মহামারী ও লকডাউনের নেতিবাচক প্রভাবে বিপর্যস্ত স্বেচ্ছাসেবী কর্মকাণ্ড

প্রকাশিত: ১২:০৪ অপরাহ্ণ, জুন ২০, ২০২০

বর্তমানে ত্বরিৎ গতিতে ছড়াচ্ছে কোভিড নাইনটিন। যার ফলে, মহামারীর নতুন এবং ভয়ংকর স্তরে প্রবেশ করলো বিশ্ব- এমন হুঁশিয়ারিই দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

২৬ ফেব্রুয়ারি প্রথম করোনাভাইরাস সংক্রমণের তথ্য জানায় ব্রাজিল। চার মাস না পেরোতেই তা ছাঁড়ালো ১০ লাখের কোঠা। চিকিৎসক ও গবেষকদের মতে, প্রকৃত সংখ্যা এর তিনগুণ। কারণ, দরিদ্র দেশটিতে রয়েছে নমুনা পরীক্ষার সরঞ্জামাদির অভাব এবং মানুষের অসর্তকতা। প্রাণহানির দিক থেকেও তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে লাতিন দেশটি।

ডব্লিওএইচও’র মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম বলেন, মহামারি আরও বেগবান হয়েছে। একদিনে রেকর্ড এক লাখ ৮০ হাজারের বেশি করোনা রোগী শনাক্ত হলো বিশ্বে, যাদের বেশিরভাগই আমেরিকা মহাদেশের। বাকিরা দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের। লকডাউন প্রত্যাহারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, যে সময় মানুষের ঘরে নিরাপদ থাকা উচিৎ ছিলো; সে সময় বেশিরভাগ দেশ প্রত্যাহার করলো লকডাউন; শুরু করলো অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। যার ফলে, ধারণার তুলনায় দ্রুত গতিতে ছড়াচ্ছে কোভিড নাইনটিন।

মহামারী আর লকডাউনের নেতিবাচক প্রভাবে বিপর্যস্ত স্বেচ্ছাসেবী কর্মকাণ্ডও। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি’র দাবি, প্রয়োজনের তুলনায় এক-তৃতীয়াংশ তহবিল সংগৃহীত হয়েছে। যার কারণে চলতি বছরই বন্ধ হয়ে যেতে পারে অনেক প্রকল্প। একই আশঙ্কার কথা জানায় জাতিসংঘও।

জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেন, মহামারীর কারণে উত্থান-পতন দেখছে বৈশ্বিক অর্থনীতি। এরইমাঝে কাজ হারিয়েছেন লাখ লাখ মানুষ। সংকটের শুরুতেই রয়েছে ৬০ শতাংশ সরকারের অনুমোদন না পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো। বেকারত্ব আর দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রের পাল্লায় পড়ে না খেয়েই কোটি কোটি মানুষ মরবে বলে আশংকা করেন গুতেরেস।

এদিকে, শুক্রবারই করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সাড়ে সাতশ বিলিয়ন ইউরোর বরাদ্দ রেখে ২০২১-২৭ অর্থ বছরের বাজেট পাস করলো ইইউ। মোট বাজেটের পরিমাণ এক দশমিক আট পাঁচ ট্রিলিয়ন ইউরো।