মন্দা কাটাতে আসছে বাজেটে ঋণপ্রবাহো বাড়ানোর তাগিদ

প্রকাশিত: ১১:১৭ পূর্বাহ্ণ, জুন ৬, ২০২০

বাজেট ২০২০-২০২১: ঋণ বাড়িয়ে মন্দার ধাক্কা মোকাবেলার কৌশল
৩০ জুনের মধ্যে বাড়ানো হবে ১৭.২৮ শতাংশ * আগামী অর্থবছরের বাজেটে লক্ষ্য ১৭.৬০ শতাংশ

করোনার প্রভাবে বিপর্যস্ত অর্থনৈতিক মন্দা কাটিয়ে ওঠার জন্য আগামী ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাভাবিকের তুলনায় জনসাধারণের জন্য অধিক ঋণপ্রবাহো বাড়ানোর কৌশল নেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে চলতি অর্থবছরেও ঋণের প্রবাহো বাড়ানো হচ্ছে।

এসব ঋণের অর্থ বিভিন্ন খাতের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেয়া হবে। ফলে করোনায় বিপর্যস্ত সাধারণ অর্থনীতি তার স্বাভাবিক গতি ফিরে পাবে। মানুষের হাতে টাকা আসবে। বাড়বে ক্রয় ক্ষমতা। অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের তৈরি মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামোর প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন গত বৃহস্পতিবার এক গণমাধ্যমকে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবেলায় ঋণপ্রবাহ বাড়াতে হবে কিন্তু সরকার যদি ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়, তাহলে ব্যাংকাররা খুশিই হবেন। কেননা তারা যদি সরকারকে ঋণ দিতে পারে তাহলে সেখান থেকে প্রায় ৯ শতাংশ হারে সুদ পাবেন। এই ঋণ সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত। তাছাড়া আগামী অর্থবছর বেসরকারি বিনিয়োগ এবং বহিঃবাণিজ্য কম থাকবে। ফলে বেসরকারি পর্যায়ে ব্যাংক ঋণের চাহিদা কম থাকবে। সেই সঙ্গে ব্যক্তিঋণ এবং হাউস ঋণের চাহিদাও কম থাকবে। কেননা রেমিটেন্স কম আসবে। এসব কারণে ব্যাংকগুলো সরকারকেই বেশি ঋণ দিতে আগ্রহ দেখাবে। কিন্তু এতে করে করোনা মোকাবেলায় যেসব প্রণোদনা প্যাকেজ ব্যাংকের মাধ্যমে বাস্তবায়নের কথা সেগুলোয় আগ্রহ থাকবে না। কেননা সেখানে সুদ কম পাওয়া এবং ঋণ ফেরত পাওয়ার ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। তবে সরকার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সরাসরি ঋণ নিতে পারে; কিন্তু সেটিও বেশিদিন চলতে থাকলে সামষ্টিক অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, তবে অর্থনৈতিক সংকট কাটানোর জন্য বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে খরচের ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। বিলাসবহুল খরচ, এডিপিতে যেসব কম গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প রয়েছে সেগুলো স্থগিত করা, রাজস্বের ক্ষেত্রে যেসব লিংকেজ আছে সেগুলো বন্ধ করা এবং সহজ শর্তের বৈদেশিক ঋণ গ্রহণ করতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন বলছে, চলতি অর্থবছরের গত জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে ঋণপ্রবাহ বেড়েছে ৯ দশমিক ০৯ শতাংশ। গত অর্থবছরের একই সময়ে বেড়েছিল ৬ দশমিক ৪১ শতাংশ। ঋণপ্রবাহ বাড়াতে ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে জোগান দেয়া হবে ৭৫ হাজার কোটি টাকা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অর্থকে বলা হয় ‘হাই পাওয়ারড বা উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন অর্থ’। যা বাজারে গিয়ে দ্বিগুণ থেকে আড়াই গুণ টাকার সৃষ্টি করে। এর ফলে বাজারে টাকার প্রবাহ বেড়ে যাবে।