ফের বাড়ছে করোনা সংক্রমণ

প্রকাশিত: ২:১৮ অপরাহ্ণ, জুন ২৫, ২০২০

করোনা সংক্রমণ বেশ কিছুদিন ধরে কিছুটা কমের দিকে থাকলেও হঠাৎ করেই বেড়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে।

রাজধানী সিউলে করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের বিষয়টি এরই মধ্যে নিশ্চিত করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। এছাড়া চীন, জার্মানি, নিউজিল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়াতেও সম্প্রতি সংক্রমণ বেড়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ যখন করোনার তাণ্ডবে নাস্তানাবুদ ছিলো, ঠিক তখনই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করে বিশ্বে উদাহরণ হয়েছিলো দক্ষিণ কোরিয়া। গেলো ফেব্রুয়ারিতে চীনের উহানের বাইরে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয় দেশটিতে। পরে গণহারে নমুনা পরীক্ষা এবং কন্টাক্ট ট্রেসিংয়ের মাধ্যমে এপ্রিল মাস নাগাদ প্রতিদিন আক্রান্তের সংখ্যা ১০ এর নিচে নামিয়ে আনা হয়। কিন্তু মে মাসের দিকে লকডাউন শিথিলের পর আবারও বেড়ে যায় সংক্রমণ, যা এখনও অব্যাহত আছে।

টানা ৫০ দিন করোনামুক্ত থাকার পর চলতি মাসের মাঝামাঝি সময়ে স্থানীয় একটি বাজার থেকে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে। গত এক সপ্তাহে অন্তত ১৩৭ জন শনাক্ত হয়। এ ঘটনার জেরে বেশকিছু এলাকায় নতুন করে লকডাউন জারি হয়।

করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় জার্মানির গ্যুটার্সলো ও ওয়ারেনডর্ফ শহরে আবারও লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। গ্যুটার্সলোর একটি মাংস প্রক্রিয়াকরণ প্ল্যান্টের ১৫শ’র বেশি কর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়।

গত কয়েকদিনে সংক্রমণ বেড়েছে পর্তুগালের লিসবন এবং স্পেনের তিনটি অঞ্চলেও।

আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের করোনামুক্ত ঘোষণার পর গত সপ্তাহে নিউজিল্যান্ডে নতুন করে দুজন করোনা আক্রান্ত শনাক্ত হোন। গত এক সপ্তাহে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ১৩ জন।

গত এক মাসে করোনায় প্রথম মৃত্যু হয়েছে অস্ট্রেলিয়ায়। সম্প্রতি সংক্রমণ বেড়েছে অস্ট্রেলিয়াতেও। দেশটির ভিক্টোরিয়া রাজ্যের মেলবোর্ন শহরে গত এক সপ্তাহে শতাধিক শনাক্ত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে আরও এক মাস।

নতুন দফার এসব সংক্রমণকে এখন পর্যন্ত দ্বিতীয় ঢেউ বলে ঘোষণা দিয়েছে একমাত্র দক্ষিণ কোরিয়াই। তবে অন্য দেশগুলো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায় নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে কি-না তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা না গেলেও, সামনের কয়েক মাসে তা অনিবার্য।