পুরান ঢাকার সাকরাইন উৎসব

আমজাদ হোসাইন

প্রকাশিত: ১০:৪৪ অপরাহ্ণ, মে ২৩, ২০২০
ছবিঃ সংগৃহীত

বিনোদন, চিত্তবিনোদন বা মনোরঞ্জন এমন এক ধরনের কাজ যা দর্শক, শ্রোতা বা স্বয়ং কর্তার আকর্ষণ কিংবা আগ্রহের বিষয় এবং যা তাদের আনন্দ প্রদান করে। বিনোদন কোন দক্ষতা প্রদর্শনী, খেলাধুলা, উৎসব বা যেকোন কাজ হতে পারে ৷ কিন্তু হাজার বছর ধরে দর্শক বা শ্রোতা আগ্রহ ধরে রেখেছে এমন কাজ হতে হবে। যদিও মানুষের বিভিন্ন বিষয়ে আগ্রহ থাকে, কারণ বিনোদনে মানুষের ভিন্ন ভিন্ন পছন্দ থাকে, এবং বেশির ভাগই স্বীকৃত ও পরিচিত। এমনই এক বিনোদনের নাম সাকরাইন বা ঘুড়ি উৎসব ৷

পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী সাকরাইন উৎসবকে পৌষ সংক্রান্তি বা ঘুড়ি উৎসবও বলা হয় ৷ পঞ্জিকা অনুযায়ী পৌষ মাসের শেষ দিনে এই সাকরাইন উৎসব আয়োজন করা হয়। তবে বাংলা ক্যালেন্ডার ও পঞ্জিকা তারিখের সঙ্গে কিছুটা পার্থক্যের কারণে প্রতিবছর দুদিনব্যাপী এই উৎসবটি পালন করেন পুরান ঢাকা বাসিন্দারা ৷

উৎসবে অংশ নেন সব ধর্মের সব বয়সী মানুষ ৷ বহু বছর ধরে পুরান ঢাকায় সাড়ম্বরে পালিত হয়ে আসছে সাকরাইন উৎসব। এই উৎসবকে মাথায় রেখে টানা এক সপ্তাহ পুরান ঢাকার রাস্তাগুলোর অধিকাংশ গলিতে আর খোলা ছাদে হয় সুতা মাঞ্জা দেওয়ার ধুম । রোদে সুতা শুকানোর কাজও চলে পুরোদমে।

সাকরাইন উৎসবে পুরান ঢাকার আকাশ থাকে ঘুড়িওয়ালাদের দখলে। তবে সময়ের সাথে সাথে উৎসবের ধরন অনেকটা বদলে গেছে ৷ ঘুড়ি উড়ানো ছাড়াও উৎসবের সন্ধ্যায় প্রত্যেকটি ছাদ থেকে ওড়ানো হয় ফানুশ, পোড়ানো হয় আতশবাজি ৷

শুধু যে পুরান ঢাকার ছেলেমেয়েরা এই উৎসবের প্রতীক্ষায় থাকে তা নয়, অন্যান্য এলাকার মানুষের মধ্যেও যে এই উৎসব নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ কাজ করে তা সাকরাইন উৎসবে গেলেই দেখতে পাওয়া যায়। প্রতি বছর অনেক মানুষ ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে পুরান ঢাকার সাকরাইন উৎসব দেখতে আসেন। অনেকের কাছে এটা ঈদের মতোই আনন্দের একটি উৎসব ৷

আবার অনেকের মতে, ‘সাকরাইন শব্দ দূষণের উৎসব’ ৷ এই উৎসব আনন্দের হলেও গানবাজনার শব্দের জন্য অনেকের বিরক্তির কারণ ৷ প্রতিটি বাড়ির ছাদে উচ্চ শব্দে গান বাজানোর ফলে পড়ালেখা, ঘুম ও ইবাদতে বিঘ্নতা সৃষ্টি হয় ৷ তাই গত কয়েক বছর ধরে স্থায়ী প্রশাসন উচ্চ আওয়াজে মিউজিক বাজানোর উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ৷

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী “ব্রিটিশ আমল থেকে  এই উৎসবটি চলে আসছে এবং এখনও বাংলাদেশের মানুষ বিশেষ করে পুরান ঢাকার বাসিন্দারা পালন করেন।উৎসবের কায়দা আগের মতো আছে বলেই মনে করেন তারা। অনেকে সাকরাইন উৎসবকে ঘিরে নস্টালজিকও হয়ে পড়েন। ছোটবেলার রঙবেরঙের ঘুড়ি উড়ানোর স্মৃতিকে বাস্তব করতেই তারা প্রতিবছর এই সময়টাতে ছুটে যান পুরান ঢাকার এই ঐতিহ্যবাসী উৎসবে।