যশোরে ওসির ফেসবুক লাইভে তৈরি হলো সেতু

প্রকাশিত: ১২:৫৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৩, ২০২০

যশোরের চৌগাছার নারায়নপুর ইউনিয়নের কপোতাক্ষ নদের উপর একটি সেতু নিয়ে মানুষের দুর্ভোগ ছিলো চরমে। থানার ওসি ওই এলাকায় গিয়ে মানুষের এই দুর্ভোগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক একটি লাইভ করেন। এরপর নদের দু’পারের হাজারো মানুষের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেলেন।

ফেসবুকে লাইভ করলে বিষয়টি নজরে পড়ে উপজেলা চেয়ারম্যানের। নিমার্ণ করা হয় কাঠের সেতু। নিমার্ণ শেষে কাঠের সেতুটি সাধারণ মানুষদের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এতে খুশি স্থানীয়রা। স্থানীয়রা খুশি হলেও এখন তাদের দাবি এখানে স্থায়ী সেতু নিমার্ণের। তারা জানান- ‘ওসি সাবেব এবং উপজেলা চেয়ারম্যান মিলে যে কাজটি করেছেন সেজন্য আমরা ধন্যবাদ জানাই। সেই সঙ্গে এখানে একটি স্থায়ী সেতু নিমার্ণের অনুরোধ জানাই।’

যশোরের চৌগাছা উপজেলার নারায়নপুর ইউনিয়নের হাজরাখানা ও পাতিবিলা ইউনিয়নের নিয়ামতপুর গ্রামের পাশাপাশি অবস্থান। মাঝ দিয়ে বয়ে চলেছে কপোতাক্ষ নদ। পীর বলুহ দেওয়ানের মাজারও এ হাজরাখানা গ্রামে। এ দুই গ্রামের মানুষ এবং পীর বলুহ দেওয়ানের ওরসের সময় হাজারো মানুষের যাতায়াতের জন্য এ নদের ওপরে ছিলো একটি বাঁশের সাঁকো। কিন্তু সেই সাঁকো পারাপারে সবাইকেই ১০ টাকা করে দিতে হতো। জানতে পেরে চৌগাছা থানার ওসি রিফাত খান রাজীব ঘটনাস্থলে থেকে পুরো ঘটনা ফেসবুকে লাইভ দেখান। ওসি সেই টাকা আদায়কারি ব্যক্তিকে টাকা উঠাতে নিষেধ করেন। ফের টাকা উঠালে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানিয়ে আসেন। এ ঘটনার পর সেই বাঁশের সাঁকোটি রাতের আঁধারে দুর্বত্তরা ভেঙে দিলে ভোগান্তিতে পড়েন ওই সেতুতে চলাচলকারী দুই গ্রামের মানুষজন।

যশোর চৌগাছা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রিফাত খান রাজীব বলেন- ‘মানবিক দিক বিবেচনা করে আমি বিষয়টি লাইভ করি। নদী পারাপারে সাধারণ মানুষে প্রতিদিন ১০ টাকা দেয়া সম্ভব না। লাইভ করার ফলে বিষয়টি সকলের নজরে আসে। লাইভটি ৫০লাখ ভিউ হয়। এরপর উপজেলা প্রশাসন তাৎক্ষনিকভাবে ২ লাখ টাকা বরাদ্দ করে কাঠের সেতু নির্মান করে দেন। এতে এলাকার মানুষ খুবই খুশি।’

ওসির ফেসবুক লাইভ ভিডিও দেখে এবং সাঁকো ভেঙে দেওয়ার ঘটনা জানতে পেরে উপজেলার চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ড. মোস্তানিছুর রহমান তড়িৎ সেটি নির্মাণ করতে এডিবির প্রকল্পভুক্ত করেন। পরে কাঠের সেতু নিমার্ণ করে দেন। যশোর চৌগাছা উপজেলার চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ড. মোস্তানিছুর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন- ‘ছাত্র-ছাত্রীদের ও কষ্ট হচ্ছিলো। তাই আমরা এডিবির অর্থায়নে সাঁকোটি তৈরী করে জনদুর্ভোগ লাঘোব করেছি।’

চৌগাছা উপজেলার সহয়াতায় এডিবির অর্থায়নে কাঠের সেতুটি নির্মাণে ব্যায় হয়েছে ২ লাখ টাকা।