যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক সংঘাত-হামলা আর ‍লুটপাট

প্রকাশিত: ৩:৫৬ অপরাহ্ণ, মে ৩১, ২০২০

যুক্তরাষ্ট্রে শেতাঙ্গ পুলিশ হেফাজতে এক কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকান জর্জ ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বিক্ষোভ ক্রমেই লুটপাট আর সহিংসতায় রূপ নিচ্ছে। গতকাল শনিবার রাতে বিক্ষোভের আড়ালে লস অ্যাঞ্জেলসে রীতিমতো তাণ্ডব চালিয়েছে দুষ্কৃতকারীরা। শহরের বেশ কয়েকটি মার্কেট ও সুপারশপের গেট ভেঙে লুটপাট হয়েছে ব্যাপক, আগুন দেয়া হয়েছে পুলিশের কিয়স্কেও। মেলরোজ অ্যাভিনিউয়ে একটি এটিএম বুথ ভেঙে সেটি নিয়ে যেতে দেখা গেছে লুটেরাদের। অন্যরাও বেশ কয়েকটি দোকান ভাঙচুর করেছে।
লস অ্যাঞ্জেলস টাইমস জানিয়েছে, শনিবার রাতে গ্রুভ শপিংমলে ঢুকে লুটপাট চালায় দুষ্কৃতকারীরা। বাদ যায়নি নর্ডস্ট্রম ডিপার্টমেন্টাল স্টোরও। এসব দোকান থেকে বড় বড় ব্যাগ ও বক্স নিয়ে পালিয়ে যেতে দেখা গেছে বেশ কয়েকজনকে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শনিবার রাত ৮টা থেকে ভোর সাড়ে ৫টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয় লস অ্যাঞ্জেলসে। বেভারলি হিলসে রাতভর টহল দিয়েছেন বাড়তি পুলিশ সদস্যরা। এসময় সবাইকে ঘরে থাকার আহ্বান জানান শহরের মেয়র লেস্টার ফ্রায়েডম্যান।
স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল কেএবিসি টিভি জানিয়েছে, শনিবার রাতের সহিংসতায় এ পর্যন্ত পাঁচ শতাধিক মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
জানা যায়, মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিস শহরে একটি রেস্তোরাঁয় নিরাপত্তাকর্মীর কাজ করতেন ৪৬ বছর বয়সী জর্জ ফ্লয়েড। গত ২৫ মে সন্ধ্যায় প্রতারণার অভিযোগে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। এসময় এক পুলিশ কর্মকর্তা প্রকাশ্যে রাস্তায় মাটিতে ফেলে হাঁটু দিয়ে গলা চেপে ধরেন জর্জের। এভাবে অন্তত আট মিনিট তাকে মাটিতে চেপে ধরে রাখা হয়।
এক প্রত্যক্ষদর্শীর তোলা ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, জর্জ ফ্লয়েড নিঃশ্বাস না নিতে পেরে কাতরাচ্ছেন এবং বারবার একজন শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তাকে বলছেন, ‘আমি নিঃশ্বাস নিতে পারছি না।’
এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক মাত্রায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভকারীদের উপর টিয়ার গ্যাস এবং রাবার বুলেট ছুড়েছে দাঙ্গা পুলিশ। কয়েকটি শহরে পুলিশের যানে আগুন দেয়া হয়েছে।
এই সংঘর্ষের জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ভাষায় “লুটেরা এবং বিশৃঙ্খলাকারীদের” দোষারোপ করেছেন।
৪৪ বছর বয়সী শ্বেতাঙ্গ সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ডেরেক চউভিনকে তার মৃত্যুর জন্য অভিযুক্ত করা হয়েছে এবং সোমবার তাকে আদালতে তোলার কথা রয়েছে। ওই সময়ে উপস্থিত থাকা আরো তিন পুলিশ কর্মকর্তাকেও বরখাস্ত করা হয়েছে।
জর্জিয়া, আটলান্টায় শুক্রবার বিক্ষোভকারীরা ভাংচুর চালানোর পর জান-মালের নিরাপত্তায় সেখানে জরুরী অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। মিনেয়াপোলিস, নিউইয়র্ক, মায়ামি, আটলান্টা এবং ফিলাডেলফিয়ায় বিক্ষোভ করেছে হাজার হাজার মানুষ। অন্যান্য শহরের সাথে মিনেয়াপোলিস, আটলান্টা, লস এঞ্জেলেস, ফিলাডেলফিয়া, পোর্টল্যান্ড এবং লুইসভিলে রাতভর কারফিউ জারি করা হয়েছে।
শুক্রবার মিনেসোটায় ন্যাশনাল গার্ডের কয়েকশ সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। ন্যাশনাল গার্ড যুক্তরাষ্ট্রের সংরক্ষিত সামরিক বাহিনী যাদেরকে অভ্যন্তরীণ জরুরী অবস্থা সামাল দিতে প্রেসিডেন্ট কিংবা রাজ্যের গর্ভনর ডাকতে পারে।

এদিকে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় মি. ট্রাম্প বলেছেন মি. ফ্লয়েডের মৃত্যু “আমেরিকাবাসীকে ভয়, ক্রোধ এবং শোকে নিমজ্জিত করেছে।” “শান্তিপ্রিয় প্রতিটি আমেরিকানের সামনে বন্ধু হিসেবে দাঁড়াবো আমি,” ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল থেকে টেলিভিশনে ভাষণে এ কথা বলেন তিনি।
ট্রাম্প “লুটেরা এবং বিশৃঙ্খলাকারীদের” কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, তাদের এ ধরনের কাজ মি. ফ্লয়েডের স্মৃতিকে অসম্মান করবে। তিনি বলেন, বিশৃঙ্খলা নয় বরং ন্যায়বিচার। জনগণের এহেন কর্মকাণ্ড আমি সহ্য করবো না, এটা চলতে পারে না।

তথ্যসূত্র- ইনকিলাব