মোবাইল না দেয়ায় বাবার নামে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ!

প্রকাশিত: ৬:৫৭ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৩, ২০২০

মোবাইল কিনে না দেওয়ায় কয়েকজনের ষড়যন্ত্রে বাবার বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ এনেছিল ১২ বছরের এক কিশোরী। পুলিশের কাছে সে অভিযোগ করলেও পরবর্তী সময় বিচারকের কাছে গোপন জবানবন্দি দিতে গিয়ে আসল ঘটনা স্বীকার করে। ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা ও মেয়েটির গোপন জবানবন্দিকে ‘পাথুরে প্রমাণ’ হিসেবে সামনে রেখে আদালত অভিযুক্ত বাবা মহম্মদ জাভেদকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়।

গত বৃহস্পতিবার শিয়ালদহের প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক জীমূতবাহন বিশ্বাস এই রায় দিয়েছেন। রায় ঘোষণার পর ওই কিশোরীকে হোমে পাঠানোর নির্দেশ দেন তিনি। মামলার বিশেষ সরকারি আইনজীবী অসীম কুমার শনিবার বলেন, বিচারক মহম্মদ জাভেদকে পকসো মামলা থেকে বেকসুর খালাসের নির্দেশ দিয়েছেন। থানায় এক রকম অভিযোগ, আর বিচারকের কাছে জবানবন্দি দিতে গিয়ে অন্য ভাষ্য- এ জিনিস চলতে পারে না। যা হওয়ার তাই হয়েছে। এক্ষেত্রে আমার কিছু করণীয় নেই।

তদন্তকারী পুলিশ অফিসারকে এনিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আদালতের রায়ের কথা শুনেছি। তবে এখনও নির্দেশের কপি হাতে পায়নি। তাই এ নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে পারছি না।

আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতার এন্টালি থানার মতিঝিল কনভেন্ট লেনের বাসিন্দা ওই কিশোরী গত ৮ জুলাই মাকে সঙ্গে নিয়ে থানায় গিয়ে বাবার বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ করে। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ শ্লীলতাহানি ও পকসো আইনে মামলা করে কিশোরীর বাবা মহম্মদ জাভেদকে গ্রেপ্তার করে। আদালত সূত্রের খবর, পরের দিনই একজন বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে গোপন জবানবন্দি দেয় ওই কিশোরী।

সরকারি আইনজীবী বলেন, সেখানেই মেয়েটি আসল ঘটনার কথা কবুল করে। ওঠে আসে মোবাইল ফোনের প্রসঙ্গ। সে বলে, তার বাবা তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেনি। মোবাইল ফোন কিনে না দেওয়ায় রাগে ক্ষোভে সে এই কাণ্ড ঘটিয়েছে। বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট ওই গোপন জবানবন্দির নথি সিল করা খামে পাঠিয়ে দেন পকসোর বিশেষ আদালতের বিচারকের কাছে। বিচারক জীমূতবাহন বিশ্বাস থানায় দায়ের হওয়া অভিযোগের কপি ও গোপন জবানবন্দির নথি দেখে সেদিনই ‘অভিযুক্ত’ বাবাকে মুক্তি দেন।