বেসরকারি চাকরিজীবীদের পেনশন-গ্রাচুইটিতে করের খড়গ

প্রকাশিত: ২:১২ অপরাহ্ণ, জুন ১৯, ২০২০

এবার করের খড়গ পড়তে যাচ্ছে বেসরকারি খাতের কর্মীদের পেনশন-গ্রাচুইটিতে। স্বচ্ছতা আনতে প্রস্তাবিত বাজেটে পেনশন-গ্রাচুইটি ফান্ডে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআরের অনুমোদন নেয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আর অনুমোদন না থাকলে কর দিতে হবে কর্মীকে।

এনবিআরের এমন সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করে বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রতিষ্ঠানের দায় চাপানো হচ্ছে কর্মীর ঘাড়ে।

প্রস্তাবিত বাজেটের অর্থবিলের ৫১ দফায় বলা হয়েছে, কোনো কর্মী অনুমোদিত ফান্ড থেকে আড়াই কোটি টাকা পর্যন্ত গ্র্যাচুইটি পেলে তাকে কোনো কর দিতে হবে না। তবে যে ব্যাংক হিসাবে গ্র্যাচুইটির টাকা রাখা হয়, এনবিআর থেকে তার অনুমোদন নিতে হবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে। পাশাপাশি বার্ষিক রিটার্নে তহবিলের লেনদেন আলাদা করে দেখাতে হবে। তা না হলে গ্র্যাচুইটির টাকার ওপর ২৫ শতাংশ কর দিতে হবে।

একইভাবে পেনশনের ক্ষেত্রেও তহবিলের অনুমোদন নিতে হবে। না হলে পেনশনের টাকার ওপরও কর বসবে।

এসব তহবিল পরিচালনা করে থাকে মালিকপক্ষ। অভিযোগ আছে, অনেক সময় প্রতিষ্ঠানের মালিকরা টাকা তুলে ভিন্ন খাতে খরচ করেন। এতে তহবিলের স্বচ্ছতা থাকে না। তাই অনুমোদন নেয়া বাধ্যতামূলক করেছে এনবিআর।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকারের এ সিদ্ধান্তে বেশি বিপাকে পড়বেন যারা গত এক বছরে পেনশন-গ্রাচুইটি তুলেছেন তারা। প্রতিষ্ঠানের ফান্ডের অনুমোদন না থাকলে কর দিতে হবে তাদের। এ সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলকও বলছেন বিশ্লেষকরা। তাদের অভিযোগ, পেনশন ও গ্রাচুইটি ফান্ড গঠন করা হয় শ্রম আইনের আওতায়। সেখানেই অনুমোদন নেয়ার বিধান নেই।

এনবিআরের কর্মকর্তারা জানান, পেনশন বা গ্র্যাচুইটি তহবিলে এনবিআরের অনুমোদন থাকলে একদিকে কর ছাড় পাবেন কর্মীরা, অন্যদিকে তহবিল পরিচালনায় বাড়বে নজরদারি। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলতে রাজি হোন নি তারা।