ব্যর্থতা ঢাকতে মিথ্যাচার করছে সরকার: মির্জা ফখরুল

প্রকাশিত: ৫:২৯ অপরাহ্ণ, জুন ২৫, ২০২০

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন- ‘সরকারের যে ব্যর্থতা সেটা ঢাকতে গোটা জাতির সঙ্গে তারা মিথ্যাচার করছে। আমাদের কথা নয়, চীনের যে বিশেষজ্ঞ দল এসেছিলো তারাও বলে গেছে যে, তাদের (সরকারের) কোনো প্রতিরোধ পরিকল্পনাই ছিলো না। আজ প্রমাণিত হয়ে গেছে, তারা সম্পূর্ণ ব্যর্থ।’

‘এটা বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞ ও সাধারণ মানুষকে জিজ্ঞাসা করলেই বুঝতে পারবেন। কতো মানুষ টেস্ট করতে পারছেন না, কতো মানুষ টেস্ট করতে গিয়ে মারা গেছেন, কতো মানুষ অক্সিজেনের অভাবে মারা গেছেন, কতো মানুষ সাধারণ চিকিৎসার জন্যও কোনো হাসপাতালে যেতে পারছেন না; স্বাস্থ্যব্যবস্থা যে পুরোপুরিভাবে ভেঙে পড়েছে- এটাই তার প্রমাণ’, যোগ করেন বিএনপির এ নেতা।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে উত্তরার নিজ বাসা থেকে জুম অ্যাপের মাধ্যমে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল। করোনা নিয়ে ‘বিএনপি ও বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা ভুল প্রমাণিত হয়েছে‘- তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের এমন বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির শীর্ষ এ নেতা এসব কথা বলেন।

এ সময় বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সারাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত দলীয় ৭৩ নেতাকর্মী মারা গেছেন। এছাড়া প্রাণঘাতী এ ভাইরাসে এখন পর্যন্ত দলের ২৮৪ জন নেতাকর্মী আক্রান্ত হয়েছেন।

করোনাকালে দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে সুস্থ রাখার জন্য কী ধরণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি কেমন আছেন- জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে সুস্থ রাখতে সব ধরণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আপনারা জানেন- করোনাভাইরাসের কোনো চিকিৎসা নেই। সেজন্য এ ভাইরাস প্রতিরোধ করতে সব ধরণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। খালেদা জিয়া করোনা থেকে মুক্ত আছেন। তবে উনার যে পুরোনো অসুস্থতা, সেটার তেমন উন্নতি হয় নি। চিকিৎসার তেমন সুযোগ নেই। হাসপাতালগুলোতেও যাওয়া যাচ্ছে না। বাইরে যাওয়ার ব্যাপারে তো সরকারের শর্তই আছে যে, বিদেশে যাওয়া যাবে না। অর্থাৎ তাঁর যে পুরোনো অসুখ সেগুলোর চিকিৎসা হচ্ছে না।’

সম্প্রতি ত্রাণ বিতরণে বিএনপিকে বাধা দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা স্পষ্টভাবে বলেছি, সাতক্ষীরায় সংসদ সদস্যের ছেলের নেতৃত্বে হামলা করা হয়েছে। ১৫-২০টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। অনেককে আহত করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের মহিলা কাউন্সিলর আয়শা আক্তারের ওপর হামলা হয়েছে। রাজশাহীতে ত্রাণ দেওয়ার সময় ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। কুষ্টিয়ায় জাহিদুল ইসলাম বিপ্লবকে আটক করা হয়েছে। আমি বলতে চাই, সরকার অবৈধ ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করার জন্য সব রকমের কূটকৌশল প্রয়োগ করেছে।’

বিএনপির মহাসচিব আরো বলেন, ‘আজকে পত্রিকায় আছে, ২২২ জন কারারক্ষী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। অথচ আমরা প্রথম থেকে বলে আসছি, যাদের মিথ্যা মামলা দিয়ে কারাগারে আটক রাখা হয়েছে, তাদের মুক্তি দেওয়া হোক। আমাদের নেতা আব্দুস সালাম পিন্টু, লূৎফুজ্জামান বাবর এরা অত্যন্ত অসুস্থ এবং বয়ষ্ক। এরা সবাই রাজনৈতিক মামলায় আটক আছেন। আমরা আশা করেছিলাম, সরকার এদের মুক্তি দিয়ে একটা পরিবেশ সৃষ্টি করবে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে তারা তো সেটা করেই নি, উপরন্তু সংসদে আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নাম উচ্চারণ করতে বাধা দিয়েছে। অর্থাৎ ক্ষমতাসীনরা ফ্যাসিস্টভাবে সরকার চালাচ্ছে। তারা একদলীয় শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চায়। ভিন্নমত, ভিন্নদলকে কোনোভাবেই সহ্য করতে চায় না।’

১৯৯১ থেকে ২০০৭ সালের মধ্যে বিএনপির ক্ষমতায় থাকাকালীন কয়টি জেলা হাসপাতালে আইসিইউ, সিসিইউ এবং অক্সিজেন ব্যবস্থা ছিলো জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব বলেন- ‘আপনারা যে তথ্য চেয়েছেন, সেটা সময় দিলে জানানো যাবে। পরিসংখ্যানটা বড় বিষয় নয়। (কিন্তু) গত এক দশকে বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে কীভাবে বরাদ্দ কমানো হয়েছে, সেটা দেখলেই বুঝতে পারবেন, বর্তমান সরকারের আমলে স্বাস্থ্য খাতে কোনো গুরুত্বই দেওয়া হয় নি। এমনকি এবারের বাজেটেও স্বাস্থ্য খাতকে গুরুত্ব দেওয়া হয় নি।’

সম্প্রতি সংসদে বিএনপির সদস্যরা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন, এটি দলীয় দাবি কি না বা এ ব্যাপারে বিএনপি কী মনে করে, জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা তো এই সরকারকেই বলি, তাদের অবিলম্বে চলে যাওয়া উচিত। কারণ তারা নির্বাচিত সরকার নয়। তারা তো জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে আসে নি। তারা সব ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে। সে ক্ষেত্রে (আমাদের দলের নেতারা) স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ তো চাইতেই পারেন।’