প্লাজমা নিয়ে প্রতারণা, দাতা সেজে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে সংঘবদ্ধ চক্র

প্রকাশিত: ১২:২৪ অপরাহ্ণ, জুন ২৬, ২০২০

দেশে করোনা পরিস্থিতির মধ্যে নকল সুরক্ষা সামগ্রীর ব্যবসা নিয়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। এবার প্রতারক চক্র মাঠে নেমেছে প্লাজমা দানকারী হিসেবে।

করোনা আক্রান্ত মুমূর্ষু রোগীর স্বজনরা যখন হন্য হয়ে প্লাজমার সন্ধান করছেন, তখন একটি প্রতারক চক্র প্লাজমাদাতা সেজে তাদের কাছে কৌশলে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।

কোভিড নাইন্টিনে আক্রান্ত হয়ে মূমুর্ষ অবস্থায় রুশলান শাহ আদিবের মা ফারজানা ইয়াসমিন। শেষ ভরসা হিসেবে চিকিৎসকরা পরামর্শ দেন প্লাজমা থেরাপি দিতে। ফেসবুকে বি নেগেটিভ প্লাজমা চেয়ে পোস্ট দেয়ার পর প্রতারক চক্র প্লাজমা দেয়ার নিশ্চয়তা দেয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী বলেন, আমি টাকা দিয়েছি কিন্তু প্লাজমাটা পাই নাই, তাকে কল করেছি সে নাম্বার বন্ধ করে রেখেছে। প্রতারণার শিকার ভুক্তভোগীর মাকে শেষ পর্যন্ত বাঁচানো যায় নি।

প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত স্বজনদের জন্য প্লাজমা চেয়ে আবেদন করেন। এসব মানবিক আবেদনের পোস্ট দেখেই প্রতারকরা ওইসব নম্বরে প্লাজমা দাতা সেজে যোগাযোগ করে কৌশলে খরচের কথা বলে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে অর্থ পাঠাতে বলেন।

অনুসন্ধানে প্রতারক চক্রের প্রায় ২৫টি নম্বর হাতে আসে। যেসব নম্বর থেকে নানা কায়দায় কোভিড নাইন্টিনে আক্রান্ত মূমুর্ষ রোগীর স্বজনদের কাছে অর্থ চাওয়া হয়েছে।

প্লাজমা থেরাপি নিয়ে গঠিত সরকারের কারিগরি কমিটি বলছে নীতিমালা না থাকায় প্রতারকরা সুযোগ পাচ্ছে।

প্লাজমা থেরাপি সংক্রান্ত কারিগরি কমিটি প্রধান অধ্যাপক ডাক্তার মহিউদ্দিন আহমেদ খান বলেন, এটা তখনি হবে যখন আমাদের দেশে কোনো নীতিমালা থাকবে না কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকবে না তখনি এটা হতে পারে। যখন প্লাজমা দানকারী কম থাকবে চাহিদা বেশি হবে এবং যখন কোনো পরিকল্পনা থাকবে না তখন এটা হবে।

ভুক্তভোগীরা বলছেন, প্রতারক চক্রের সদস্যদের এখনই খুঁজে বের না করলে নিকট ভবিষ্যতে প্লাজমা নিয়ে প্রতারণা আরও বাড়বে।।