বদলির জন্য ‘তদবির কালচারকে’ চিরতরে বিদায় করতে চাই: আইজিপি

প্রকাশিত: ১০:৩১ অপরাহ্ণ, জুলাই ৪, ২০২০

বাস্তবসম্মত বদলি ও পদায়ন নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়‌নের মাধ্যমে পুলিশ বাহিনীতে বদলির জন্য ‘তদবির কালচারকে’ চিরতরে বিদায় করতে চান আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদ। তিনি মনে করেন- অধিকাংশ পুলিশ অফিসার এবং সদস্য সন্তানদের লেখাপড়ার সুবিধার কথা বিবেচনা করে ঢাকার বাইরে যেতে চান না। এ সংকট নিরসনের লক্ষ্যে ঢাকার বাইরে বিভাগীয় শহরে মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপনের উদ্যোগের কথাও জানান আইজিপি। এছাড়া বিভাগীয় পর্যা‌য়ে পু‌লি‌শের চাক‌রি‌কে আকর্ষণীয় কর‌তে বিভাগীয় শহরগু‌লো‌তে পু‌লিশ সদস্য‌দের জন্য মানসম্মত চি‌কিৎসা সু‌বিধা নি‌শ্চিত করারও প্রত্যয় ব্যক্ত ক‌রেন বেনজীর আহমেদ।

শনিবার বিকালে রাজারবাগে বাংলাদেশ পুলিশ অডিটরিয়ামে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) আয়োজিত বিশেষ অপরাধ ও আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় আইজিপি এসব কথা বলেন। ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ডিএমপির সব থানার ওসিসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আইজিপি বলেন- করোনার সময়ে গত তিন মাসে পুলিশ বদলে গিয়েছে। পুলিশ জনগণের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে। জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থন ও বিশ্বাস অর্জন করেছে। করোনায় পুলিশ জনগণের পাশে গিয়ে যেভাবে সেবা দিয়েছে, এর বেশিরভাগই পুলিশের কাজ ছিলো না। এজন্য পুলিশকে বলাও হয় নি। নির্দেশও দেওয়া হয় নি। কিন্তু পুলিশ এ কাজটি করেছে একান্তই নিজের দায়িত্ববোধ থেকে।

তিনি বলেন- স্বাধীনতা যুদ্ধের পর পুলিশ এত সম্মান, এত মর্যাদা আর কখনও পায় নি। করোনার এই তিন মাসে তা পেয়েছে। এখন জনগণ পুলিশের পক্ষে কথা বলছে। পুলিশের জন্য লিখছে। যারা কথায় কথায় পুলিশের সমালোচনা করতেন, তারাও আজ পুলিশের পক্ষে হৃদয় উজাড় করে বলছেন, পুলিশকে সমর্থন করেছেন। যে সম্মান-মর্যাদা আমরা গত তিন মাসে পেয়েছি তা টাকা দিয়ে কেনা যায় না। মানুষের ভালোবাসা পেতে হলে মানুষের সঙ্গে থাকতে হয়, তাদের কাছে যেতে হয়, মানুষকে ভালোবাসতে হয়।

আইজিপি বলেন- একদিন করোনা চলে যাবে। এরপর কী হবে? আমরা কি আবারও আমাদের আগের স্বরূপে আবির্ভূত হবো? বাংলাদেশ পুলিশ আর পেছনে ফিরে যাবে না। জনগণের সম্মান ও ভালোবাসা নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে।

আইজিপি বলেন- জনগণের পুলিশ হতে হলে দুর্নীতিমুক্ত হতে হবে। পুলিশে দুর্নীতিবাজের কোনও ঠাঁই নেই। মাদকের সঙ্গে কোনও পুলিশ সদস্যের সম্পর্ক থাকবে না। পুলিশকে হতে হবে মাদকমুক্ত। পুলিশের নিষ্ঠুরতা বন্ধ করে আইনি সক্ষমতাকে কাজে লাগাতে হবে। পুলিশকে যেতে হবে জনগণের দোরগোড়ায়।