‘পার্সেন্টেজ’ এর প্রস্তাবে আপোষহীন ডিএমপি কমিশনার

প্রকাশিত: ৩:১০ পূর্বাহ্ণ, জুন ৭, ২০২০

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলামকে পুলিশের কেনাকাটায় ‘পার্সেন্টেজ’ দেয়ার প্রস্তাব করেছেন তারই অধীনস্থ যুগ্ম কমিশনার মো. ইমাম হোসেন৷ তবে শফিকুল আপোষ না করে আইজিপিকে অবহিত করার মাধ্যমে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছেন।

গত ৩০ মে ডিএমপি সদর দফতরের প্যাডে আইজিপিকে এক চিঠি দেন ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল। চিঠির স্মারক নং- ডিএমপি (সঃদঃ)/প্রশাসন/এ-৫১-২০২০/১০০৮।

আইজিপিকে পাঠানো চিঠিতে তিনি বলেছেন, ‘‘ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (লজিস্টিকস) ইমাম হোসেন একজন দুর্নীতিপরায়ণ কর্মকর্তা৷ ডিএমপির বিভিন্ন কেনাকাটায় তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আছে৷ তদুপরি তিনি ডিএমপির কেনাকাটায় স্বয়ং পুলিশ কমিশনারের নিকট পার্সেন্টেজ গ্রহণের প্রস্তাব উপস্থাপন করেছেন৷ ফলে ওই কর্মকর্তাকে ডিএমপিতে কর্মরত রাখা সমীচিন নয় মর্মে প্রতীয়মান হয়েছে৷”

তিনি চিঠিতে যুগ্ম কমিশনার ইমাম হোসেনকে ডিএমপি থেকে বদলি এবং তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করেন৷

এ নিয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি একবারে অভ্যন্তরীণ বিষয়। তবে অফিসিয়াল গোপনীয় এই প্রতিবেদন কীভাবে মিডিয়ার কাছে গেছে, সে ব্যাপারে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। কমিটি দেখবে কীভাবে এই অফিসিয়াল সিক্রেট আউট হয়েছে।

তবে অপরদিকে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা ইমাম হোসেনও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অপরাগতা প্রকাশ করেন৷ তবে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) মো. সোহেল রানা জানান, ‘‘প্রতিটি প্রতিষ্ঠানেরই নানা রকম অ্যাডমিনিষ্ট্রেটিভ ইস্যুজ থাকে৷ এসকল ইস্যুজ যথাযথ অ্যাডমিনিষ্ট্রেটিভ এবং প্রফেশনাল ওয়েতেই অ্যাড্রেস করা হয়ে থাকে৷ যে বিষয়টি উঠে এসেছে এটিও একটি অ্যাডমিনিষ্ট্রেটিভ ইস্যু৷ এবং এখনো কোনো করেসপন্ডেন্স পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে এসে পৌঁছায়নি৷ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে এ বিষয়টি পৌঁছানোর পরে এবং রিসিভ হওয়ার পরে অবশ্যই যথাযথ গুরুত্বের সাথে এবং যথা নিয়মে এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে৷’’ সিদ্ধান্ত এখন আইজিপির হাতে।

উল্লেখ্য, ইমাম হোসেন ২০১২ সালে ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের ডিসি হিসেবে যোগ দেন। পরবর্তী সময়ে ডিএমপির ডিসি-অর্থ ও ডিসি-লজিস্টিকস পদে দায়িত্ব পালন করেন।