মিরাকল অফ কোরআন

প্রকাশিত: ১০:৩৫ অপরাহ্ণ, মে ২৪, ২০২০

লিখেছেনঃ আতিকুর রহমান

কোরআনে যেমন বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখার নানা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উল্লেখিত হয়েছে ঠিক তেমনি ঐতিহাসিক বিভিন্ন ঘটনাও উল্লেখিত হয়েছে কোরআনে কারীমে। কোরআনের বিভিন্ন স্থানে আল্লাহ তা’আলা অনেক জাতির কথা উল্লেখ করেছেন যাদের তিনি অবাধ্যতার কারণে সমূলে ধ্বংস করে দিয়েছিলেন। এমনই এক জাতির নাম কোরআনে উঠে এসেছে যে জাতির নাম হোল আদ জাতি। এ জাতিকে আল্লাহ তা’আলা প্রচন্ড ঝঞ্জার মাধ্যমে ধ্বংশ করে দেন।

কোরআন শুধু আদ জাতির ধ্বংস হবার কথা উল্লেখ করেই শেষ করেনি বরং তাদের ভৌগোলিক অবস্থান সম্পর্কেও তথ্য দিয়েছে। যা রীতিমতো বিস্ময়কর। আসুন এবার বিষয়টির গভীরে ঢোকা যাক।

আদ জাতি সম্পর্কে আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ
“আপনি কি লক্ষ্য করেননি, আপনার পালনকর্তা আদ বংশের ইরাম গোত্রের সাথে কি আচরণ করেছিলেন। যাদের দৈহিক গঠন স্তম্ভ ও খুঁটির ন্যায় দীর্ঘ ছিল এবং যাদের সমান শক্তি ও বলবীর্যে সারা বিশ্বের শহরসমূহে কোন লোক সৃজিত হয়নি।” [সূরা আল ফজর-৮৯:৬-৮]

উপরে উল্লেখিত আয়াতে আরবী শব্দ إرم “ইরাম” ব্যবহৃত হয়েছে। এই শব্দ বলতে কি বোঝানো হয়েছে তা তাফসীর বিশারদগনের নিকট ইতিপূর্বে পরিস্কার ছিল না। আর এজন্য উপরে উল্লেখিত আয়াতে শব্দটির অনুবাদ করা হয়েছে ইরাম গোত্র হিসেবে। কিন্তু ১৯৭৩ সালে মাটি খননের সময় সিরিয়ার প্রাচীন নগরী এবলুসের নিকটবর্তী স্থানে মাটির নীচে প্রাচীন এক শহরের সন্ধান পাওয়া যায়। এ শহরের বিভিন্ন স্থানে উঁচু দালানসমূহের মাঝে একটি কক্ষের সন্ধান মিলে যা আসলে ছিল এক লাইব্রেরী। কেননা এতে প্রচুর সংখ্যক কাঁদার তৈরী ট্যাবলেট সংরক্ষিত ছিল। এসব ট্যাবলেটে বিভিন্ন প্রাচীন চুনেইফরম (cuneiform) ভাষার লিখা ছিল। প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে এ ট্যাবলেটগুলোর বয়স আনুমানিক চার হাজার বছর। এসব কাঁদার ট্যাবলেটের এক কপিতে খুঁজে পাওয়া যায় এবলুসের বাসিন্দারা যেসব শহরের সাথে বাণিজ্য করতো সেসব শহরের নাম। সে তালিকায় “ইরাম” নামে একটি শহরের নামও পাওয়া যায়। যে স্থানের নাম কোরআনের উপরে উল্লেখিত আয়াতে বর্ণিত হয়েছে। এ থেকে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে আদ জাতির সাথে সম্পৃক্ত ইরাম শব্দটি আসলে কোন গোত্রের নাম নয় বরং এটি একটি শহরের নাম যেখানে আদ জাতির বসবাস ছিল। উল্লেখ্য ১৯৭৮ সালে ন্যাশনাল জিওগ্রাফি চ্যানেল এ লাইব্রেরির উপর একটি ডকুমেন্টারি রিপোর্ট প্রচার করে।

কোরআন নাজিল হয়েছে আজ থেকে ১,৪০০ বছর আগে। আদ জাতির সাথে কোরআন নাজিল সময়কার ব্যবধান ছিল প্রায় ২,৬০০ বছর। জাহেলিয়াতের যুগে ২,৬০০ বছর আগের ইতিহাস সংরক্ষিত থাকবে আর পরবর্তীতে তা হারিয়ে যাবে এ দু’টি বিষয়ই অসম্ভব। বরং এ শহরের নাম খুঁজে পাওয়া গেল আজ থেকে মাত্র (২০২০-১৯৭৩) ৪৭ বছর আগে। তাহলে ইরাম শহরের নাম কোরআনে কিভাবে আসলো?