মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কলম্বাসের ভাস্কর্য ভাঙার হিড়িক

প্রকাশিত: ৩:১৪ পূর্বাহ্ণ, জুন ১৩, ২০২০

যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশে বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন চলমান রয়েছে। এতে নতুন করে যুক্ত হয়েছে দাসত্ব ও উপনিবেশবাদ বিরোধিতাও। আর এরই অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে ক্রিস্টোফার কলম্বাসের মূর্তি ভাঙার হিড়িক পড়েছে। অন্যান্য দেশেও চলছে দাসপ্রথার পক্ষে থাকা নেতাদের ভাস্কর্য ভাঙচুর।

যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিসে পুলিশি নির্যাতনে কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েড নিহতের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে শুরু হয় বিক্ষোভ। বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয় অন্যান্য দেশেও।

সম্প্রতি বিক্ষোভে যুক্ত হয়েছে দাসত্ব ও উপনিবেশবাদ বিরোধীতাও। এর অংশ হিসেবে প্রথমে গত রোববার যুক্তরাজ্যের ব্রিস্টলে সপ্তদশ শতকের দাস ব্যবসায়ী এডওয়ার্ড কোলস্টোনের ভাস্কর্য ভেঙে নদীতে ফেলে দেয় বর্ণবাদবিরোধীরা। আর মঙ্গলবার লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস থেকে আরেক ব্রিটিশ দাস ব্যবসায়ী রবার্ট মিলিগানের ভাস্কর্যও সরিয়ে ফেলে আন্দোলনকারীরা। সাবেক বেলজিয়াম রাজা দ্বিতীয় লিওপোল্ডের ভাস্কর্যে রঙ দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষোভকারীরা।

এরপর যুক্তরাষ্ট্রে হিড়িক পড়ে আমেরিকা মহাদেশের আবিষ্কারক ক্রিস্টোফার কলম্বাসের ভাস্কর্য গুড়িয়ে দেয়ার। প্রথমে ভার্জিনিয়ার রিচমন্ড, এরপর বস্টন ও মিনেসোটায় কলম্বাসের মূর্তি ভাঙচুর করা হয়। এরপর নতুন করে টেক্সাসের হুস্টনে কলোম্বাসের একটি ভাস্কর্যে রঙ দিয়ে প্রতিবাদ জানায় বিক্ষোভাকারীরা। ফ্লোরিডার মিয়ামিতেও কলোম্বাস এবং উপনিবেশবাদী জুয়ান পন্স দে লিয়নের ভাস্কর্যে রঙ মাখিয়ে দেয়া হয়। ভার্জিনিয়া থেকে উপড়ে ফেলা হয় সাবেক প্রেসিডেন্ট জেফারসনহ ডেভিসের স্মৃতিস্তম্ভ। কালির প্রলেপ দেয়া হয় তার ঐ স্তম্ভে।

বর্ণবাদবিরোধী শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলা সত্ত্বেও সিয়াটলের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। এর পাল্টা জবাবে ট্রাম্পকে বাঙ্কারে ফিরে যেতে বলেছেন সিয়াটলের মেয়র জেনি ডুরকান। আর ওয়াশিংটন গভর্নর বলেছেন, যে শাসনব্যবস্থা চালাতে পুরোপুরিই অক্ষম, তার ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্য নিয়ে মাথা না ঘামালেও চলবে।

পুলিশকে দেয়া বরাদ্দ কমানোর দাবিতে সমাবেশে হয়েছে লস অ্যাঞ্জেলসে। সংস্থাটিকে বেসামরিককরণের দাবি জানিয়েছে আন্দোলনকারীরা।

এদিকে নিউজিল্যান্ডের হ্যামলটনে এক ব্রিটিশ নেভাল অফিসারের ভাস্কর্য সরিয়ে ফেলেছে কর্তৃপক্ষ। তার বিরুদ্ধে ১৮৬০ এর দশকে মাওরি আদিবাসীদের হত্যার অভিযোগ রয়েছে। চলমান আন্দোলনে এই আদিবাসী গোষ্ঠী তার ভাস্কর্য সরিয়ে ফেলার আহ্বান জানান।