মৃত লাশের পোস্টমর্টেম-ময়না তদন্ত: কী বলে ইসলাম

প্রকাশিত: ৬:৫২ অপরাহ্ণ, জুলাই ২, ২০২০

লিখেছেনঃ মুহাদ্দিস জামিয়া আরাবিয়া দারুল উলূম, নারায়ণগঞ্জ
মানুষ আশরাফুল মাখলুকাত। সৃষ্টির সেরা। সেরা সৃষ্টিকে সেরা সম্মান দিয়েছেন মহান আল্লাহ। মহাগ্রন্থ আল কোরআনে ইরশাদ হচ্ছে, ‘আমি আদমের সন্তানকে সম্মান দিয়েছি, স্থলে সমুদ্রে তাদের চলাচলের জন্য বাহন দিয়েছি, তাদের উত্তম রিজিক দিয়েছি এবং যাদের সৃষ্টি করেছি, তাদের অনেকের ওপর তাদের শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি।’ (সূরা বনি ইসরাঈল, আয়াত : ৭০)

মানুষ জীবিতাবস্থায় যেমন সম্মানিত তেমনি মৃত্যুর পরও সম্মানিত। ইসলামী শরিয়তে কোনো মানুষ মারা গেলে দাফনের আগ পর্যন্ত মৃতের দৈহিক মর্যাদা সুনিশ্চিত করা জীবিতদের দায়িত্ব।

জীবিতাবস্থার মতো মারা যাওয়ার পরও মৃতদেহের সম্মান ও সুরক্ষা করা জীবিতদের কর্তব্য। তাই মৃত ব্যক্তিকে সযতেœ কাফন দেওয়া, জানাযা ও দাফনের ব্যবস্থা করা মুসলিম সমাজের অত্যাবশ্যকীয় একটি বিধান। হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, ‘মৃতের হাড় ভাঙ্গা জীবিত অবস্থায় ভাঙ্গার মতোই।’ -আবু দাউদ ৪৫৮ বুঝা গেল মৃত্যুর পর মৃতের কোন রকম অসম্মান হয় এরকম আচরণ করা যাবে না।

এখন কোনো মানুষ যখন এক্সিডেন্ট করে বা রহস্যজনক মৃত্যু হয় তখন কি তার মৃত্যুর কারণ শনাক্ত করার জন্য পোস্টমর্টেম বা ময়না-তদন্ত করার সুযোগ আছে?- এতেও তো মৃতের অসম্মান হচ্ছে। কিন্তু আবার করতেও হচ্ছে! তাহলে আমাদের এখন কি কর্তব্য?

এ ব্যাপারে ইসলাম বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য হলো, পোস্টমর্টেমের মাধ্যমে ডাক্তারী পরীক্ষা-নীরিক্ষা অনেক সময় শরয়ী প্রয়োজন ছাড়াই করা হয়। যদি শরয়ী প্রয়োজন ছাড়া করা হয় তাহলে তা নাজায়েয। বিশেষ কোনো শরয়ী প্রয়োজনে যদি করতেই হয় তাহলে তা শরীয়তের নির্দেশনার ভিত্তিতে করতে হবে। যেমন -সতরের ব্যাপারে সতর্ক থাকা এবং মৃতের সম্মানের প্রতি সজাগ থাকা অপরিহার্য।

অনেক সময় অপরাধ নির্ণয়, অপরাধের ধরন এবং অপরাধী চিহ্নিত করার জন্য ময়না তদন্তের প্রয়োজন হয়। এমতাবস্থায় প্রয়োজন অনুযায়ী ময়না তদন্তের অবকাশ রয়েছে। কিন্তু যেখানে মৃত্যুর কারণ সুস্পষ্ট বা অপরাধী নিজ অপরাধ স্বীকার করে অথবা মৃতের অভিভাবক ময়না তদন্ত করাতে অস্বীকার করে এবং তারা হত্যা বিষয়ে সন্দেহকারী না হয়, তবে ময়না তদন্ত করা যাবে না। – কেফায়াতুল মুফতী ২/২০০; কিতাবুল ফাতাওয়া ৩/২৫০