ভ্রমণ নগরী কক্সবাজারে শনিবার থেকে কঠোর লকডাউন, অধিকাংশ এলাকায় ‘রেড জোন’

প্রকাশিত: ৮:৪৪ অপরাহ্ণ, জুন ৫, ২০২০
কক্সবাজার শহর

কক্সবাজার জেলায় করোনা সংক্রমণের পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে চলেছে। পৌরসভাসহ কয়েকটি এলাকাকে ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আর সেসব এলাকায় আগামী দুই সপ্তাহের জন্য কঠোর লকডাউন ঘোষণা করেছে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসন। অবস্থার উন্নতি না হলে লকডাউনের সময় আরো বৃদ্ধি করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এ সময় রেড জোন এলাকায় বাইরে থেকে কেউ প্রবেশ করতে পারবে না; আবার কেউ বাইরে যেতেও পারবে না।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এবং জেলা করোনা সংক্রান্ত ওয়ার্কিং কমিটির আহ্বায়ক মো. আশরাফুল আফসারের নেতৃত্বে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে জুম (zoom) ভিডিও কনফারেন্সে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় কক্সবাজার পৌরসভার ১ ও ১২ নম্বর ওয়ার্ডকে ‘ইয়েলো জোন‘ এবং ২ থেকে ১১ নম্বর অর্থাৎ বাকি ১০টি ওয়ার্ডকে ‘রেড জোন‘ এলাকায় ঘোষণা করা হয়।

একইভাবে জেলার চকরিয়া, মহেশখালী ও টেকনাফ পৌরসভা এবং জেলার আট উপজেলায় করোনা সংক্রমণের হারের ভিত্তিতে তিনটি জোনে ভাগ করে লকডাউন কার্যকর করা হবে।

সভায় জানানো হয়, করোনাভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যার ভিত্তিতে কক্সবাজার জেলাকে তিনটি জোনে বিভক্ত করা হয়েছে। জেলার আটটি উপজেলাকে ইউনিয়ন ভিত্তিক ও চারটি পৌরসভাকে ওয়ার্ড ভিত্তিক বিন্যাস করে ম্যাপ তৈরি করা হয়েছে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, ‘আগামীকাল শনিবার থেকে ১৯ জুন শুক্রবার পর্যন্ত কক্সবাজার পৌরসভায় লকডাউন প্রাথমিকভাবে বলবৎ থাকবে। প্রয়োজন হলে পরে সিদ্ধান্ত নিয়ে সময় আরও বাড়ানো হবে।’

ভিডিও কনফারেন্সে জানানো হয়, শুধুমাত্র কক্সবাজার পৌরসভায় ২৭৬ জন করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে সর্বনিম্ন হলো ১ নম্বর ওয়ার্ডে পাঁচজন এবং ১২ নম্বর ওয়ার্ডে তিনজন। এর মধ্যে কক্সবাজার পৌরসভায় করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ১০ জন।

কক্সবাজার জেলায় এ পর্যন্ত ৮৮৬ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। প্রায় আড়াইশ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। মারা গেছেন ২০ জন। ৩৪টি রোহিঙ্গা ক্যাম্প রয়েছে ঝুঁকিতে। এর মধ্যে একজন রোহিঙ্গা মারা গেছেন, করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ২৯ জন রোহিঙ্গা।