মহেঞ্জোদারো: প্রাচীন সিন্ধু মহানগর

আমজাদ হোসাইন

প্রকাশিত: ৮:০৪ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ৯, ২০২১

পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন একটি শহর হলো মহেঞ্জোদারো। মহেঞ্জোদারো শব্দের অর্থ মৃতের স্তুপ। আজ থেকে প্রায় চার হাজার ছয়’শ বছরের পুরনো এই শহরটি ছিলো বর্তমান বিশ্বের আধুনিক শহরগুলোর মতোই একটি শহর। এই শহরের সন্ধান পাওয়া গিয়েছিলো প্রায় দেড়শ বছর পূর্বে। তাদেরও ছিলো ইটের বাড়ি, সান বাঁধানো পুকুর এবং পয়ঃপ্রণালীর ব্যবস্থা। কিন্তু বর্তমানে মহেঞ্জোদারো একটি ধ্বংসস্তূপ, যেটি লিপিবদ্ধ হয়েছে ইতিহাসের পাতায়। মহেঞ্জোদারো ছিলো হরপ্পা সভ্যতার প্রধান শহর। যেটা বর্তমানে পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের লারকানা জেলায় সিন্ধু নদের তীরে অবস্থিত। ২৬০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ নাগাদ নির্মিত এই শহরটি ছিলো বিশ্বের প্রাচীনতম শহরগুলির অন্যতম এবং প্রাচীন মিশর, মেসোপটেমিয়া ও ক্রিটের সভ্যতার সমসাময়িক। এই শহরের পুরাতাত্ত্বিক ধ্বংসাবশেষ বর্তমানে একটি ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান। এটিকে “প্রাচীন সিন্ধু মহানগর” নামেও অভিহিত করা হয়। ৪ হাজার ৬০০ বছরের পুরানো এই শহর সম্পর্কে মানুষ খুব কমই জানে, তবে যতটুকু জানে ততটুকু বেশ বিস্ময়কর! তবে চলুন জেনে আসা যাক মহেঞ্জোদারো সম্পর্কে কিছু বিস্ময়কর তথ্য-

খনন ও আবিষ্কার

১৮৫৬ সালে একজন ইংরেজ ইঞ্জিনিয়ার এই অঞ্চলে রেললাইন স্থাপনের কাজ করছিলেন। সেসময় মাটির তলায় তিনি পোড়ানো ইট পান, যেগুলো দেখতে এখনকার ইটের মতই ছিলো। তখন স্থানীয় মানুষের কাছ থেকে জানা যায় এখানকার সকল বাড়ি এই ইটের তৈরি যা মাটি খুঁড়ে পাওয়া যায়। তখন সেই ইংরেজ ইঞ্জিনিয়ার বুঝে যান এগুলো সাধারণ কোনো ইট নয়। এই জায়গায় লুকিয়ে আছে কোনো প্রাচীন সভ্যতা। সিন্ধু নদের তীরে গড়ে ওঠা এই শহর সম্পর্কে এই ইংরেজ ইঞ্জিনিয়ারই প্রথম জানতে পেরেছিলেন। অতঃপর ১৯২২ সালে রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায় মহেঞ্জোদারো পুনরাবিষ্কার করেন এবং ১৯৩০-এর দশকে স্যার জন মার্শাল, কে. এন. দীক্ষিত, আর্নেস্ট ম্যাককি ও অন্যান্যদের অধীনে এখানে ব্যাপক খননকার্য চালানো হয়। ১৯৪৫ সালে আহমদ হাসান দানি ও মর্টিমার হুইলারও এখানে খননকার্য চালান। মহেঞ্জোদাড়োয় শেষ বড়ো খননকার্য চলে ১৯৬৪-৬৫ সালে ড. জি. এফ. ডেলসের অধীনে। ১৯৮০-এর দশকে জার্মান-ইতালীয় একটি যৌথ সমীক্ষা দল আর্কিটেকচারাল ডকুমেন্টেশন, উপরিতল সমীক্ষা, সারফেস স্ক্র্যাপিং ও প্রোবিং-এর উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে প্রাচীন সভ্যতার বেশ কিছু সূত্র আবিষ্কার করেন।

নগর পরিকল্পনা

সম্ভবত মহেঞ্জোদারো ছিলো সিন্ধু সভ্যতার একটি প্রশাসনিক কেন্দ্র। উন্নতির মধ্যগগনে মহেঞ্জোদারো ছিলো দক্ষিণ এশিয়ার উন্নততম নগরী। এই শহরের নগর পরিকল্পনা ও উন্নত প্রকৌশল ব্যবস্থাই প্রমাণ করে যে সিন্ধু সভ্যতার অধিবাসীদের নিকট এই শহর ছিলো অতি গুরুত্বপূর্ণ। এই শহরের গণভবনগুলি উচ্চমানের সামাজিক সংগঠনের পরিচায়ক। স্যার মর্টিমার হুইলারের মতে, মহেঞ্জোদারোর কথিত মহাশস্যাগারটিতে গ্রামাঞ্চল থেকে গরুর গাড়িতে আনীত শস্য জমা রাখা হতো। শস্য শুকিয়ে রাখারও ব্যবস্থা ছিলো এখানে। জোনাথান মার্ক কেনোয়ার এটিকে শস্যাগার বলতে রাজি হননি। তার মতে এখানে শস্য জমা রাখার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তিনি এটিকে “মহাকক্ষ” বা “গ্রেট হল” নামে অভিহিত করেন। তাদের পানি সরবরাহ ও আবর্জনা নিষ্কাশনের এমন চমৎকার ব্যবস্থা ছিলো, যা আধুনিক পাকিস্তানের অনেক শহরকেও টেক্কা দিতে পারে। পাকিস্তানের সর্বোচ্চতম তাপমাত্রা ৫৩.৫° সেন্টিগ্রেড ২০১০ সালে এখানেই নথিভুক্ত হয়। এই তাপমাত্রা শুধু পাকিস্তানেরই নয় সমগ্র এশিয়া মহাদেশের নির্ভরযোগ্যভাবে পরিমাপকৃত সর্বোচ্চতম তাপমাত্রা এবং বিশ্বের চতুর্থ সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।

নগরীর রাস্তাঘাট পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা

সিন্ধু নদের তীরে অবস্থিত মহেঞ্জোদারো সবচেয়ে পুরনো পরিকল্পিত শহর। এত যুগ আগের স্থাপত্য হলেও সেখানে দেখতে পাওয়া যায় আধুনিক নির্মাণকার্য। শহরের রাস্তাগুলোও কিন্তু এলোপাথাড়ি তৈরি হয়নি। প্রত্যেকটি রাস্তারই একটা নির্দিষ্ট ধারা ছিলো। এ থেকে অনুমান করা হয় মহেঞ্জোদারোর বাসিন্দাদের গণিতশাস্ত্রে যথেষ্ট জ্ঞান ছিলো।এখানে প্রাচীন যত বাড়িঘরের অস্তিত্ব পাওয়া যায়, তার প্রায় সবই পোড়া মাটির তৈরি দোতলা বাড়ি। কয়েকটি বাড়িতে নিজস্ব স্নানাগারও ছিলো এবং বর্জ্য জল যাতে শহরের নর্দমায় গিয়ে পড়ে সেরকম বন্দোবস্তও রাখা ছিলো। নগরীর পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাও ছিল বর্তমান সময়ের মতোই আধুনিক। একসময় নগরটিতে যারা বাস করত তাদের পরিকল্পনা দক্ষতার সাক্ষী  বহন করে এসব ড্রেনেজ সিস্টেম। কালের সাক্ষী হিসেবে আজো পুরনো রাস্তাগুলোর সাথে দেখা যায় এসব ড্রেন। মহেঞ্জোদারোর মানুষেরা পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে এতো সজাগ ছিলো যেটা বর্তমান সময়েও অনেক শহরের মানুষেরও মাঝে নেই। পাঁচ হাজার বছর আগে, যখন ইউরোপ এবং অন্য জায়গার মানুষ গুহায়, জঙ্গলে বাস করতো, তখন মহেঞ্জোদারোর বাসিন্দারা একটি সভ্য ও পরিকল্পিত নগরীতে ইটের তৈরি বাড়িতে বাস করতো।

নগরীর মহাস্নানাগার

মহেঞ্জোদারোয় আবিষ্কৃত সর্বাপেক্ষা প্রসিদ্ধ স্থাপনা হলো মহাস্নানাগার। মহেঞ্জোদারোর অন্যতম আকর্ষণ ছিলো এই স্নানাগার। নগরীর ঠিক কেন্দ্রে অবস্থিত ‘গ্রেট বাথ’ (মহাস্নান) নামক স্থাপনাটি বিশাল এলাকা জুড়ে অবস্থিত। মহেঞ্জোদারোর সুরক্ষিত উত্তরাংশের পশ্চিমভাগের স্তুপের মধ্যে এটি পাওয়া গিয়েছে। ১৯২৫-২৬ সালে এই স্নানাগারটি আবিষ্কৃত হয়। মহাস্নানাগারের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ ১১.৮৮ মিটার ও ৭.০১ মিটার। প্রায় পাঁচ হাজার বছর পূর্বের একটি শহরের মধ্যে এমন বিশাল স্নানাগার সত্যিই কল্পনায় করা যায় না। বিশেষত, মহেঞ্জোদারোর স্নানাগার এবং শস্যভান্ডারের নিখুঁত নকশা দেখে বুঝা যায়, ঐ সময়ে পুরাকৌশল ও নগর পরিকল্পনায় মহেঞ্জোদারো অন্য নগরীগুলোর চেয়ে অনেকাংশে এগিয়ে ছিলো। এর সর্বোচ্চ গভীরতা ২.৪৩ মিটার। উত্তরে ও দক্ষিণে দুটি চওড়া সিঁড়ির মাধ্যমে স্নানাগারে প্রবেশ করা যেত। মহাস্নানাগার নির্মিত হয়েছিল উন্নতমানের পোড়া ইঁট দিয়ে। বিটুমেনের সারি (যা সম্ভবত জল বেরিয়ে যাওয়া রোধ করত) এ থেকে অনুমিত হয় এটি জল ধরে রাখার জন্য ব্যবহৃত হতো। গবেষকদের ধারণা, ধর্মীয় পরিশুদ্ধির জন্য এ জায়গায় গোসল করতে আসতেন পুণ্যার্থীরা। তবে এই স্নানাগার নির্মাণের প্রকৃত উদ্দেশ্য আজও অজ্ঞাত।

নগরীর শস্যভান্ডার

সেখানকার মানুষ চাষবাস করতো এবং খাদ্যশস্য মজুদ করে রাখার জন্য ছিলো বিশেষ ব্যবস্থা। সিন্ধুবাসীদের প্রধান কৃষিজ ফসল ছিলো গম আর যব। শস্যের আদান-প্রদানের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা ছিলো স্থাপনাটির পাশে। এমনকি খাদ্য শস্য যেন অনেকদিন পর্যন্ত ভালো থাকে এবং শস্য ভান্ডারে বাতাস চলাচলের জন্যও উপযুক্ত ব্যবস্থা করে রেখেছিলো মহেঞ্জোদোরোর বাসিন্দারা। এক্ষেত্রে শস্যভান্ডারের কথাই ধরা যাক। খাদ্যশস্য মজুত রাখার জন্য সেখানে ছিল বিশেষ ব্যবস্থা। পরিকল্পনার দৃষ্টিকোণ থেকে এই স্থাপত্যটিও কোনো অংশে কম যায় না। কিন্তু এই শস্যভান্ডারে আদৌ শস্য মজুত থাকতো কি না তা জানা যায় না। বিশেষত, মহেঞ্জোদারোর স্নানাগার এবং শস্যভান্ডারের নিখুঁত নকশা দেখে বুঝা যায়, ঐ সময়ে পুরাকৌশল ও নগর পরিকল্পনায় মহেঞ্জোদারো অন্য নগরীগুলোর চেয়ে অনেকাংশে এগিয়ে ছিলো।

উল্লেখযোগ্য শিল্পকর্ম

খননে কিছু শিল্পকর্ম পাওয়া গিয়েছে, যেমন বসা ও দাঁড়ানো মূর্তি, তামা ও পাথর সরঞ্জাম, দাঁড়িপাল্লা, স্বর্ণ ও জ্যাসপার গয়না এবং শিশুদের খেলনা ইত্যাদি। এখানে প্রাপ্ত অনেক প্রত্নতত্ত্ব ভারত ও পাকিস্তানের জাতীয় জাদুঘরে সংরক্ষন করা আছে। ১৯৩৯ সালে, খননে প্রাপ্ত শিল্পকর্ম-এর নমুনা সংগ্রহ করে ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ মহাপরিচালক ব্রিটিশ মিউজিয়ামে স্থানান্তর করে। এগুলোর মধ্যে অন্যতম, “নৃত্যরত মেয়ে” একটি ব্রোঞ্জ মূর্তি, যার উচ্চতা ১০.৫ সেন্টিমিটার। মূর্তিটি ১৯২৬ সালে মহেঞ্জোদারোর “এইচআর অঞ্চলে” পাওয়া যায়। ১৯৭৩ সালে, ব্রিটিশ প্রত্নতত্ত্ববিদ মট্রিমার হুইলার এটিকে তার প্রিয় শিলারুপ হিসাবে বর্ণনা করেন- “মেয়েটি পনের বছর বয়সী বলে আমার মনে হয়। কিন্তু সে যেভাবে দাঁড়িয়েছে, পরিপূর্ণ মেয়ের ভঙ্গি এবং পুরোপুরি আত্মবিশ্বাসী যেন বিশ্বে তার মত কিছুই নেই।” জন মার্শাল নামে আরেকজন মূর্তিটি সম্পর্কে মন্তব্য করেন- “একটি অল্প বয়স্ক মেয়ে, যে অর্ধ-বেহায়া ভঙ্গি করে, তার নিতম্বের উপর হাত রেখে, সামান্য এগিয়ে সে তার পা ও পায়ের সঙ্গে সঙ্গীতের তালে তাল মিলিয়ে দাড়িয়ে রয়েছে।” ১৯২৭ সালে অলঙ্কারসমৃদ্ধ ইঁট এবং একটি প্রাচীর-কুলুঙ্গির উপবিষ্ট একটি পুরুষ মূর্তি পাওয়া যায়। প্রত্নতাত্ত্বিকরা এটিকে “যাজক-রাজা” বলে ধারনা করেন। ভাস্কর্যটি ১৭.৫ সেন্টিমিটার লম্বা এবং তার মাথা, বাহুবন্ধনি এবং লাল রঙ্গক ভরা ত্রিপত্র নকশার সঙ্গে সজ্জিত একজন শ্মশ্রুধারী পুরুষ।

অলঙ্কার ও শিল্প সংস্কৃতি

মহেঞ্জোদারোর বাসিন্দারাও শিল্প সংস্কৃতিতে আধুনিক ছিলেন বলে অনেক গবেষকদের অভিমত। ধারণা করা হয় শিল্পকলায় মহেঞ্জোদারোবাসীদের আগ্রহ ছিলো। খননে পোড়ামাটির তৈরি নানা শৈল্পিক নিদর্শন পাওয়া গেছে। নগরীর অধিবাসীদের মধ্যে অলঙ্কার ব্যবহারের প্রচলন ছিল। গলার হার, কানের দুল, আংটি, হাতের ব্রেসলেট জাতীয় গয়না পরার চল ছিলো নারীদের মধ্যে। শুধু তাই নয়, মহেঞ্জোদারোর বাসিন্দারা নাচ-গান ও খেলাধুলায় বেশ পারদর্শী ছিলো। যদিও সেখানকার বাসিন্দারা তাদের শহরকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার ব্যাপারে বেশ যত্নশীল ছিলেন এবং শহরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার উপর বিশেষ নজর দিতো। বিশেষজ্ঞের মতে, মহেঞ্জোদারো বেশ সমৃদ্ধ অঞ্চল ছিলো। মহেঞ্জোদারোয় পাওয়া হাতির দাঁত, বিভিন্ন ধরনের পাথর থেকেই এই মতেই পৌঁছানো যায়। পুরাতত্ত্ববিদদের মতে, সিন্ধু সভ্যতার মানুষেরা গান বাজনা ও খেলাধুলাও চর্চা করত। গবেষকরা কিছু মিউজিক্যাল ইন্সট্রুমেন্ট ও খেলনার সন্ধান পেয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন চিত্রকলা, মূর্তি, বিভিন্ন রকমের পাত্র এবং অন্যান্য দরকারি জিনিসপত্র পাওয়া গিয়েছে যেগুলো দেশ বিদেশের বিভিন্ন সংগ্রহশালায় স্থান পেয়েছে।

মহেঞ্জোদারো নগরীর পতন

মহেঞ্জোদারোর পতন কখন কীভাবে কেন হলো তা আজো পুরাতত্ত্ববিদদের অজানা একটি বিষয়! সেখানে প্রাপ্ত কয়েকটা জিনিস এর কার্বন ট্রেডিং করার পর প্রত্নতাত্ত্বিকগণ কয়েকটি বিষয় তুলে ধরেছেন; তারা মনে করেন জলবায়ুর বিরাট পরিবর্তন এই শহর ধ্বংস হওয়ার প্রধান কারণ। কেউ কেউ মনে করেন, বন্যার কারণে এই সভ্যতা ধ্বংস হয়েছে। কিন্তু কোনো বড় ধরনের বন্যার জন্য এই সভ্যতার ধ্বংস হওয়ার যুক্তিও ধোপে টেকে না। কারণ শহরের ভগ্নাবশেষ পরীক্ষা করে বন্যার কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। আবার অনেকে মনে করেন, ধীরে ধীরে সিন্ধু নদীর গতিপথ পরিবর্তনের ফলে এখানে জলের অভাব দেখা দেয়, সেই সঙ্গে আবহাওয়া কোনো বিপদ ডেকে এনেছিলো যার ফলে এই সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যায়। তবে ধ্বংসের পেছনে নিশ্চিত কোনো কারণটি লুকিয়ে আছে তা সকলেরই অজানা। পুরাতত্ত্ববিদরা আজও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন প্রাচীন এই নগর সভ্যতা ধ্বংসের পেছনে সুনির্দিষ্ট কারণটি জানার উদ্দেশ্যে। কথিত আছে, মহেঞ্জোদারো সাতবার ধ্বংস হয়, এবং সাতবারই নাকি নতুন করে তৈরি করা হয়েছিল, সেই পুরনো শহরের উপরেই। প্রায় ২৫০ একর জমির উপর ঢিপির নীচে লুকিয়ে ছিল মহেঞ্জোদারো। মহেঞ্জোদারোর বিভিন্ন স্তুপ থেকে খুঁজে পাওয়া গিয়েছে সেসময়ের বিভিন্ন মূর্তি, যেগুলোর অধিকাংশই ভাঙা। এই মূর্তিগুলো ঐতিহাসিক গবেষণার কাজে বা সিন্ধু সভ্যতাকে আরো বিস্তারিতভাবে জানার কাজে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। হারিয়ে যাওয়া এই সভ্যতা এখনো অনেকের কাজে রহস্যের আধার।