মুশফিকুর রহিম : একজন পরিশ্রমী ক্রিকেটারের নাম

প্রকাশিত: ৩:৩১ অপরাহ্ণ, জুন ১৯, ২০২০

৫’৩” উচ্চতার সহজ-সরল মনমানসিকতার একজন মানুষ। এই মানুষটির জন্ম হয়েছিলো ৯ জুন ১৯৮৭ সালে। বগুড়ায় মা-বাবার কোলে আলো হয়ে এসেছিলেন তিনি। ছোট বেলায় ইচ্ছে ছিলো বড় হয়ে কটকটি বিক্রেতা হবে। হয়তো তখন জানতোই না তিনি একদিন দেশসেরা ব্যাটসম্যান হবেন!

কিন্তু বাবার স্বপ্ন ছিলো ছেলেটিকে ক্রিকেটার বানাবেন, অনেক বড় ক্রিকেটার। সেই লক্ষ্যে বয়স বাড়ার সাথে সাথে মুশফিককে ভর্তি করিয়ে দেন বিকেএসপিতে। সেখানেই শুরু হয় মুশফিকের ক্রিকেট দীক্ষা। সেই সাথে পড়াশোনাও চালিয়ে যান পুরোদমে।

ছোটবেলা থেকেই ছিলো প্রচন্ড জেদী একজন মানুষ। তাইতো বাবার স্বপ্নকে পূরণ করতে নিজের উপর একপ্রকার জেদ ধরে বসলেন। জেদ ছিলো নিজেকে সেরা রূপে প্রমান করার। এবং তিনি পেরেছেন, পেরেছেন বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে।

সময়ের সাথে নিজেকে ক্রিকেটের ২২ গজে প্রমান করেই যাচ্ছেন তিনি। হয়েছেন দেশের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান। কিন্তু ছোটবেলায় তার ইচ্ছে ছিল বোলার হবার। কিন্তু  উচ্চতা কম হওয়ার কারনে সেটা সম্ভব হয়নি। তাতে কি? বোলার না হলেও হয়েছেন তো দেশসেরা ব্যাটসম্যান সাথে দেশের পক্ষে সর্ব্বোচ্চ ডিসমিসাল করা উইকেটরক্ষক।

লাল-সবুজের জার্সিতে ক্যারিয়ারের শুরুটা ৯ নাম্বার জার্সি দিয়ে হলেও এখন পেছনের নাম্বারটি ১৫। এই জার্সিতে পার করেছেন অনেক বছর। সাক্ষী হয়ে আছেন অনেক জয়ী ম্যচের। ক্রিকেট ক্যারিয়ারে পার করেছেন নানান চড়াই উৎরাই। কখনো বা হয়েছেন নায়ক আবার কখনো হয়েছেন খলনায়ক! কিন্তু দিনশেষে নিজেকে নিয়ে যাচ্ছেন অনেক উপরে।

নামের পাশে যুক্ত করেছেন মি.ডিপেন্ডেবল তকমা। এই মুশির ব্যাটেই এসেছে টেষ্ট ক্রিকেটে দেশের হয়ে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি! রয়েছে বিশ্বের প্রথম উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান   হিসেবে টেষ্ট ক্রিকেটে ২ টি ডাবল সেঞ্চুরির রেকর্ড! রয়েছে দেশের পক্ষে টেষ্টে সর্বোচ্চ ৩ টি টেস্ট ডাবল সেঞ্চুরি।

এই মুশফিকের ওয়ানডে ক্যারিয়ার আরও উজ্জ্বল। ২১৮ ম্যাচের ২০৪ ইনিংসে ব্যাটিং করে সর্ব্বোচ্চ ১৪৪ রানে ৩৬.১১ গড়ে ৩৮ ফিফটি এবং ৭ সেঞ্চুরিতে ৬১৭৪ রান করেন। ৩ য় বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসেবে ৬ হাজার রানের মাইলফলকও স্পর্শ করেছেন তিনি। বাংলাদেশর ৩ য় ব্যাটসম্যান হিসেবে বিশ্বকাপে সেঞ্চুরি করেন মুশি।

বয়স হয়েছে তবুও ফিটনেসে সবার সেরা তিনি। ধৈর্য্য, পরিশ্রম, আর রয়েছে নিজেকে ছাড়িয় যাওয়ার তাড়না। আর সবচেয়ে বেশি যেটা আছে সেটা হলো হার নামানার মানসিকতা। অনেক কঠিন ম্যাচ জিতিয়ে হয়েছেন নায়ক, কখনো ম্যাচ হারিয়ে হয়েছেন সমালোচিত। দিনশেষে তিনিই বাংলাদেশের সবচেয়ে পরিশ্রমী ক্রিকেটার।