বাংলাদেশের ‘অনির্বাচিত সরকার’ হাঁটছে উল্টো দিকে: রিজভী

প্রকাশিত: ৬:০০ অপরাহ্ণ, জুন ১৪, ২০২০

প্রস্তাবিত বাজেটে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ব্যয়বৃদ্ধির প্রস্তাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রুহুল কবির রিজভী।

রোববার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনের দলীয় কার্যালয় থেকে এক ভার্চুয়াল সংবাদ ব্রিফিংয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘করোনা-উত্তর অর্থনৈতিক মন্দাকে কাটাতে বিভিন্ন দেশে সরকারি ব্যয় সংকোচনের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। বিভিন্ন দেশের প্রেসিডেন্ট-প্রধানমন্ত্রী নিজেদের ব্যয় কমিয়ে দৃষ্টান্ত করার চেষ্টা করেছেন। পক্ষান্তরে বাংলাদেশের ‘অনির্বাচিত সরকার’ হাঁটছে উল্টো দিকে। এই করোনাভাইরাসের সংকটের মধ্যেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সরকারি অফিসের ব্যয় বাড়িয়েছেন ৯৫ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটে প্রধানমন্ত্রীর অফিসের খরচের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩ হাজার ৮৩৮ কোটি টাকা। গত বছর ৩ হাজার ৭৪৩ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার পর ব্যাপক সমালোচনা হলেও সরকার এতে কর্ণপাত করেনি।

করোনা পরিস্থিতিতে হাসপাতালগুলো আইসিইউ ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, রাজধানীতে কোনো হাসপাতালেই আইসিইউ বেড খালি নেই, কোনো কোনো বেসরকারি হাসপাতালে করোনার ওয়ার্ড খুললেও আইসিইউ বেড ও চিকিৎসার জন্য গলাকাটা দাম নিচ্ছে।

বিনাচিকিৎসা করোনা রোগীরা মারা যাচ্ছেন, অভিযোগ করে তিনি বলেন, তিন মাসে করোনা উপসর্গ নিয়ে অসংখ্য মানুষের মৃত্যু হয়েছে– যাদের মধ্যে সিংহভাগ মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসা পান নি। বেঁচে থাকাবস্থায় নমুনা পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হতে পারেন নি তারা করোনা আক্রান্ত কিনা।

করোনা পরিস্থিতি ভয়ানক হয়ে উঠছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের সীমিত টেস্টের লুকোচুরি করা ফলেও শনাক্তের ৯৮তম দিনে এসে আক্রান্তের সংখ্যায় চীনকে ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশ। মুখে ‘লকডাউন’ কাগজে-কলমে ‘সাধারণ ছুটি’, আবার কখনও কখনও কথিত ‘রেড জোন’, ‘ইয়েলো জোন’, ‘গ্রিন জোন’— এভাবে সরকারের একেকবার একেক ধরনের কথা পুরো পরিস্থিতিকে আরও ভঙ্গুর ও জটিল করে তুলেছে।

রিজভী আরও বলেন, ‘অপ্রিয় বাস্তবতা হলো— সরকার নিজেও পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পারছে না, কারও পরামর্শ কিংবা সহায়তাও নিচ্ছে না। কেউ সুপরামর্শ দিলে বা সহযোগিতা করতে চাইলে তাদের কটাক্ষ করা মজ্জাগত হয়ে গেছে ক্ষমতাসীন মন্ত্রী-নেতাদের। দেশের মানুষের জীবন নিয়ে সরকারের এ ধরনের হেয়ালিপূর্ণ আচরণ মেনে নেয়া যায় না।’