যুক্তরাষ্ট্রে কাউকে করোনার টিকা নিতে বাধ্য করা হবে না: অ্যান্থনি ফসি

প্রকাশিত: ৭:২৬ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২০, ২০২০
ড. অ্যান্থনি ফাউসি

করোনার ভ্যাকসিন বা টিকা প্রত্যেক নাগরিকের জন্য বাধ্যতামূলক নয় কিংবা টিকা নিতে কাউকে জোরও করা হবে না। এমনটাই জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ও হোয়াইট হাউসের প্রধান স্বাস্থ্য উপদেষ্টা অ্যান্থনি ফসি। তিনি হোয়াইট হাউসে স্থানীয় সময় গতকাল বুধবার রাতে কোভিড টাস্ক ফোর্সের ভিডিও কনফারেন্সে একথা জানান।

ফসি বলেন, ভবিষ্যতে জোর করে ভ্যাকসিন নেওয়ার জন্য কোনো নিয়ম চালু করা হবে না। তবে শিশুদের সুরক্ষার জন্য ভ্যাকসিন বাধ্যতামূলক করা হতে পারে বলে জানান তিনি। সংবাদ সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ায় করোনার ভ্যাকসিন নেওয়া বাধ্যতামূলক ঘোষণা করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন। ফসির দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে তেমনটা হবে না। হোয়াইট হাউসে কোভিড টাস্ক ফোর্সের ভিডিও কনফারেন্সে ফসি বলেন, ‘কোনো নির্দেশনা জারি হবে না, আইন চালু হবে না, কোনোভাবেই ভ্যাকসিন নিতে জোর করা হবে না। শুধু কিছু উচ্চ মাত্রার ঝুঁকিতে থাকা গোষ্ঠির ক্ষেত্রে ভ্যাকসিন বাধ্যতামূলক করা হতে পারে।’

ফসি জানান, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী—যাঁরা সামনে থেকে কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসা করছেন, তাঁদের সুরক্ষার জন্য করোনার ভ্যাকসিন বাধ্যতামূলক করা হতে পারে। তা ছাড়া শিশুদের কম ডোজে টিকা দেওয়া হতে পারে।

সাধারণ মার্কিন নাগরিক যাঁরা ভ্যাকসিন নিতে ইচ্ছুক এবং যাঁদের শারীরিক কোনো সমস্যা নেই, তাঁদের ভ্যাকসিন দেওয়া হবে বলেই জানিয়েছেন হোয়াইট হাউসের প্রধান স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ফসি। কিছুদিন আগে ফসি বলেছিলেন করোনার ভ্যাকসিন আসতে এখনো বেশ দেরি। মানবদেহে পরীক্ষা শেষ করে পর্যায়ক্রমে পর্যবেক্ষণের পাট চুকিয়ে বিশ্বের বাজারে করোনার ভ্যাকসিন আসতে কম করেও এক বছর সময় লাগবে। তবে শুধু অ্যান্থনি ফসি নন, আরো বেশ কয়েকটি বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান, জৈবপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও ফার্মাসিউটিক্যাল ইউনিটের বক্তব্যও এমনটাই ছিল। কিন্তু গতকাল ফসি বলেছেন, যেভাবে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনের ট্রায়াল দ্রুতগতিতে চলছে, তাতে আশা করাই যায় এ বছর শেষেই করোনার ভ্যাকসিন চলে আসবে হাতে।

যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার সঙ্গে ভ্যাকসিন তৈরির দৌড়ে সমান তালে পাল্লা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের দুই ফার্মাসিউটিক্যাল জায়ান্ট মডার্না বায়োটেক ও ফাইজার। মডার্নার ভ্যাকসিনের তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন জায়গায় অন্তত ৩০ হাজার জনকে ভ্যাকসিন দেওয়ার বৃহত্তর কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। মডার্নার মেসেঞ্জার আরএনএ (এমআরএনএ) ভ্যাকসিন বা ‘এমআরএনএ-১২৭৩’ ভ্যাকসিন ক্যানডিডেটর গবেষণা ও ট্রায়ালের দায়িত্বে শুরু থেকেই রয়েছে ফসির ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ। ফসির বক্তব্য, মডার্নার ভ্যাকসিনের প্রথম পর্যায়ের ট্রায়ালের পর দেখা গেছে মানুষের শরীরে অ্যান্টিবডি বা রোগ প্রতিরোধক তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গেছে। তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়ালের প্রতিবেদন দেখেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, জার্মান সংস্থা বায়োএনটেকের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিলসহ বিশ্বের কয়েকটি দেশে ভ্যাকসিনের ট্রায়াল শুরু করেছে মার্কিন ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি ফাইজার। মডার্নার মতোই রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড (আরএনএ) ভ্যাকসিন তৈরি করছে ফাইজার। এ সংস্থার তৈরি ভ্যাকসিন নিয়েও আশাবাদী অ্যান্থনি ফসি।