِ المَنَازِلِ، وَعَبْدٍ لَمْ يَرْزُقْهُ اللهُ مَالًا وَلَا عِلْمًا فَهُوَ يَقُولُ: لَوْ أَنَّ لِي مَالًا لَعَمِلْتُ فِيهِ بِعَمَلِ فُلَانٍ فَهُوَ بِنِيَّتِهِ فَوِزْرُهُمَا سَوَاءٌ.

قال الترمذي: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ.

দুনিয়ায় চার ধরনের মানুষ আাছে :

প্রথম প্রকার মানুষ : আল্লাহ তাআলা যাকে সম্পদ ও ইলম দান করেছেন। সে সম্পদের বিষয়ে আপন রবকে ভয় করে, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে এবং তার সম্পদে আল্লাহ্র হক সম্পর্কে সে সচেতন। সে হল সর্বশ্রেষ্ঠ স্তরের মানুষ।

দ্বিতীয় প্রকার : আল্লাহ তাআলা যাকে ইলম দিয়েছেন, সম্পদ দেননি; কিন্তু তার নিয়ত সহীহ। সে নিয়ত করে, আমার যদি তার মত সম্পদ থাকত তাহলে আমিও তার মত নেক আমল করতাম। সে নেক নিয়তের কারণেই সওয়াব পাবে। সুতরাং উভয়ের সওয়াব সমান।

তৃতীয় প্রকার : আল্লাহ তাআলা যাকে সম্পদ দিয়েছেন, ইলম দেননি। অজ্ঞতার কারণে সে সম্পদের যথেচ্ছ ব্যবহার করে। সম্পদের বিষয়ে আপন রবকে ভয় করে না, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে না এবং তার সম্পদে আল্লাহ্র হক সম্পর্কে সে সচেতন না। সে হল সবচে নিকৃষ্ট স্তরের মানুষ।

চতুর্থ প্রকার : আল্লাহ যাকে ইলমও দেননি, মালও দেননি। (তার নিয়ত খারাপ) সে সংকল্প করে, আমার যদি মাল থাকত আমিও তার (তৃতীয় ব্যক্তির) মত কাজ করতাম। সে বদ প্রতিজ্ঞার কারণেই গোনাহগার হবে। তাই উভয়ের গোনাহ সমান। জামে তিরমিযী, হাদীস ২৩২৫; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ১৮০৩১

এ হাদীসের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হল, সাধ্য না থাকা সত্ত্বেও সহীহ নিয়তের কারণে আল্লাহ সক্ষম ব্যক্তির আমলের মতই সওয়াব দান করেন। সুতরাং বান্দার কর্তব্য, ইখলাসের সাথে আমলের নিয়ত ও চেষ্টা করে যাওয়া।

এবার যিয়ারতে বায়তুল্লাহ্র স্বপ্ন লালন এবং সে স্বপ্ন নিয়ে পরকালের মুসাফির হওয়ার চমৎকার ঘটনাটি লক্ষ করুন। হযরত মাওলানা মুফতী মুহাম্মাদ তাকী উসমানী দামাত বারাকাতুহুমের মুহতারামা বড় বোন নাঈমা খাতুন রাহ.-এর ঘটনা। হযরতের কলমেই শুনুন তার ঘটনা।

“আমাদের সকলের বড় এই বোন মাত্র ৩৪ বছর বয়সে ইন্তিকাল করেন, যখন আমার বয়স ছিল ১৩ বছর। আল্লাহ তাআলা তাকে জান্নাতুল ফিরদাউসের অপার সুখ-শান্তি ও তাঁর অফুরন্তু নিআমতরাশির মধ্যে রাখুন। কঠিন আর্থিক সংকটের ভেতর তার দিন কেটেছিল। তা সত্ত্বেও যেই ব্যক্তিত্ব ও আত্মমর্যাদাবোধের সাথে তিনি জীবনযাপন করেছিলেন, তার দৃষ্টান্ত পাওয়া ভার। এ প্রসঙ্গে তার একটা ঘটনা উল্লেখের জন্য কলম যেন অস্থির হয়ে আছে।

…বিবাহের পর অধিকাংশ সময় তিনি অর্থসংকটে জর্জরিত ছিলেন। এরকম অবস্থায়ই তিনি একদিন আব্বাজান-এর কাছে আরয করলেন, আমার জন্য দুআ করুনÑ আল্লাহ তাআলা যেন আমাকে হজ্ব আদায়ের সৌভাগ্য দান করেন।

আব্বাজান রাহ. বললেন, তোমার কি হজ্ব করার খুব আগ্রহ?

তিনি নিজ আগ্রহের কথা জানালেন।

আব্বাজান রাহ. বললেন, না, তোমার তেমন আগ্রহ নেই।

তিনি হয়রান হয়ে বললেন, আমি সত্যিই বলছি, আমার মনে হজ্বের বড় ব্যাকুলতা।

আব্বাজান রাহ. বললেন, তাই যদি হয় তবে বল তো তুমি কি সেজন্যে কিছু টাকা-পয়সা জমিয়েছ?

তিনি না-বাচক উত্তর দিলেন।

আব্বাজান রাহ. বললেন, তার অর্থ দাঁড়ায় তোমার আগ্রহ কেবলই মৌখিক। সত্যিকারের আগ্রহ থাকলে তুমি সেজন্য কিছু না কিছু টাকা জমাতে।

তিনি ওজর পেশ করলেন, কিছু বাঁচলেই তো জমাব?

আব্বাজান রাহ. বললেন, তুমি এ কাজের জন্য এক আনাও জমাতে পারতে না?

তিনি বললেন, এতটুকু তো বাঁচাতে পারি। কিন্ত হজ্বের যে খরচ, এ দিয়ে তাতে কী হবে?

আব্বাজান রাহ. বললেন, বান্দা নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী যখন কোনো নেককাজের জন্য পা বাড়ায় তখন আল্লাহ তাআলার তরফ থেকে তাকে সাহায্য করা হয়। যদি সেই নেককাজ তার পক্ষে করা সম্ভব নাও হয়, তবে ইনশাআল্লাহ তার সওয়াব সে অবশ্যই পেয়ে যাবে। কিন্তু সেজন্য কদম তো ফেলতে হবে। কেবল আকাঙ্ক্ষা দিয়ে কোনও কাজ হবে না।

এভাবে তো কথা শেষ হয়ে গেল। এর বেশ পরে ১৯৫৬ ঈসাব্দে বড় আপার ইন্তিকাল হয়ে যায়। ইন্তিকালের পর ওয়ারিছগণ তাঁর মালামাল খুঁজে দেখল, তাতে ছোট্ট একটা কাপড়ের পুটলি পাওয়া গেল। তাতে লেখা আছে, ‘হজ্বের জন্য পয়সা’। দেখা গেল, খুব সামান্য কিছু অর্থ। খুব সম্ভব ৬৫ রুপি ছিল। তা দেখে আব্বাজান রাহ.-এর চোখে পানি চলে এল। তখন আব্বাজান রাহ. সবটা ঘটনা আমাদের শোনানেল। তারপর যখন সুযোগ হল, তিনি তার বদলি হজ্ব করালেন এবং সেই টাকা তাতে খরচ করলেন।

আরও পরের কথা, একবার আব্বাজান রাহ. হজ্ব আদায়কালে আরাফাতের ময়দানে ছিলেন। তখন কিছুক্ষণের জন্য তিনি তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়েন। এ অবস্থায় স্বপ্নে দেখেন, বড় আপা জাবালে রহমতে আরোহণ করছেন। এভাবে আল্লাহ তাআলা তাঁর এ ‘আশেকা বান্দী’র হজ্ব আদায় করিয়ে দেন। আল্লাহ তাআলা বড় আপার প্রতি তাঁর অনন্ত রহমতের বারিধারা বর্ষণ করুন। (আমার জীবনকথা, হযরত মাওলানা মুফতী মুহাম্মাদ তাকী উসমানী, অনুবাদ : মাওলানা আবুল বাশার মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম, খ. ১, পৃ. ৫২-৫৪)

আমরা যদি এভাবে অন্তর থেকে নিয়ত করি এবং সাধ্যমত চেষ্টা চালিয়ে যাই তাহলে আশা করা যায়, আল্লাহ তাআলা আমাদের জন্য হজ্বের পথ খুলবেন বা অন্তত সওয়াব থেকে আমরা মাহরূম হব নাÑ ইনশাআল্লাহ।

আর দয়াবান আল্লাহ বান্দার জন্য এমন কিছু পথও রেখেছেন, যেগুলো দ্বারা বান্দা হজ্বের অথবা ওমরার সওয়াব লাভ করতে পারে। আমরা যদি বিশ্বাস এবং সওয়াবের দৃঢ় আশা নিয়ে এসব আমল করতে পারি, তবে অনেক প্রতিদানের অধিকারী হতে পারবÑ ইনশাআল্লাহ। আমরা এখানে হাদীস শরীফে বর্ণিত সে আমলগুলো উল্লেখ করছি :

এক. পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের পর তাসবীহ আদায় করা। হযরত আবু হুরায়রা রা. বর্ণনা করেনÑ

جَاءَ الفُقَرَاءُ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالُوا: ذَهَبَ أَهْلُ الدُّثُورِ مِنَ الأَمْوَالِ بِالدَّرَجَاتِ العُلاَ، وَالنَّعِيمِ المُقِيمِ، يُصَلُّونَ كَمَا نُصَلِّي، وَيَصُومُونَ كَمَا نَصُومُ، وَلَهُمْ فَضْلٌ مِنْ أَمْوَالٍ يَحُجُّونَ بِهَا، وَيَعْتَمِرُونَ، وَيُجَاهِدُونَ، وَيَتَصَدَّقُونَ، قَالَ: أَلاَ أُحَدِّثُكُمْ إِنْ أَخَذْتُمْ أَدْرَكْتُمْ مَنْ سَبَقَكُمْ وَلَمْ يُدْرِكْكُمْ أَحَدٌ بَعْدَكُمْ، وَكُنْتُمْ خَيْرَ مَنْ أَنْتُمْ بَيْنَ ظَهْرَانَيْهِ إِلَّا مَنْ عَمِلَ مِثْلَهُ تُسَبِّحُونَ وَتَحْمَدُونَ وَتُكَبِّرُونَ خَلْفَ كُلِّ صَلاَةٍ ثَلاَثًا وَثَلاَثِينَ.

দরিদ্র সাহাবীরা নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে আরযি পেশ করল, ধনাঢ্য সাহাবীরা উচ্চ মর্যাদা এবং চিরস্থায়ী নিআমত নিয়ে যাচ্ছেন! আমরা নামায পড়ি, তারাও পড়েন! আমরা রোযা রাখি, তারাও রাখেন! উপরন্তু তাদের রয়েছে অতিরিক্ত সম্পদ। ফলে তারা হজ্ব করেন, ওমরাহ করেন, জিহাদ করেন এবং দান-সদকা করেন! (আমরা এসব করতে পারি না।)

নবীজী তাদেরকে বললেন, আমি কি তোমাদের এমন একটি আমল শিখিয়ে দেব না, যা করতে পারলে তোমরা অগ্রগামীদের স্তরে পৌঁছে যাবে এবং যারা তোমাদের পেছনে তারা তোমাদের স্তরে পৌঁছতে পারবে না এবং তোমরা হবে বর্তমান পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানব। তবে কেউ এই আমল করলে সেটা ভিন্ন বিষয়। তোমরা প্রত্যেক নামাযের পর ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদু লিল্লাহ, ৩৩ বার আল্লাহু আকবার পাঠ করবেÑ তাহলেই এ ফযীলত লাভ করবে। Ñসহীহ বুখারী, হাদীস ৮৪৩; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হাদীস ৭৪৯; সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস ২০১৪

সহীহ মুসলিম (হাদীস ৫৯৫) ও অন্যান্য হাদীস গ্রন্থেও সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ ও আল্লাহু আকবার প্রত্যেকটি ৩৩বার পড়ার কথা এসেছে। সহীহ মুসলিমের অপর বর্ণনায় (হাদীস ৫৯৭) এবং সুনানে আবু দাউদ (হাদীস ১৫০৪), মুসনাদে আহমাদ (হাদীস ৭২৪৩) ও সহীহ ইবনে হিব্বান (হাদীস ২০১৫)-এ এসেছেÑ প্রত্যেক ফরয নামাযের পর ৩৩ বার আল্লাহু আকবার, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ ও ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ পড়বে এবং একবারÑ

لَا إِلهَ إِلّا اللهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ.

। বলে ১০০ পূর্ণ করবে।

বি. দ্র. প্রত্যেক নামাযের পর ৩৩বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩বার আলহামদুলিল্লাহ ও ৩৪বার আল্লাহু আকবার পড়ার যে আমলটি প্রসিদ্ধ সেটাও সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত এবং এরও অনেক ফযীলত আছে। (সহীহ মুসলিম, হাদীস ৫৯৬; জামে তিরমিযী, হাদীস ৩৪১২)

দুই. ফজরের নামাযের পর সূযোর্দয় পর্যন্ত মসজিদে বসে যিকির করতে থাকা, এরপর দুই রাকাত নামায পড়া। আবু উমামা রা. থেকে বর্ণিত, নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন।

مَنْ صَلّى صَلَاةَ الْغَدَاةِ فِي جَمَاعَةٍ، ثُمَّ جَلَسَ يَذْكُرُ اللهَ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ، ثُمَّ قَامَ فَرَكَعَ رَكْعَتَيْنِ، انْقَلَبَ بِأَجْرِ حَجّةٍ وَعُمْرَةٍ.

قال المنذري في الترغيب (৬৭২) والهيثمي في المجمع (১৬৮৯৭): إسناده جيد.

যে ব্যক্তি জামাতের সঙ্গে ফজরের নামায আদায় করল, তারপর সূর্যোদয় পর্যন্ত মসজিদে বসে আল্লাহ্র জিকির করল, এরপর দুই রাকাত নামায আদায় করল, সে ব্যক্তি হজ্ব ও ওমরার সওয়াব নিয়ে ফিরল। Ñমুজামে কাবীর, তবারানী, হাদীস ৭৭৪১

তিন. ফরয নামাযের জন্য মসজিদের উদ্দেশে বের হওয়া। আবু উমামা রা. বর্ণনা করেন, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন।

مَنْ خَرَجَ مِنْ بَيْتِهِ مُتَطَهِّرًا إِلَى صَلَاةٍ مَكْتُوبَةٍ فَأَجْرُهُ كَأَجْرِ الْحَاجِّ الْمُحْرِمِ، وَمَنْ خَرَجَ إِلَى تَسْبِيحِ الضُّحَى لَا يَنْصِبُهُ إِلَّا إِيَّاهُ فَأَجْرُهُ كَأَجْرِ الْمُعْتَمِرِ.

যে ব্যক্তি অজু করে ফরয নামাযের উদ্দেশ্যে নিজের ঘর থেকে বের হয় সে হজ্ব আদায়কারীর মত সওয়াব লাভ করে। আর যে ব্যক্তি শুধু পূর্বাহ্নের নামায (চাশতের নামায) আদায়ের উদ্দেশ্যে কষ্ট করে মসজিদে যায়, সে ওমরা আদায়কারীর মত সওয়াব লাভ করে। Ñসুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৫৫৮; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ২২৩০৪

চার. দ্বীন শেখা বা শেখানোর লক্ষ্যে মসজিদে গমন করা। আবু উমামা রা. থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন।

مَنْ غَدَا إِلَى الْمَسْجِدِ لَا يُرِيدُ إِلَّا أَنْ يَتَعَلَّمَ خَيْرًا أَوْ يعلمهُ، كَانَ لَهُ كَأَجْرِ حَاجٍّ تَامّا حجّتُهُ.

قال العراقي في المغني: إسناده جيد.

وقال الهيثمي: ورجاله موثقون كلهم.

যে ব্যক্তি মসজিদে গেল কোনো ভালো কথা শেখা বা শেখানোর উদ্দেশ্যে, সে পরিপূর্ণরূপে হজ্ব আদায়কারীর ন্যায় সওয়াব লাভ করবে। ।মুজামে কাবীর, তবারানী, হাদীস ৭৪৭৩

পাঁচ. তাকওয়া ও আল্লাহ্র সন্তুষ্টির সাথে পিতা-মাতার খেদমত করা। আনাস রা. বলেন, এক ব্যক্তি নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে এসে বলল, আমার জিহাদ করতে খুব আগ্রহ, কিন্তু সামর্থ্য নেই। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তোমার মা-বাবা দুইজনের কেউ জীবিত আছেন কি? বলল, আমার মা জীবিত আছেন। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন।

فَأَبْلِ اللهَ فِي بِرِّهَا، فَإنَّكَ إِذَا فَعَلْتَ ذَلِكَ فَأَنْتَ حَاجّ وَمُعْتَمِرٌ وَمُجَاهِدٌ، إِذَا رَضِيَتْ عَنْكَ أُمُّكَ، فَاتّقِ اللهَ وَبِرّهَا.

قال العراقي في المغني: وإسناده حسن. وقال البوصيري في الإتحاف: رواه أبو يعلى والطبراني في الأوسط والصغير بإسناد جيد.

তাহলে মায়ের সেবা করে আল্লাহ্র সাথে সুন্দর সম্পর্ক স্থাপন কর। এটা যদি করতে পার এবং তোমার মা সন্তুষ্ট থাকেন তবে তুমি হজ্ব, ওমরাহ ও জিহাদের সওয়াব পেয়ে যাবে। সুতরাং আল্লাহকে ভয় কর এবং মায়ের সেবা কর। Ñমুসনাদে আবু ইয়ালা, হাদীস ২৭৬০; মুজামে আওসাত, তবরানী, হাদীস ২৯১৫

আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে উক্ত আমলগুলো করার তাওফীক দান করুন এবং এর মাধ্যমে হজ্ব ও উমরার সওয়াব লাভের তাওফীক দিন ।আমীন।

মাওলানা মুহাম্মাদ ইমরান হুসাইন এর কলম থেকে