বিশেষ প্রতিবেদন

যুগশ্রেষ্ঠ আধ্যাত্মিক সম্রাট আল্লামা “রূমি”র চরণে আমার নজরানা

প্রকাশিত: ১:২৩ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ২৭, ২০২১

“শুষ্ক মরুময় জীবনে প্রাণের সঞ্চারকারী

রেহনুমা -মাওলানা জালালুদ্দিন রুমী (রহঃ) “

—————————————————————-

“আমি জেনেছি প্রত্যেক নশ্বর সৃষ্টিই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে, তবে এ-ও জেনেছি যে, কেবল গুটি কয়েকই জীবনের আস্বাদ গ্রহণ করবে “।

 

লিখেছেন- তানজিনা আক্তার

শিক্ষার্থী: উর্দু বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

 

প্রেম ও প্রজ্ঞার বাহক নামে খ্যাত মাওলানা জালালুদ্দিন রুমী সম্পর্কে জানেন না কিংবা তাঁর প্রেমের মহাসমুদ্র থেকে নেহায়েত অত্যাল্প পরিমাণ বারি দিয়ে তৃষ্ণা নিবারণ করেননি এমন সাহিত্য প্রেমী খুঁজে পাওয়া দুষ্কর।

 

ত্রয়োদশ শতাব্দীতে মধ্য এশিয়া জুড়ে বিরাজ করছিল বিশৃঙ্খলাপূর্ণ রাজনৈতিক ও যুদ্ধ -সংঘাতের পরিস্থিতি। খ্রিস্টানদের সামরিক অভিযান ‘ক্রুসেড’ ইউরোপের পশ্চিম অংশ থেকে আনাতোলিয়া উপদ্বীপ পেরিয়ে এই অঞ্চলে আছড়ে পড়ছিল এবং পূর্ব দিক থেকে অপ্রতিরোধ্য মোঙ্গল বাহিনি ধেয়ে আসত এই অঞ্চলের ওপর হামলা চালাতে। দীপ্তিমান অতীন্দ্রিয় চেতনায় জাগ্রত হওয়ারও সময় ছিল তখন। মানবাত্মার মাঝে ঈশ্বরের সান্নিধ্য সৃষ্টিকারী বিশ্বের মহান প্রেমিকদের আবির্ভাবও ঘটেছিল এই সময়ে। তার মধ্যে জালালুদ্দিন রুমী অন্যতম। এই কবি, আইনজীবী, ইসলামী পণ্ডিত, ধর্মতত্ত্ববিদ এবং সুফি অতীন্দ্রিয়বাদী মাওলানা জালালুদ্দিন রুমী ১২০৭ সালে আফগানিস্তানের বালখে জন্মগ্রহণ করেন।

 

 

তাঁর বাবা বাহাউদ্দীন একজন সুপরিচিত আলেম। সেই সাথে তিনি বালখের একজন ধর্মতাত্ত্বিক ও আইনজ্ঞও ছিলেন। রুমীর অনুসারীদের কাছে তিনি ”সুলতান-আল-উলামা” নামেই পরিচিত।

 

বাবার হাত ধরেই শৈশবে ধর্মীয় জ্ঞানের পথে পা বাড়ান রুমী। তাঁর চিন্তা – চেতনার মূল স্রোতের শুরু সেখান থেকেই। পরিচিত আলেম সমাজের সাথে চলাফেরা, পড়াশোনার পাশাপাশি বহু মানুষের সাথে আলাপ – আলোচনাও তাঁর চিন্তার গভীরতা জন্য সহায়ক হিসেবে কাজ করেছে। অপরদিকে মাওলানা রুমির মা মুইমিনা খাতুনের পরিবার ছিল সে সময়ে সম্মানিত।

 

জালালুদ্দিন রুমির শৈশবের ঘটনা খুব একটা জানা যায় না, তবে বেশ কিছু ঘটনায় এটা স্পষ্ট হয় যে তিনি শৈশবে থেকেই আলাদা। শৈশবেই তিনি ছিলেন নিজের আলোয় আলোকিত আর বিকশিত। রুমীর তরুণ বয়সেই তাঁর পরিবারকে বালখ থেকে পালাতে হয় চেঙ্গিস খানের হামলার পূর্ব মুহূর্তে। রুমী ও তাঁর পরিবার এবং তাঁর বাবার কিছু অনুসারী নিয়ে প্রথমে দামেস্ক এবং সেখান থেকে নিশাপুরে যান। সেসময় রুমী চলার পথে অনেকের সান্নিধ্যে আসেন, যা তাঁর জ্ঞানের গভীরতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হিসেবে কাজ করে। তার মধ্যে একজন হলেন কবি ও শিক্ষক ফরিদউদ্দীন আত্তার। তিনি কিশোর রুমীর মধ্যে বিরাট আধ্যাত্মিক চেতনার অস্তিত্ব দেখতে পান।

 

বাহাউদ্দীনের একটু পিছনে রুমীকে দেখেই নাকি তিনি বলেছিলেন –

“একটি সাগর আসছে, তাকে অনুসরণ করছে একটি মহাসাগর “।

 

নিজের এই অন্তর্দৃষ্টিকে সম্মান করতেই তিনি রুমীকে একটি গ্রন্থ উপহার দেন “ইলাহিনামা” (আল্লাহর গ্রন্থ)। (চলবে)….