মানব পাচারকারীরা বেপরোয়া, সর্বস্বান্ত শতো শতো মানুষ

প্রকাশিত: ১:০২ অপরাহ্ণ, জুন ৪, ২০২০

অবৈধভাবে লিবিয়া হয়ে ইউরোপে যেতে মানব পাচারকারীদের খপ্পরে পড়ে সর্বস্বান্ত হয়েছে অনেক পরিবার। যারা গেছেন তাদের কেউ কেউ ফিরে এলেও নিখোঁজ অনেকে। প্রবাসে স্বজনের ক্ষতির শঙ্কায় দালালের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে চান না ভুক্তভোগীরা। আর এর বিচার না হওয়ায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে পাচারকারীরা।

বছর দেড়েক আগে দালালের মাধ্যমে ৭ লাখ টাকায় ইতালি যাওয়ার জন্য চুক্তি করেন শরীয়তপুরের মোস্তফা মাদবর নামের এক ব্যক্তি। চুক্তির সাড়ে ৪ লাখ টাকা দেয়ার পর লিবিয়া নেয়া হয় তাকে। এরপর কয়েক ধাপে পরিবারের কাছ থেকে আদায় করা হয় ৯ লাখ টাকা। পরে আরও টাকা দাবি করে দালাল চক্র, স্বজনেরা দিতে অস্বীকৃতি জানালে এক বছর ধরে কোনো নিখোঁজ মিলছিলো না মোস্তফার। মোস্তফার মতো আরও অনেকেরই মিলছে না খোঁজ। চুয়াডাঙ্গা শংকরচন্দ্র গ্রামের আবু বকর সিদ্দিককে বিদেশে নিতে কক্সবাজার থেকে তোলা হয়েছিল নৌযানে। ৮ বছর ধরে নিখোঁজ আছেন তিনি।

ইতালি পাঠানোর কথা বলে, লিবিয়া নিয়ে সেখানকার মানবপাচারকারী চক্রের যোগসাজসে অনেককেই করা হয়েছে নির্যাতন। পরে তাদের কান্নাকাটির ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে টাকা আদায় করেছেন কিশোরগঞ্জের অনেক প্রবাসী।

এমন প্রতারণা-প্রাণহানির ঘটনা প্রায়ই ঘটলেও বিচার না হওয়ায় থামছে না অবৈধপথে বিদেশযাত্রা। বেপরোয়া দালালচক্রও।

এদিকে পুলিশ জানায়, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না থাকায়, কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারছেন না তারা।

৩০ মে লিবিয়ায় গুলিতে প্রাণ হারান ২৬ বাংলাদেশি। তাদের সবাই মানবপাচারকারীদের মাধ্যমে অবৈধভাবে বিদেশ গিয়েছিলেন।

সূত্র কৃতজ্ঞতা- ইন্ডিপেন্ডেন্ট নিউজ