ঢাকা, বুধবার ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই আশ্বিন, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ | ১৪ই সফর, ১৪৪৩ হিজরি

ফ্যাভিপিরা প্রয়োগে ৯৬ শতাংশ রোগী করোনামুক্ত, দাবি বিকনের


প্রকাশিত: ৯:০৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ৮, ২০২০

করোনা আক্রান্ত রোগীদের ওপর পরিচালিত ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে ৯৬ শতাংশ রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ৫০ জন রোগীর ওপর দুই মাস ‘ফ্যাভিপিরা’ ওষুধ ট্রায়ালে ৯৬ শতাংশ রোগী সুস্থ হয়েছে, এমনটাই দাবি করেছে বিকন ফার্মা। তবে, জটিল রোগী বা অন্তঃসত্ত্বা নারীদের এই ওষুধ দেয়া হয় নি। ওষুধটির কার্যকারিতা পরীক্ষার্থে ‘ঢাকা ট্রায়াল’ নামে ৫০ দিনের ট্রায়াল অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকার ৪টি হাসপাতালে পরীক্ষামুলকভাবে এই ওষুধটি করোনা পজেটিভ রোগীদের ওপর প্রয়োগ করা হয়। বুধবার (৮ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই ট্রায়াল নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরে প্রতিষ্ঠানটি।

ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে নেতৃত্ব দেন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ড. আহমেদুল কবির। আর বাংলাদেশ মেডিসিন সোসাইটি-বিএসএম এই ট্রায়াল পরিচালনা করে।

ড. আহমেদুল কবির জানান- করোনা আক্রান্ত রোগীদের ওপর এই ওষুধ প্রয়োগে চারদিনের মাথায় সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৪৮ শতাংশ রোগী। আর ১০ দিনের মাথায় ৯৬ শতাংশ রোগী করোনামুক্ত হয়েছেন। তিনি আরও জানান- ফ্যাভিপিরা ওষুধের সবচেয়ে ভালো দিক হচ্ছে এই ওষুধ গ্রহণে রোগীর লিভার, কিডনি ও রক্তে শর্করার ওপর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয় নি। তবে, যাদের মাঝে করোনার কোনো লক্ষণ নেই তাদের এই ওষুধ প্রয়োগ করার প্রয়োজন নেই বলেও জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।

বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিনের সভাপতি প্রফেসর ড. বিলাল আলম বলেন- ‘আমরা ঢাকা ট্রায়ালে করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসায় এই ওষুধ ব্যবহারে সন্তুষ্ট।’

strong>এ ওষুধ ব্যবহার করা সম্পর্কে অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ বলেন- ‘যেহেতু করোনার সুনির্দিষ্ট কোনো ওষুধ আসে নি সে হিসেবে ফ্যাভিপিরাভির ব্যবহার করা যেতে পারে, আমি কিছু রোগীর ওপর প্রয়োগ করেছি, কার্যকর মনে হয়েছে। তবে শুধু ৫০ জনের ট্রায়ালে ভরসা করা মুশকিল। কোনোভাবেই এ ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বিক্রি ও প্রয়োগ করা ঠিক হবে না।’

বিকন ফার্মার উৎপাদিত ওষুধের নাম ফ্যাভিপিরা। এর জেনেরিক নাম ফ্যাভিপিরাভির। গেলো এপ্রিলে ওষুধটি নিয়ে আসে বিকন ফার্মা। করোনা রোগীদের জন্য ঢাকার নির্ধারিত ৪টি হাসপাতালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত এমন ৫০ জন রোগীকে এ ট্রায়ালের অর্ন্তভুক্ত করা হয়।

সেমিনারে জানানো হয়- করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে ওষুধটি কার্যকর কিনা তা জানার জন্যই বাংলাদেশে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পরিচালনা করা হয়। ওষুধ প্রশাসন ও বাংলাদেশ মেডিক্যাল রিসার্চ কাউন্সিলের নিয়ম মেনেই এই ট্রায়াল পরিচালনা করা হয়।