মিরাকল অফ কুরআন (দ্বিতীয় পর্ব)

প্রকাশিত: ১:৪০ পূর্বাহ্ণ, মে ২৬, ২০২০

লিখেছেনঃ আতিকুর রহমান।

প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতা সম্পর্কে আমরা অনেকেই কম-বেশী জানি। আমরা জানি এক দৌর্দন্ত প্রতাপশালী শাসক ছিল মিশরে। ইতিহাস থেকে জানা যায়, মিশরীয় শাসক ফারাওদের (ফেরাউনদের) সভ্যতা পাঁচ হাজার বছরেরও বেশি সময় আগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তাদের ছিল শক্তি এবং উন্নত প্রযুক্তি। তারা রসায়ন, মমিফিকেশন, স্থাপত্য এবং জ্যোতিষশাস্ত্রের মতো জটিল বিষয়গুলো অধ্যয়ন করতো। ঐতিহাসিক অধ্যয়নগুলি থেকে এও জানা যায় সে সময়ের মানুষ বিলাসিতা, আনন্দ এবং ফূর্তীময় লাইফ স্টাইলে অভ্যস্ত ছিল। পারিপার্শ্বিক পরিবেশ ছিল তাদের অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির জন্য সহায়ক।

মানুষ বিশ্বাস করতো, ফারাওরা আজকের অঞ্চলের মতো মরু অঞ্চলে পিরামিডগুলি স্থাপন করেছিল। কিন্তু এই বিশ্বাসটি সম্প্রতি ভুল প্রমাণিত হয়েছে। কিন্তু কিভাবে? বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে ফারাওদের এবং পিরামিডগুলি নির্মাণের পিছনের অজানা বিষয়গুলি নিয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে আসছিল। প্রচুর সংখ্যক শিলালিপি এবং পাণ্ডুলিপি অধ্যয়ন এবং বিশ্লেষণ করেও তারা সিদ্ধান্ত নেয়ার মতো কোনও বৈজ্ঞানিক প্রমাণ খুঁজে পাচ্ছিল না যে কেমন ধরণের প্রাকৃতিক পরিবেশ সে সময় বিরাজমান ছিল।

তবে বিজ্ঞানীরা অতি সম্প্রতি প্রমাণ পেয়েছেন যে মিশরে পিরামিডগুলি যে ঐতিহাসিক স্থানগুলিতে অবস্থিত সে স্থানসমূহ একসময় নদী এবং বনানীতে সমৃদ্ধ ছিল। বৈজ্ঞানিক এ সত্যটি ছিল কয়েক বছর অবধি চলমান বৈজ্ঞানিক গবেষণার ফল। যা ২০১২ সালের মাঝামাঝি সময়ে প্রথম পাবলিশ করা হয়। গবেষকরা বলছেনঃ তারা প্রথমবারের মতো আবিষ্কার করতে পেরেছেন যে প্রাচীন মিশরে ফারাওদের সভ্যতার পতনের জন্য জলবায়ু পরিবর্তন (Climate change) ছিল একটি মূল কারণ। (সূত্রঃ ডেইলি মেইল, ২৯ শে মে, ২০১২ সংস্করণ)।

এ বিষয়ে অধ্যাপক লিভিউজিওসান্টোর ও একদল গবেষক দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে পুঙ্খানুপুঙ্খরুপে গবেষণা চালিয়েছিলেন। উপগ্রহ থেকে সংগৃহিত উপাত্তের মাধ্যমে তারা এ সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে নদীসমূহের সাথে এই প্রাচীন সভ্যতা প্রতিষ্ঠায় অবদান ছিল এবং এ জাতিয় নদী বিলিন হয়ে যাবার ফলে সভ্যতাও হাজার হাজার বছরের ব্যবধানে ধীরে ধীরে অদৃশ্য হয়ে যায়। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালযয়ের অধ্যাপক মাইকেল পেট্রাগ্লিয়াওফ বলেনঃ বালির নীচে নদীর এক বিশাল নেটওয়ার্ক রয়েছে যা একসময় মিশরীয় সভ্যতার মূূূল চালিকাশক্তি ছিল এবং এর ফলে প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে ফারাওরা একটি শক্তিশালী রাজ্য প্রতিষ্ঠায় সক্ষম হয়েছিল। (সূত্রঃ ডেইলি মেইল, সংস্করণ ১ ১৭ আগস্ট, ২০১২)। এ রিপোর্টে আরও বলা হচ্ছে শক্তিশালী জাতি হয়েও জলবায়ুর পরিবর্তনের নেতিবাচক দিক মোকাবিলায় তারা সক্ষম ছিলো না।

পবিত্র কুরআন ১৪০০ বছর পূর্বে এই ফারাওদের সভ্যতা সম্পর্কে এমন বিস্ময়কর তথ্য উপস্থাপন করেছে যা সাম্প্রতিক গবেষণার সাথে হুবহু মিলে যাছে। কোরআন বলছেঃ
“ফেরাউন তার সম্প্রদায়কে ডেকে বলল, হে আমার কওম, আমি কি মিসরের অধিপতি নই? এই নদী গুলো আমার নিম্নদেশে প্রবাহিত হয়, তোমরা কি দেখ না?
[সূরা যুখরুফ:৪৩ঃ৫১]

কোরআন অপর এক স্থানে বলছেঃ
“ফেরআউনের দলকে তাদের বাগ-বাগিচা ও ঝর্ণাসমূহ থেকে বহিষ্কার করলাম। এবং ধন-ভান্ডার ও মনোরম স্থানসমূহ থেকে।” [সূরা আশ-শো’আরা-২৬ঃ৫৭-৫৮]

মরুভূমিতে বিলীন হয়ে যাওয়া যে নদী ও মনোরম বাগ-বাগিচার অস্তিত্বের বিষয় বিজ্ঞান ২০১২ সালে জানতে পেরেছে তা মরুর বুকে বেড়ে উঠা অক্ষর-জ্ঞানহীন এক যুবক ১৪০০+ বছর পূর্বে কিভাবে জানলো?