পিপিই কীভাবে খুলবে-পরবে এটাই ডাক্তার-নার্সরা জানতো না: সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রকাশিত: ১০:৩৭ অপরাহ্ণ, জুন ৩০, ২০২০

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন- ডাক্তার-নার্সদের করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার কারণ, পিপিই কীভাবে খুলতে হবে, পরতে হবে— এ বিষয়টি তাদের জানা ছিলো না। এ বিষয়ে তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার পর এখন আক্রান্তের হার কমে এসেছে।

আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে ২০২০-২১ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে মঞ্জুরি প্রস্তাবের ওপর ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধীদলের সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন সমালোচনার জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ কথা জানান।

এ সময় স্পিকার ড.শিরীন শারমিন চৌধুরী সংসদে সভাপতিত্ব করেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন- সম্প্রতি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ডাক্তার ও নার্সদের থাকা-খাওয়ার বিলে যে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে তাও সঠিক নয়।

চীনে কোভিড-১৯ শুরু হওয়ার পর থেকেই আমরা বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া শুরু করেছি। বন্দরগুলোতে স্ক্যানের ব্যবস্থা করেছি। অন্য কোনো দেশ তখনো এটা করতে পারে নি। আমরাই প্রথম এটা করেছি। চায়না থেকে লোক দেশে এলে আমরা তাদর কোয়ারেন্টিনে রাখার ব্যবস্থা করেছি।

জাহিদ মালেক আরও বলেন- আমরা কাজ করছি না এই অভিযোগ ঠিক না। পেশেন্ট গাইড, লিফলেট, ব্যানার করেছি। প্রতিদিন প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। মানুষকে করোনা সম্পর্কে সচেতন করেছি।’ তিনি আরও বলেন- ‘ডাক্তার নার্সরা প্রথমে আক্রান্ত হয়েছেন কারণ তারা পিপিই কীভাবে খুলতে হবে পরতে হবে এ বিষয়টি জানা ছিলো না। তাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছি। তাই আক্রান্তের হার কমেছে।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন- এই করোনা ভাইরাসের ৮০ শতাংশ উপসর্গ বোঝা যায় না। ১৫ শতাংশের উপসর্গ মাইল্ড। আমাদের দেশে মুত্যুর হার কম, ১ দশমিক ৩৬ শতাংশ। এই মুত্যুর হার এমনি কম না, আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি তাই মৃত্যুর হার কম।

‘আমাদের একটি টেস্ট ল্যাব ছিলো। দেড় মাসে আমরা ৬৮টি ল্যাব করেছি। কোটি কোটি মানুষকে তো আর টেস্ট করতে পারবো না। দেশে ৪০০ ভেন্টিলেটর রয়েছে। কাজে লাগে মাত্র ৫০টি। সাড়ে ৩০০টি পড়ে থাকে।

যারা ভেন্টিলেশনে যান দেখা গেছে তারাই মারা গেছেন। কোনো হাসপাতালে সেবা পাচ্ছে না— এমন কোনো বিষয় সঠিক নয়। আমাদের ১৪ হাজার বেড আছে, রোগী আছে চার হাজার। মানুষ যদি সচেতন হয়, মাস্ক পরে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখে তাহলে সংক্রমণ কমে যাবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন- ‘আমরা কিছু করিনি, এটা ঠিক না। বসুন্ধরা হাসপাতাল বানালাম কীভাবে। মাত্র ২৫ দিনে দুই হাজার বেডের হাসপাতাল বানিয়েছি। আমরা কোথাও যাই নি এটা ঠিক নয়।’

জাহিদ মালেক বলেন- বিএনপির সংসদ সদস্য স্বাস্থ্য বিভাগের কথা বলছেন, কিন্তু বিএনপির আমলে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিলো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলে আবার সেগুলো চালু করা হয়েছে। সারাদেশে হাসপতালে আরও ২৫ হাজার বেড বাড়ানো হয়েছে। আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি, সবার সহযোগিতা চাই।