বিনা প্রশ্নে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ থাকছে ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে

প্রকাশিত: ১০:৩৯ পূর্বাহ্ণ, জুন ১০, ২০২০

বিশ্বব্যাংক গত সোমবার পূর্বাভাস দিয়েছে, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ১ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে আসতে পারে। আর তাই দেশের স্বার্থে অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে আসন্ন বাজেটে। এ জন্য বিপর্যস্ত পুঁজিবাজারকে চাঙ্গা এবং কর্মসংস্থান ঠিক রাখতে আবাসন খাতসহ সব শিল্পেই বিনা প্রশ্নে কালো টাকা (অপ্রদর্শিত অর্থ) বিনিয়োগের সুযোগ থাকছে ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে। তবে এসব ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ হারে জরিমানা দেওয়ার বিধান বহাল থাকবে বলে জানা গেছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ড. আব্দুল মজিদ বলেন, দেশের বর্তমান ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতিকে জাগ্রত করতে কালো টাকা ও পাচার করা অর্থ ফিরিয়ে আনতে হবে। সরকারের ব্যয় নির্বাহের জন্য এই টাকা খুব প্রয়োজন। কালো টাকা বিনিয়োগের জন্য সরকারকে নীতিমালা করতে হবে। কালো টাকা অর্থনীতিতে ফিরিয়ে আনা গেলে বিদ্যমান সংকট কাটানো সম্ভব হবে।

ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই’র সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম বলেন, অপ্রদর্শিত অর্থ বলতে যারা বৈধপথে আয় করেছে; কিন্তু কোনো কারণে কর পরিশোধ করেননি। ওইসব অর্থ বিনিয়োগের পক্ষে আমরা। এই সুযোগ থাকলে দেশে বিনিয়োগ বাড়বে। অর্থ পাচার কমবে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক রকিবুর রহমান বলেন, অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সেক্টর ঠিক করে দেওয়া ঠিক হবে না। সবাইকে সব সেক্টরেই বিনিয়োগের সুযোগ দিতে হবে। যা অর্থনীতিকে গতিশীল করবে।

চলমান বাজেটে তিনটি উপায়ে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ আছে। এগুলো হলো-আবাসন, অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাইটেক পার্কে বিনিয়োগে। পাঁচ বছরের জন্য এ সুযোগ দিয়েছে সরকার। জানা যায়, দুদক ও এনবিআর’র নানা হয়রাণির কারণে এখন পর্যন্ত কেউ এই সুযোগটি গ্রহণ করেনি। তবে বাজেটে যেকোনো সংস্থার প্রশ্ন করার এখতিয়ার রহিত করতে যাচ্ছে সরকার। সূত্রমতে, বাজেটে আয়কর খাতে বেশকিছু পরিবর্তন আনা হচ্ছে। বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কালো টাকা অর্থনীতির মূলধারায় আনতে নানা সুযোগ দেয়া হচ্ছে। শর্ত সাপেক্ষে ১০ শতাংশ কর দিয়ে শেয়ার, স্টক, মিউচ্যুয়াল ফান্ড, বন্ড, ডিভেঞ্চারে বিনিয়োগ করতে পারবেন যে কেউ। এছাড়া অপ্রদর্শিত স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি, নগদ টাকা, ব্যাংক আমানত, সঞ্চয়পত্র রিটার্ন প্রদর্শনের মাধ্যমে বৈধ করার সুযোগ দেয়া হয়েছে। জমি-ফ্ল্যাটের ক্ষেত্রে এলাকাভেদে বর্গমিটারপ্রতি নির্দিষ্ট হারে কর দিয়ে বৈধ করা যাবে।

আবাসন খাতের ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাবের সভাপতি আলমগীর সামসুল আলামিন (কাজল) বলেন, অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ বর্তমানেও আছে। তবে দুদকের প্রশ্নের সুযোগ থাকছে বলে যেভাবে আসার কথা সেভাবে আসছে না। দেশের এই ক্রান্তিকালে অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে বিনা শর্তে বা বিনা প্রশ্নে এই অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হলে ব্যাপক বিনিয়োগের সুযোগ আসবে। এতে প্রায় ৫০ লাখ শ্রমিক-কর্মচারীর বেকারত্ব দূর হবে। নতুন কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে এবং বেসরকারি বিনিয়োগে গতি ফিরবে।

আগামী বাজেটে অপ্রদর্শিত অর্থ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া যেতে পারে বলে মনে করেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ প্রফেসর আবু আহমেদ। তিনি বলেছেন, বৈশ্বিক মহামারির কারণে পুঁজিবাজারে লেনদেনে স্থবিরতা দেখা গেছে। ২০ থেকে ৩০ বছর আগেও ১০০ কোটি টাকা চেয়ে অনেক বেশি লেনদেন হয়েছে। বর্তমানে লেনদেন ৫০ কোটি টাকাও হচ্ছে। অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দিলে অনেকেই এই সময়ে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করবেন। বাজারে কিছুটা তারল্য বাড়বে। অতীতেও দুইবার অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আশানুরূপ কিছু দেখা যায়নি। তবে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে কর্পোরেট কর কমানোর কোনো বিকল্প নেই। বাজেটে করপোরেট কর কমানোর হলে ভালো কোম্পানিগুলো তালিকাভুক্তিতে আগ্রহী হবে।।