বিদ্যুতের দাম কমানোর দাবি তুলেছে ক্যাব

প্রকাশিত: ১:৫১ অপরাহ্ণ, জুন ২২, ২০২০

বছর বছর বিদ্যুৎ খাতে অযৌক্তিক ব্যয় বাড়ছে, আর পাল্লা দিয়ে বাড়ছে লোকসানও। গেলো ৮ বছরে এই খাতে লোকসান হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা। আর ক্যাপাসিটি চার্জের নামে এই টাকার পুরোটাই চলে গেছে বেসরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মালিকদের পকেটে। ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাব বলছে, অপ্রয়োজনীয় সব ব্যয় ছেঁটে ফেললে এখনই বিদ্যুতের দাম কমানো সম্ভব।

ক্যাপটিভ পাওয়ার এবং সৌরবিদ্যুৎ বাদ দিলে, বাংলাদেশে এখন বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রকৃত সক্ষমতা ২০ হাজার মেগাওয়াট। গেলো শনিবারের সরকারি হিসাব বলছে, ওইদিন সন্ধ্যায় বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা ছিলো ১০ হাজার ৩৩ মেগওয়াট। অর্থাৎ সক্ষমতার অর্ধেকই বসে ছিলো।

করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকেই বিদ্যুতের চাহিদা কমে গেছে। বসিয়ে রেখেই ভাড়া দিতে হচ্ছে এমন কেন্দ্রের সংখ্যা আগের চেয়ে বেশি। আর তেল চালিত যেসব কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ এখনো নিতে হচ্চে তার দামও অনেক চড়া। যদিও এখন আন্তর্জাতিক বাজারে বিদ্যুতে কেন্দ্রে ব্যবহৃত জ্বালানির দাম কমে গেছে অনেকখানি। এমন পরিস্তিতেও লোকসান থামার কোনও ইঙ্গিত নেই।

বরং সর্বশেষ অর্থবছরেও বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড- পিডিবি ঋণ করেছে ৯ হাজার ২শো কোটি টাকা। ঋণের টাকার টাকার সবই যচ্ছে ক্যাপাসিটি চার্জে। সর্বশেষ অর্থবছরেও ক্যাপাসিটি চার্জ হতে পারে ৮ হাজার কোটি টাকা। এসব ছাড়াও বহু অপ্রয়োজনীয় খরচ লোকসান বড় করছে। এসব বাদ দিলে বিদ্যুতের দাম কমানোর সম্ভব এখন।

ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা ড. এম শামসুল আলম বলেন, ‘গ্যাসে ১২ হাজার কোটি টাকা এবং বিদ্যুতে ১০ হাজার কোটি টাকা শাস্রয় করা সম্ভব ছিলো। আমাদের তেল ভিত্তিক বিদ্যৎ কেনার কোনো প্রয়োজন নেই। পাঁচ টাকা ষাট বা চৌষট্টি পয়সা দামের বিদ্যুৎ গড়ে যেটা পড়ে, তেল ভিত্তিক বিদ্যুৎ সেখানে আমাদের কিনতে হয় ১৮ থেকে ২০ টাকা দরে। ২২ টাকা, ২৭ টাকা, এমনকি ৩০ টাকা দরেও কিনতে হয়।

বিদ্যুতের দাম কমানোর জন্য সম্প্রতি বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন বিইআরসি-তে ১৩ দফা দাবি দিয়ে চিঠি দিয়েছে ভোক্তা অধিকার সংগঠন-ক্যাব। এসব দাবির ব্যাপারে বিইআরসি নিরুত্তর। আর নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাওয়ার সেল বলছে, এই মুহুর্তে দাম কমানোর পরিস্থিতি নেই।

পাওয়ার সেল মহাপরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ হোসাইন বলেন, ‘বাইরে থেকে অনেক কিছুই বোঝা যায় না। ভেতরে ঢুকলেই প্রকৃত অবস্থা বুঝা যায়। আমাদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয় নি।’

করোনাকালের লোকসান সামাল দিতে সরকারের কাছে ১৫ হাজার কোটি টাকার বিনা সুদের ঋণ চেয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।